- Home
- দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
- মহানবীর (সাঃ) সংস্কৃতিবোধ
- Home
- জীবন ও কর্ম
- নবী ও রাসুল
- মহানবীর (সাঃ) সংস্কৃতিবোধ
মহানবীর (সাঃ) সংস্কৃতিবোধ
- By Article Poster
- Published 03/24/2008
- দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
- Unrated
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সাঃ)-কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতির জন্য কল্যাণ ও সর্বোত্তম আদর্শ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর দ্বীন প্রচারক হিসাবে তিনি ছিলেন মুসলমানদের এবং বিশ্বের সকল মানবের আদর্শ। কিন্তু পিতা হিসাবে, স্বামী হিসাবে, সুরুচিশীল ও সংস্কৃতিবান মানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন ধর্ম ও মত নির্বিশেষে ইয়াহুদ, নাসারা, কাফির, পৌত্তলিক-সকলেরই আদর্শ। তাঁর ব্যবহার, আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, কথা-বার্তা, চাল-চলন যে কোন রুচিশীল এবং সুন্দর জীবন যাপনে আগ্রহী ইয়াহুদ-নাসারা-কাফিররা সকলেই অনুকরণীয় ছিল।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সার্বজনীন আদর্শঃ আজকাল যেমন আমরা মুসলমান হয়েও পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলনে, সংস্কৃতিতে হিন্দু বা খ্রীষ্টানদের অনুকরণ করতে চাই, রাসুল (সাঃ)-এর সময় ইয়াহুদী-নাসারা-পৌত্তলিক আরবগণ আমাদের রাসূল (সাঃ) কে রুচি, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য চেতনার মাপকাঠি হিসাবে ধরে নিয়েছিলেন।
দুঃখের বিষয়, নামায-রোজার ব্যাপারে আমাদের উলামা-ই-কিরাম, ইমাম সাহেবান, ইসলামী চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীগণ রাসূলের (সাঃ) আদর্শ মানুষের সম্মুখে তুলে ধরতে যতটুকু সচেষ্ট, ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় নবীকে রুচিশীল ও সংস্কৃতিবান শিক্ষিত সমাজের সম্মুখে তুলে ধরতে ঠিক ততটুকু অমনোযোগী। ফলে, ধর্ম বিশ্বাসী মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ভাষা ও সংস্কৃতিতে আমাদের অনেকে হিন্দু, খ্রীষ্টান এবং পাশ্চাত্যের অনুসারী।
ভাষা সম্বন্ধে রাসূল (সাঃ)-এর আদর্শ আমাদের সম্মুখে কি? হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে আল্লাহ শিশুকাল থেকে নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
রাসূল (সাঃ) এমন কথা বলতেন না, যা তিনি নিজে করতেন না। কিন্তু এই সাধারণ নীতির ব্যতিক্রম ছিল একটি মাত্র ক্ষেত্রে, তা হলো স্বাক্ষরতা অর্জন।
জ্ঞানের অনুপ্রেরণাঃ বদর যুদ্ধের এক-একজন বন্দীর মুক্তির শর্ত এই ছিল যে, তারা অন্ততঃ একজন নিরক্ষর মুসলিমকে লিখতে ও পড়তে শেখাবেন। জ্ঞান অর্জনের উৎসাহ দিয়ে যত নির্দেশ বিশ্বনবী (সাঃ) জারি করেছেন, দুনিয়ার অন্য কোন ধর্মনেতা তা করেননি। কিন্তু, তিনি নিজে নিরক্ষর বা উম্মী ছিলেন। এ এক রহস্য। তাই ছিল আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা।
হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শিক্ষক ছিলেন আল্লাহ তায়ালার স্বয়ং নিজে। আল্লাহর সৃষ্টি ছিল তাঁর পাঠের উপকরণ। তিনি আল্লাহর সৃষ্টি দেখতেন, নিরীক্ষা করতেন, গভীরভাবে চিন্তা করতেন।
আল্লাহ ব্যতীত রাসূলের (সাঃ) অন্য কোন শিক্ষক থাকবে, তা আল্লাহর অভিপ্রেত ছিল না। যিনি হবেন মানবতার শিক্ষক, তাঁকে হতে হবে ত্রম্নটিশূন্য। মানুষের মধ্যে এমন কোন শিক্ষক হতে পারেন না, যিনি ত্রম্নটিহীন।
আমাদের নবীর পুত্র ছিল, কন্যা ছিল, সহযোগী ছিল, শত্রম্ন ছিল। কিন্তু কোন শিক্ষক ছিল না। রাসূলকে উম্মী বা নিরক্ষর রাখার হাকীকত আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাঃ) কে নিরক্ষর (উম্মী) নবী বলে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি নিরক্ষর থাকুন-এটাই ছিল আল্লাহর ইচ্ছা। এই উম্মী, নিরক্ষর নবীর ভাষা জ্ঞান কেমন ছিল?
