Islamic Article Archive

Recent News

View News Archive

Recent Articles

ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে রোজার স্থান তৃতীয়। পৃথিবীর সকল ধর্মে কম-বেশি রোজার প্রচলক আছে। প্রতি বছর আমাদের মাঝে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে উপস্থিত হয় পবিত্র মাহে রমজান। উদ্দেশ্য আমরা যেন আমাদের মনের সকল লোভ-লালসা, কামনা, বাসনা, শঠতা, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করে উন্নত চরিত্র অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। সাথে সাথে দেহ-মনকে পুত ও পবিত্র, সুস্থ ও সবল রেখে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারি। রোজা এমন একটি ইবাদত যা কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রাখা হয়। তাই রোজা স্বভাবতই বান্দাকে আল্লাহর ধ্যান ও স্মরণের দিকে নিয়ে যায়। তাই রোজার অনুশীলন ব্যক্তির অন্তরে প্রশান্তি, তৃপ্তি এবং ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণের আশার এক অনুপম অনুভূতি সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয় বর্তমানে অনেক দুরারোগ্য রো যেমনঃ হৃদরোগ, চর্ম রোগ, বাত, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলকায় রোগী, জ্বর, শ্বাসকষ্ট রোগ ইত্যাদি নিরাময়ে রোজা রাখার উপদেশ দেয়া হচ্ছে। রোজা এই সমস্ত রোগের কষ্ট দূর করে।
পৃথিবীতে জীবনযাপনের জন্য প্রতিটি মানুষকে জীবিকার অম্বেষণ করতে হয়। সে জীবিকা অর্জন অবশ্যই আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশিত পন্থা-পদ্ধতিতে হওয়া জরুরি। নচেৎ এ ব্যবসায়-বাণিজ্য ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। রাসূল (সা•) নিজে ব্যবসা করতেন এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের সদস্যসহ অনেক সাহাবিও ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা ব্যবসাকে জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি ইবাদতের মাধ্যমও মনে করতেন।
পিতা-মাতার মতো এই পৃথিবীতে আপনজন আর কেউই নেই। পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পর পিতামাতাই সন্তানের কাছে অধিক শ্রদ্ধেয়। মহান স্রষ্টা আমাদের সৃষ্টি করেছেন সীমাহীন অনুগ্রহ ও দয়া দিয়ে। তাই আমাদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা এবং তাঁর ইবাদত করা। এরপর যাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করা উচিত তারা হলেন পিতা-মাতা।
ধর্মের দোহাই দিয়ে অতিলৌকিক বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বাড়ছিল। বেড়ে যাচ্ছিল সরল-দুর্বলচিত্ত সমস্যা ভারাক্রান্ত মানুষের সঙ্গে ভন্ডামি ও প্রতারণা। এভাবে টাকাকড়ি ও সম্ভ্রম লুটের ঘটনা খোদ রাজধানীতেও ঘটেছে বহু। সম্প্রতি ভন্ডামিপুর্ণ এই অতিলৌকিক বাণিজ্যের আস্তানায় হানা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। লেবাসের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে শঠ-প্রতারকদের কুৎসিত চেহারা। যেহেতু এসব ভন্ডামির সঙ্গে ধর্মকে একাকার করে ফেলা হচ্ছিল, তাই এসব বিষয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে বিশিষ্ট তিনজন ইসলামী চিন্তাবিদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন শরীফ মুহাম্মদ
নিশ্চয়ই আমি কোরআন বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে আমারই আদেশে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আমিই আপনার পাগলকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ ফেরেশতা পাঠিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বাজ্ঞ। -সূরা দোখান, আয়াতঃ ৩-৬
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, খাদ্য বেশি খেলে জীবনের দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়। শুধু খাওয়ার মধ্যে থাকলে দেহযন্ত্রটি বিশ্রাম পায় না। ফলে নানা রকম জটিল রোগে ত্রুটি দেখা দেয়। দেহযন্ত্রটি সচল রাখার জন্য অবশ্যই সার্ভিসিং করা এবং রেস্ট দেয়ার প্রয়োজন হয়
রমজান শব্দটির মূল ধাতু হচ্ছে ‘রাম্‌জ’ অর্থাৎ দাহন। আরবি বর্ষপঞ্জির এটি নবম মাস। রমজানের সাধনার দাহনে ভক্ত সাধকদের সব পাপ-পঙ্কিলতা পুড়ে ছাই হয়ে যায়, আত্মার কালিমা দূর হয়, মুমিনের হৃদয়ে ঔজ্জ্বল্য আসে, তাই মাসটির নাম রমজান। পবিত্র কুরআনে একে কুরআন নাজিলের মাস বলা হয়েছে। ‘শাহরু রামাজানাল্লাজি উন্‌জিলা ফিহিল কুরআন।’ (বাকারাঃ ১৮৫)
শারীরিক বিন্যাস এবং গঠনশৈলী স্থিতিশীল রাখতে প্রতিটি ধর্মেই উপবাস প্রথা রয়েছে। অন্য ধর্মের উপবাস প্রথা আর ইসলাম ধর্মের রোজা এক নয়। ইসলাম শান্তি ও মানব কল্যাণের ধর্ম। এ ধর্মের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। মানব জাতির আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মোন্নতির এক ঐতিহাসিক খোদায়ী ব্যবস্থা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সিঁড়ি হচ্ছে রোজা। মহান আল্লাহ রমজানুল মুবারককে নিজের মাস হিসেবে এবং রোজাদারের পুরস্কার তিনি স্বয়ং দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ইসলামের মূল পাঁচটি রুকনের মধ্যে তৃতীয় রুকন হলো রোজা। রোজা শব্দটি ফারসি যার আরবি প্রতিশব্দ হলো সাওম। সাওমের আভিধানিক অর্থ থেমে যাওয়া, বিরত থাকা বা বিরত রাখা। ইসলামি শরিয়তে সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে কোনো কিছু পানাহার, পাপাচার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম বা রোজা। শুধু অনাহারে দিনযাপনের নাম সিয়াম নয়। শুধু উপবাসে স্বাস্থ্যগত কিছু উপকার হলেও হতে পারে, কিন্তু নৈতিক ও আত্মিক উন্নতির মুখ দেখা যেতে পারে না।
রোজা অসৎ প্রবৃত্তির মুখে ছিপি এঁটে দেয় এবং এর সব গলিপথ বন্ধ করে দেয়। রোজা এক দিকে অন্যায়-অনাচার ও অসততাকে নিষিদ্ধ করে দেয়, অপর দিকে দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে বাধ্য করে দেহের পাশবিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এভাবে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে অসৎ প্রবৃত্তি দুর্বল ও পরাজিত হয় এবং সৎ প্রবৃত্তি প্রবল ও বিকশিত হয়। দীর্ঘ সময় এ অনুশীলনের ফলে রোজাদার ব্যক্তি অন্যায়, অসৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে সৎ ও সুন্দর মানুষে পরিণত হতে পারে।
No articles found.


No popular authors found.
No popular articles found.