Islamic Article Archive

Recent News

View News Archive

Recent Articles

স্বাবলম্বী হওয়াকেই মূলত স্বনির্ভতা বলে। সে-ই একজন সুখী মানুষ যে নিজের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম। সাংসারিক ব্যয়, সন্তানের শিক্ষাদীক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক প্রয়োজনাদি মিটিয়ে একজন গৃহস্বামী যদি সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারে তবেই সে পার্থিবজীবনে একজন সুখী মানুষ। আর আল্লাহর কাছেও প্রিয় বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবে যদি জীবনের সব কিছুকে সে ইবাদতের নিয়তে আল্লাহর বিধানানুযায়ী সম্পন্ন করতে পারে।
মুসলিম সমাজে জুমার খুতবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জুমার সালাত সাপ্তাহিক হওয়ায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে লোকজন এতে উপস্থিত হন। জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ অভিহিত করা হয়। এ দিনটিতে দু’টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। এক. সালাতুল জুমা, দুই. খুতবাতুল জুমা। সালাত সাধারণ নিয়মে আদায় করতে হয় বলে এতে ইমামের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার খুব একটা মূল্যায়ন করা হয় না। কিন্তু খোতবা বা ভাষণ সময়োপযোগী ও তথ্যপূর্ণ হওয়া চাই। এ বিবেচনা থেকেই জুমার খতিব হিসেবে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা করা হয়।
আবু দাউদ শরিফ ও তিরমিযি শরিফে রেওয়ায়েতকৃত হাদিসে রাসূল সাঃ-এর ও জিবরাঈলের মধ্যে নামাজের সময় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা এভাবে দেয়া হয়েছে­ হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, ‘হজরত জিবরাঈল আঃ বায়তুল্লাহ শরিফের সন্নিকটে দু’দিন দু’দফা ইমামতি করে আমাকে নিয়ে নামাজ পড়েন। প্রথম দিন তিনি আমাকে নিয়ে জোহরের নামাজ সূর্য হেলে যাওয়ার অব্যবহিত পরেই পড়েন। তিনি আমাকে নিয়ে আসর এক ছায়া হতেই পড়েন। মাগরিবের নামাজ তিনি আমাকে নিয়ে রোজাদারের ইফতারের সময় পড়েন। এশার নামাজ তিনি আমাকে নিয়ে শাফাফ বা সান্ধ্য আলোর অব্যবহিত পরেই পড়েন এবং তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামাজ পড়েন যখন রোজাদারের ওপর পানাহার হারাম হয়ে যায়। পরের দিন তিনি আমাকে নিয়ে ছায়া এক মিছ্‌ল হলে জোহরের নামাজ পড়েন। ছায়া দুই মিছ্‌ল হলে পর তিনি আমাকে নিয়ে আসরের নামাজ পড়েন। রোজাদার যখন ইফতার করে ফেলেন তখন তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়েন। আমাকে নিয়ে তিনি এশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশের সময় পড়েন। তারপর তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামাজ পড়েন এমন সময় যখন এসফার, অর্থাৎ আলো হয়ে গেছে। তারপর তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন, ‘হে মুহাম্মদ সাঃ এ হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের আঃ নামাজের সময়। নামাজগুলোর সময় হচ্ছে এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী কাল।’
ইসলাম একটি জীবনব্যবস্থা। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ইসলামী জীবনব্যবস্থা একটি সামষ্টিক ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠেছে। ইসলামী জীবনব্যবস্থার ব্যবস্থাপনাও সামষ্টিক এবং সমন্বিত সামাজিক ব্যবস্থা (Social System), পারিবারি ব্যবস্থা (Family System), নৈতিক ব্যবস্থা (Moral System), অর্থনৈতিক ব্যবস্থা (Economic System) ইত্যাদি সব ব্যবস্থা এ সামষ্টিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী বিধিবিধানের প্রাচুর্যে ইসলামী জীবনব্যবস্থা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের এটি একটি বৈশিষ্ট্য। এ দিক বিবেচনায় ইসলাম অনন্য বৈশিষ্ট্যের দাবিদার।
