Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
http://articles.ourislam.org/articles/110/1/aaa-aaaaaaaaaaa-aa--/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 03/22/2008
 
বিশ্বের মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় জীবনে কিছু মাস ও দিনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেন। এসব ধর্মীয় মাস ও দিনগুলো কোনো না কোনো নবীর পবিত্র জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আরবি মাসসমুহের মধ্যে রবিউল আউয়াল এবং দিনসমুহের মধ্যে ১২ই রবিউল আউয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। ৫৭০ সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ই তারিখে এ ধরায় আগমন করেন সাইয়্যিদুল মুরসালিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, মুক্তির দিশারী গুনাহগার উম্মতের কান্ডারি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। প্রিয় নবী (সা.)-এর জন্ম দিনের উৎসবকে বলা হয় ঈদে মিলাদুন্নবী।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

বিশ্বের মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় জীবনে কিছু মাস ও দিনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেন। এসব ধর্মীয় মাস ও দিনগুলো কোনো না কোনো নবীর পবিত্র জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আরবি মাসসমুহের মধ্যে রবিউল আউয়াল এবং দিনসমুহের মধ্যে ১২ই রবিউল আউয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। ৫৭০ সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ই তারিখে এ ধরায় আগমন করেন সাইয়্যিদুল মুরসালিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, মুক্তির দিশারী গুনাহগার উম্মতের কান্ডারি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। প্রিয় নবী (সা.)-এর জন্ম দিনের উৎসবকে বলা হয় ঈদে মিলাদুন্নবী। তার আগমন বিশ্বের সকল জাতি, সকল ধর্ম ও সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তার আগমনের প্রাক্কালে বিশ্ব একটি কঠিন সময় পার করছিল। বিশ্ব মানবতা ছিল চরম বিপর্যস্ত। অতিক্রম করছিল আইয়ামে জাহেলিয়ার মতো একটি বর্বর মানসিকতার অধ্যায়। অত্যাচার অনাচার, ব্যভিচার, মারামারি, হানাহানি, যুদ্ধ বিগ্রহ সমগ্র বিশ্বকে কলুষিত করেছিল। ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্হা ছিল খুবই শোচনীয়, তৌহিদের বাণী ধুলোয় লুণ্ঠিত হয়েছিল শত শত দেবদেবীর চরণে। বিশ্ব মানবতার এই ক্রান্তিলগ্নে এ অসহনীয় দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পথনির্দেশকের প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হচ্ছিল। তখন পৃথিবীতে বিরাজমান সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য মহানবী (সা.)-এর আগমন ছিল প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত। অবশেষে বিশ্বের এ অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্হায় পরিসমাপ্তি ঘটাতে আরবের মরুপ্রান্তরে আগমন করলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর তার আসার মধ্য দিয়ে আল্লাহ পাক পুর্ণ করলেন আমাদের জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া, হে আমাদের প্রতিপালক ‘তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসুল প্রেরণ কর যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমুহ পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন আর তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সুরা-বাকারা-১৩)

মহানবী (সা.)-এর আগমনে ধন্য হলো মানবতা। তারই প্রতি অবতীর্ণ হলো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব পবিত্র আল কুরআন। মাত্র তেইশ বছরের স্বল্প সময়ে পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে গেল। ভৌগোলিক সীমারেখায় এক অভাবনীয় পরিবর্তন দেখা দিল। নুরের আলোয় আলোকিত হলো আরবসহ তথা সারাবিশ্ব, অপসারিত হলো সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড, বইতে শুরু করল সাম্যের সুবাতাস, সঠিক পথের দিশা পেল পথহারা মানুষ। তিনি কুসংস্কারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত মানবতাকে আলোর পথে নিয়ে আসেন। যারা ছিল জুলুম অত্যাচারে অভ্যস্ত, তারা শুধু যে সুবিচারের আদর্শ গ্রহণ করল তাই নয়, বরং সারা বিশ্বের এক বিরাট অংশ তারা এমন আদর্শের বাস্তবায়ন করল। যারা এত দিন জ্ঞানের আলো থেকে অনেক দুরে ছিল, যারা গোমরাহীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। তারা শুধু জ্ঞান অর্জন করল তাই নয় বরং তারা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য যোগ্য শিক্ষকের ভুমিকা পালন করল। এটি নিঃসন্দেহে মানব ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লব। বিপ্লবের মহানায়ক হলেন স্বয়ং রাসুল (সা.) আর এ বিপ্লবের সংবিধান হলো পবিত্র কোরআন। তাই বিশ্ববাসীর কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাস এবং দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও তাৎপর্যমন্ডিত। তার আগমনে যেহেতু মানবজাতি রহমত, বরকত ও নিয়ামত লাভ করেছে, সকল আপদ-বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে তাই এ মাসের এ দিনটিকে ঈদে মিলাদুন্নবী বলে অভিহিত করা হয়।

নবী করীম (সা.) বিশ্ব মানবতার জন্য শান্তি ও মুক্তির বাণী নিয়ে আগমনের পর আবু লাহাবের ক্রিতদাসী সুয়াইবা তাকে সুসংবাদ দিলেন যে, তোমার ভাই আবদুল্লাহর ঔরসে একটা পুত্র সন্তান জন্ম হয়েছে। তা শুনে আবু লাহাব অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং আঙ্গুলের ইশারায় বলল, হে সুয়াইবা! তুমি একটি সুসংবাদ বয়ে নিয়ে এসেছ। যাও আজ থেকে আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবু লাহাব রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানেনি। সে ছিল কট্টরপন্হী কাফির। তার অশুভ পরিণতির কথা পবিত্র কোরআনের একটি সুরায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু তবুও সে আল্লাহর হাবীবের জন্মে খুশি হওয়ার কারণে তার পুরস্কার আল্লাহ পাক দিয়ে দিলেন এভাবে-হযরত আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি, যে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্হায় রয়েছে। আর সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল, তোমাদের নিকট থেকে আমার পর আমি কোনো শাস্তি পাইনি। তবে প্রতি সোমবার দিন আমার শাস্তি কিছুটা লাঘব করা হয়। হযরত আব্বাস (রা.) এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, তা এ জন্য যে হুজুর (সা.) এ পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। আর দাসী সুরাইয়া আবু লাহাবকে তার জন্মের সুসংবাদ দিলে খুশি হয়ে আবু লাহাব তাকে আযাদ করে দিয়েছিলেন।

এজন্যই ঈদে মিলাদুন্নবী হৃদয় গভীরে নবীপ্রেম সুসংহত করার তাগিদ নিয়ে প্রতি বছর আসে, এই আনন্দের দিন আল্লাহর হাবীবের প্রতি হৃদয় উজার করে দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার এক মহা সুযোগ লাভের দিন। রাসুল (সা.)-এর পবিত্র ও সুন্দর জীবনে গুরুত্বপুর্ণ দিন ও মাস পবিত্র রবিউল আউয়ালকে খেয়াল করে আসুন আমরা এই দিন ও এই মাসকে ভক্তি এবং প্রেমের সঙ্গে গ্রহণ করি এবং রাসুলের নির্দেশ আমাদের জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করি। কারণ এতেই রয়েছে পথ ও পাথেয়।

**************************
মো হা ম্ম দ কা ম রু ল ই স লা ম
আমার দেশ, ২১ মার্চ ২০০৮