যুগনায়কঃ যুগের সবচেয়ে আধুনিক, প্রগতিশীল এবং সমকালীন শিক্ষক শ্রেণী অপেক্ষা উন্নততর হওয়া নবীদের সুন্নাত। আল্লাহর নবিগণ ছিলেন নিজ নিজ যুগের সবচেয়ে প্রগতিশীল এবং আধুনিক মানুষ। তা না হলে অন্যেরা তাদেরকে আদর্শ এবং অনুকরণীয় হিসাবে গ্রহণ করবে কেন? আল্লাহ নবীদেরকে ঐসব গুণে বিভূষিত করেই পাঠিয়েছেন, যে গুণাবলীতে সে যামানার লোকেরা অধিকতর উৎকর্ষ লাভ করেছিল।
হযরত দাউদ (আঃ)-এর যুগে জনগণের মধ্যে গান বাজনার চর্চা হতো খুব বেশি। সে এলাকার মধ্যে অভাব অনটন ছিল না। তাঁরা অবসর সময় গান-বাজনার চর্চা করতেন এবং সুর-সাগরে আকণ্ঠ নিমগ্ন থাকতেন।
দাউদ (আঃ) কে আল্লাহ এমন সন্দর কণ্ঠ এবং মধুর সুর দিয়ে পাঠালেন যে তিনি যখন আল্লাহর কালাম পাঠ করতেন এবং লোকদেরকে আল্লাহর পথে আহ্বান করতেন, তখন শুধু মানুষ কেন, জমিনের জীব-জন্তু ভিড় জমাতো, আকাশে উড়া পাখিও নেমে আসতো।
ব্যাবিলন, এশিরিয়া, লিডিয়া প্রভৃতি অঞ্চলের লোকেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করে অত্যধিক ধনশালী হয়ে উঠেছিল। ভূমধ্য সাগর এবং আরব সাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় সামুদ্রিক জাহাজ শিল্প ছিল খুবই উন্নত। আল্লাহ হযরত নূহ (আঃ)-কে প্রদান করেন মানব ইতিহাসের বৃহত্তম জাহাজ তৈরির জ্ঞান।
কারুণের অর্থ সম্পদ তো উপকথায় পরিণত হয়েছিল। নেবুচাঁদ নযর, ফিরাউন, সাদ্দাদ, নমরুদের অর্থ-সম্পদ এবং রাজ-ক্ষমতার প্রতি মানুষ ছিল বিমুগ্ধ এবং হতবাক। আল্লাহ হযরত সুলায়মান (আঃ) কে পাঠালেন মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ঐশ্বর্যশালী সম্রাট করে।
হযরত মুসা (আঃ)-এর যুগে মিসরীয়রা যাদুবিদ্যায় ছিল অত্যধিক পারদর্শী। যাদুর মধ্যে সর্বপ্রধান এবং সবচেয়ে ভীতিপ্রদ যাদু ছিল সাপ বানানো। মুসা (আঃ)-কে আল্লাহ দিলেন লাঠিকে সাপ বানানোর ক্ষমতা।
হযরত ঈসা (আঃ) এর যুগে গ্রীক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্র ছিল বিশ্বে অতি উন্নত। ইউনানী বা গ্রীক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভাব শুধু সে যুগে নয়, এ বিংশ শতাব্দীতে আমাদের দেশেও অনুভূত এবং সুস্পষ্ট। রোগ নিরাময় করার মাধ্যমেই ছিল সে যুগের জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম বিকাশ। তাই আল্লাহ ঈসা (আঃ) কে দিলেন হাতের স্পর্শে অন্ধকে দৃষ্টিদানের ক্ষমতা। খঞ্জকে পদদান, কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময়, এমনকি মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা।