কোনো কিছু করা বা না করার লিখিত বা মৌখিক অঙ্গীকারকে প্রতিশ্রুতি বলা হয়। আর এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- কথা দেওয়া, অঙ্গীকার করা, প্রতিজ্ঞা করা, মুচলেকা, ওয়াদা, আমানত ইত্যাদি। পৃথিবীতে মানুষ একাকী চলতে পারে না। জীবনের নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য তার অপরের সাহায্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এই সাহায্য ও সহযোগিতা আপনা-আপনি হয় না। এজন্য তাকে নগদ কিছু দিতে হয়, অথবা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করতে হয়। কিছু নিতে হলে, কিছু দিতে হয়। এভাবে দেওয়া-নেওয়ার প্রতিজ্ঞা চলছে মানব জীবন ও এর গতি প্রবাহ। এই দেয়া নেয়ার প্রতিজ্ঞা চলছে মানুষের পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রসহ সর্বত্র।
অন্যান্য সামাজিক ব্যাধির ন্যায় আত্মহত্যাও একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি সমাজে ব্যাপকভাবে দেখা না গেলেও মাঝে মাঝে সংঘটিত হতে দেখা যায়। অনেকে মনে করে যে, এটি কেবল অজ্ঞ ও অশিক্ষিত লোকের মাঝে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে তা প্রমাণিত নয়। দেখা যায়, অনেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীও এ থেকে মুক্ত নয়। ঢাকার সব দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশ, গত ২৪ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব উচ্চ শিক্ষিত ডক্টর তৌফিক খান মজলিস সিলিংফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যের কারণে। উল্লেখ্য, শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ছাড়াও আত্মহত্যা যেমন যুবক ও প্রৌঢ়দের মধ্যে দেখা যায়, তেমনি তা নারী-পুরুষের মাঝেও দেখা যায়।
পৃথিবীতে বৃহৎ মানব জাতি সৃষ্টি পর্যন্ত আল্লাহ তা’য়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ছিলেন হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (রাঃ)। তাদের সন্তানদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট মানব কারা? অবশ্যই নবী-রাসূলগণ। তারা তাদের নিজ নিজ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোৎকৃষ্ট মানব। কোনো যুগের সেরা আদম সন্তানের উপরই আল্লাহ তা’য়ালা নবুওতের এবং রেসালতের সম্মান ও দায়িত্ব অর্পণ করেন। নবী রাসূলগণ যেহেতু মানব জাতির সেরা, তাদের আমলও ছিল সর্বোত্তম।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো কাদেরিয়া ত্বরিকার প্রতিষ্ঠাতা বড় পীর হজরত মুহীউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ওফাত দিবস। হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস্‌সানি আধ্যাত্মিক জগতের এ মহান কৃতী পুরুষ ওফাতপ্রাপ্ত হন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি তাই বেশ তাৎপর্যবহ।
কাজের মর্যাদা মানেই ব্যক্তির মর্যাদা, শ্রমের মর্যাদা মানেই শ্রমিকের মর্যাদা এবং দেশ ও দশের মর্যাদা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে মেধা ও শ্রমের বিকল্প নেই। কাজেই শ্রমজীবী, কর্মমুখী মানুষের যেমন মর্যাদা, সম্মানবোধ রয়েছে- তেমনি তাদেরও রয়েছে দায়িত্ব, কর্তব্য, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ পরিপূর্ণ করা।
নারী-পুরুষের ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তি পাওয়ার, ন্যায্য অধিকার পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আল্লাহপাকের পবিত্র কালাম ও রাসূলে (স·)-এর নির্দেশিত জীবন বিধান। সুতরাং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি সদস্য যখন বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র জাতির প্রচলিত নারী অধিকার নিয়ে পর্যালোচনা করবে, তখন বিশ্বমানবতার শান্তির দূত ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার মহানায়ক হজরত মুহাম্মদ (স·)-এর মতো সেও বলবে- ‘নারীর ওপর পুরুষের যেমন অধিকার রয়েছে, পুরুষের ওপরও নারীর তেমন অধিকার রয়েছে।’
No articles found.


No popular authors found.
No popular articles found.