রুগ্ন ব্যক্তি যদি মাথা দিয়ে ইশারা করে নামাজ আদায়ে সক্ষম না হয়, তবে তিনি নামাজ পড়বেন না। আবার এ অবস্থা যদি একদিন একরাত থেকে বেশি সময় স্থায়ী হয়, তবে নামাজ একেবারে মাফ হয়ে যায়। সুস্থ হওয়ার পর কাজা পড়াও ওয়াজিব নয়, আর এ অবস্থা যদি একদিন একরাত থেকে বেশি স্থায়ী না হয়, বরং একদিন একরাতের মধ্যে আবার ইশারা দ্বারা নামাজ পড়ার শক্তি এসে যায়, তবে ইশারা দ্বারা এ নামাজগুলোর কাজা পড়ে নিতে হবে। আর এ ইচ্ছা করবেন না যে, যখন পূর্ণ সুস্থ হব, তখন কাজা পড়ে নেব। কেননা এ অবস্থায় মৃত্যু হলে গোনাহগার অবস্থায় মৃত্যু হবে।
অনুরূপ কেউ যদি হঠাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়ে এবং একদিন একরাত থেকে বেশি সময় যদি বেহুঁশ অবস্থায় না থাকে, তবে কাজা ওয়াজিব। আর যদি একদিন একরাত থেকে বেশি সময় বেহুঁশ অবস্থায় থাকে, তবে কাজা ওয়াজিব নয়।
কোন ব্যক্তি নামাজ শুরু করার সময় বেশ ভালো সুস্থ অবস্থায় ছিল, কিছু নামাজ পড়ার পর হঠাৎ নামাজের মধ্যেই রগ মচকে এমন ব্যথা আরম্ভ হল যে, উঠে দাঁড়ানোর শক্তি রইল না, তবে অবশিষ্ট নামাজ বসে আদায় করবেন। এমনকি বসে বসে যদি রুকু-সিজদাহ করতে পারেন করবেন নতুবা মাথার ইশারার দ্বারা রুকু-সিজদাহ করে নামাজ পূর্ণ করবেন। তবুও নামাজ ছাড়বেন না। এমনকি যদি বসতেও না পারেন, তবে (পূর্বোক্ত নিয়মে) শুয়ে অবশিষ্ট নামাজ পূর্ণ করবেন।
কোন ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে দাঁড়াতে না পারায় বসে নামাজ পড়ার নিয়ত করল এবং বসে যথারীতি রুকু-সিজদাহ করে কিছু নামাজ পড়ার পর (দাঁড়ানোর মতো) সুস্থ হয়ে গেল, এ অবস্থায় ওই ব্যক্তি অবশিষ্ট নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করবেন। রোগীর বিছানা যদি নাপাক হয়ে যায় এবং বিছানা বদলাতে রোগীর অনেক কষ্ট হয় (বা এতটুকু নড়াচড়ায়ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়) তবে ওই নাপাক বিছানায়ই নামাজ পড়ে নেবেন। ডাক্তার চোখ অপারেশন করেছে নড়াচড়া করতে নিষেধ করেছেন। এ অবস্থায় শুয়ে শুয়ে ইশারায় নামাজ পড়তে থাকবেন।
**************************
আয়েশা সিদ্দিকা
যুগান্তর, ২৮ মার্চ ২০০৮