আরবদের ভাষণের উৎকর্ষতাঃ রাসূল করীম (সাঃ)-এর যুগে আরবে ভাষা এবং কবিতা উৎকর্ষ লাভ করেছিল। আরবী ভাষায় এক-একটি শব্দের যতগুলো প্রতিশব্দ আছে, বিশ্বের অন্য কোন ভাষায় তদ্রুপ নেই। এক ঘোড়া শব্দটিরই শোনা যায় ৯০০ প্রতিশব্দ ছিল।
আরবীয়রা ছিল স্বভাবে কবি। সাবয়া মু’য়াল্লাকা-কালোত্তীর্ণ হয়ে আজও শিল্প-সাহিত্যিকদের বিস্ময় উৎপাদন করে। আরব্য উপন্যাসের কাহিনীর চাইতে চমকপ্রদ কাহিনী বিশ্বের কোন ভাষায় আজও সৃষ্টি হয়নি।
নবী পরিবারের লোকেরা কবি স্বভাবের ছিলেন। নবীর (সাঃ) মৃত্যুতে বিবি আয়েশা (রাঃ) ও বিবি ফাতেমা (রাঃ) এর বিলাপ কালোত্তীর্ণ শোকগাঁথায় পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মচারীকে লেখা হযরত আলীর (রাঃ) এক একটি পত্র শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মের স্বাক্ষর বহন করে।
বিশ্বগ্রন্থ আল কুর’আনঃ আল্লাহর রাসূলের প্রতি নাযিলকৃত গ্রন্থে আল কুরআন শুধুমাত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, আরবী ভাষার উজ্জ্বলতম সাহিত্য।
বিশ্বের আর কোন গ্রন্থ নেই, যা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্ত করা যায় এবং নিয়মিত হয়। ছন্দের মিল থাকলে, ছোট ছেলে-মেয়েদের পক্ষে কোন ছড়া মুখস্ত করা যত সহজ হয়, ছন্দহীন গদ্য অথবা কাব্য মুখস্ত রাখা তত সহজ নয়। ছন্দ-মাধুর্যের জন্যই কুরআন মুখস্ত করা সহজতর হয়েছে।
আরব দেশে বহু খ্রীষ্টান কুরআন তিলাওয়াত করে বা শ্রবণ করে দিনের কর্মসূচি শুরু করে। কারণ, তাতে মানসিক প্রশান্তি আসে। আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি ভক্তি শ্রদ্ধা সহকারে। আরবেরা কিন্তু তা উপভোগ করে। আরব দেশে একাধিক রেডিও ষ্টেশন আছে, যা থেকে সুদীর্ঘ সময়ব্যাপী শুধু কুরআন তিলাওয়াতই প্রচার করা হয়। কায়রোর একটি রেডিও ষ্টেশন হতে দিন রাত শুধু কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, আর কিছু না কিছু লোক তা শুনে।
বাংলা সাহিত্যে কোন কোন কবির সঙ্গীত খুব শ্রুতিমধুর এবং কালজয়ী। এ সঙ্গীত সারাক্ষণ রেডিওতে প্রচার করা হলে লোকজন শুধু সে সঙ্গীত স্রষ্টার প্রতি বিরূপ হবে তা নয়, রেডিও বন্ধ করে দিতে চাইবে।
সূরা আর রহমানের ছন্দ-মাধুর্যের কথা বাদই দেওয়া যাক, সূরা ফাতিহা একজন মুসলমান জীবনে কতবার পাঠ করে? কেউ কি কখনও সূরা ফাতিহা পড়ে ক্লান্ত হয়েছে? বোধহয় না। এর কারণ শুধু যে অন্তর্নিহিত বাণী তা নয়, এতে রয়েছে কাব্যসুধা। এ অমৃতের নেশা কাটে না। এ সূরার বাংলা অনুবাদ হলে অর্থ হয়ত ঠিক থাকতে পারে, কিন্তু কাব্যমাধুর্য কোথায় পাওয়া যাবে?
আল কুরআন দুনিয়ার শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ নয়, কাব্যগ্রন্থও বটে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর আলিমের ভুল ব্যাখ্যা এবং ফতোয়ার ফলে বাংলার মুসলিমগণ থেকে গেছে ভাষা এবং সাহিত্যের প্রতি উদাসীন।
বিশুদ্ধ ভাষী নবী (সাঃ)ঃ কাব্যানুরাগী আরব সমাজে আবিভূêত নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ছিলেন আরবের সবচেয়ে সুন্দর এবং শুদ্ধভাষাী। নবী করীম (সাঃ) শুধু শুদ্ধ ভাষায় নয়, বরং বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। সারা জীবনে তিনি একটি মিথ্যা বাক্যও উচ্চারণ করেননি। আর সারা জীবনে বিশ্বনবী একটি অশুদ্ধ শব্দ অর্থ বা বাক্যও উচ্চারণ করেননি।
শিশুকালেও আমাদের নবী বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। তাঁর বিশুদ্ধ উচ্চারণ শুনে লোকজন আশ্চর্য হতো। জিজ্ঞেস করত, ছেলেটি কোন পরিবারের।
আমাদের মহানবী (সাঃ) কথায়, আচরণে, পোশাকে পবিত্র, পরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ থাকা পছন্দ করতেন। তাঁর জামা-কাপড়ে কোনদিন কেউ কোন দাগ দেখেনি। তাঁর পোশাক তাঁর চরিত্রের ন্যায়ই নিষ্কলঙ্ক ছিল। তাঁর ভাষাও ছিল বিশুদ্ধ এবং উচ্চারণ ছিল সুস্পষ্ট।
তখনকার দিনে কাগজ-পেন্সিল সহজলভ্য ছিল না। এত অসুবিধা সত্ত্বেও রাসূলে করীম (সাঃ) এর বাক্য এমনভাবে উচ্চারিত হতো অথবা বলা হতো যাতে অন্যরা তা লিখে নিতে পারতেন। তিনি দ্রুত বাক্য উচ্চারণ করতেন না। তাঁর কথা বলার ধরণ এমন ছিল যে, প্রতিটি বাক্য অথবা শব্দ নয়, প্রতিটি অক্ষর অন্যরা বুঝতে পারতেন। আরবীতে ‘আইন’ ‘হামযার’ মধ্যে পার্থক্য আছে। পুরো বাক্যের মধ্যে কোন অক্ষরটা উচ্চারিত হচ্ছে, তা শ্রোতারা স্পষ্ট ধরতে পারতেন। অর্ধেক কথা মুখের ভিতরে বাকী অর্ধেক মুখের বাইরে এভাবে কথা মহানবী (সাঃ) বলতেন না। কথা বলার উদ্দেশ্য অন্যের কানে তা পৌঁছিয়ে দেয়া। কথা বলার সময় আস্তে কথা বলা হলে অন্যের বুঝতে কষ্ট হয়। অন্যকে কষ্ট দেয়া অসুন্দর আচরণ এবং বেয়াদবি।
ইলমুল কিরাত (উচ্চারণ বিজ্ঞান) বা মাখরিজ অক্ষরের উৎস বিজ্ঞান আমরা কিভাবে পেলাম? আরবী ধ্বনি বিজ্ঞান অতি উন্নত। এর উৎস কি? এর উৎস হলো সুন্নাগ। কারণ রাসূল (সাঃ) শুদ্ধভাবে কথা বলতেন। স্পষ্ট উচ্চারণ করতেন।
শুদ্ধভাষার সুন্নাহঃ আমাদের নবী (সাঃ) তাঁর মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে বলতেন এবং সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন। মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে ভলা আমাদের নবীর (সাঃ) সুন্নাত। দাড়ি না রাখলে একটা সুন্নাতের বরখেলাপ করা হল। অনুরূপভাবে একটি অশুদ্ধ শব্দ এবং বাক্য উচ্চারণ করলাম। সুন্নাতের একটি খেলাপ করলাম। আমাদের অনেকেই মুখ খুললেই সঙ্গে সঙ্গে সুন্নাতের বরখেলাপ শুরু করি। কেউ কেউ হয়ত বলনে, আরবী অশুদ্ধ বলা সুন্নাতের বরখেলাপ। অন্য ভাষা অশুদ্ধ বলা সুন্নাতের বরখেলাপ নয়। এটা ভুল। আমাদের নবী (সাঃ) ডান হাত দিয়ে খেজুর খেয়েছেন। যদি কেউ বলে যে, বাম হাত দিয়ে খেজুর খাওয়া সুন্নাতের বরখেলাপ, কিন্তু আম আর লিচু বাম হাত দিয়ে খাওয়া সুন্নাতের বরখেলাপ নয়, তা ভুল হবে।
রাসূল (সাঃ) নিজ মাতৃভাষায় একটি অশুদ্ধ বাক্য সারা জীবনে উচ্চারণ করেননি। পরম পরিতাপের বিষয়, লক্ষ লক্ষ উলামা-উল-কিরামের মধ্যে সর্বক্ষণ মাতৃভাষা শুদ্ধ বলেন এরূপ হাজার হাজার আলিম সারা বাংলায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা সুন্নাত। দুঃখের বিষয় আমরা দ্বীনদার মুসলিমগণ অনেকেই এ পবিত্র সুন্নাত পালন করি না। এ অবস্থার নিরসনকল্পে উলামা-ই-কিরাম এবং ইমাম সাহেবানকে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, তাহজিব এবং তমদ্দুন সম্পর্কে অধিকতর উৎসাহী হতে হবে।
দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ মার্চ ২০০৮
এজেডএম শামসুল আলম