- Home
- দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
- হুব্বে খোদা ও ইত্তিবায়ে রাসূল
হুব্বে খোদা ও ইত্তিবায়ে রাসূল
- By Article Poster
- Published 03/28/2008
- দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
- Unrated
একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদত, দাসত্ব ও বন্দেগি করা জ্ঞান-বিবেকের, বুদ্ধি ও প্রকৃতির দাবি। মানুষ সৃষ্টি ও প্রতিপালনের ব্যাপারে যাদের কোনই হাত নেই এবং থাকতে পারে না, তাদের ইবাদত-বন্দেগি করা মূর্খতার নামা-র এবং অযৌক্তিক। মানুষ যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর এবাদত-বন্দেগি করা যুক্তি ও বিবেকের দাবি।
সুতরাং এটাই বা-বতা যে, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সত্তাই সর্বশক্তিমান, গোটা বিশ্বজাহানের ব্যবস্থাপক, শাসক, প্রতিপালক, সংরক্ষণকারী, তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তিনিই সব ক্ষমতার একমাত্র অধিপতি।
সমগ্র বিশ্বজগতে দ্বিতীয় এমন কোন সত্তার অস্তিত্ব নেই, যে সত্তা আবেদন শোনার সামান্য যোগ্যতা রাখে বা মঞ্জুর করা বা না করার কোন ক্ষমতা রাখে। কাজেই এবাদত করতে হবে একমাত্র আল্লাহর এবং যে কোন প্রয়োজনে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। দোয়া করতে হবে শুধু তাঁরই কাছে। যেহেতু দোয়া সব ইবাদতের প্রাণ, কাজেই দোয়া, দাসত্ব, আনুগত্য, উপাসনা ও চাওয়া-পাওয়া সবকিছু আল্লাহর থেকে হওয়াই বিবেকের দাবি।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে এরশাদ করেন- ‘ওয়া কালা রাব্বুকুম আদউনি আসতাজিব লাকুম।’ (সূরা মু’মিন-৬০) অর্থাৎ তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাকো আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।
হাদিসে আছে, ‘হজরত রাসূলে কারিম (সা·) বলেন, আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানের জিনিস আর কিছুই নেই।
আল্লাহপাক এরশাদ করেন- হে নবী মুহাম্মদ (সা·)! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের যাবতীয় গোনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ অত্য- ক্ষমাশীল, বড় করুণাময়। (সূরা আল-ইমরান-৩১)
উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে মহানবীর অনুসরণ ও অনুকরণের জন্য এমন দুটি পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন, যা মানব জীবনে অতি প্রয়োজন। যা ছাড়া মানব জীবনের কল্যাণের কোন উপায় নেই। একটি হল আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মহব্বত করবেন, অপরটি হল তার গোনাহ মাফ করে দেবেন। আর এই দুটি প্রাপ্তি আসবে আল্লাহর রাসূলকে (সা·) মহব্বত করার মাধ্যমে।
মহানবী (সা·) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে মহব্বত করল সে যেন আমাকে মহব্বত করল, যে ব্যক্তি আমাকে মহব্বত করল সে যেন বেহেশতে আমারই সান্নিধ্যে থাকবে। (তিরমিজি)
নবী কারিম (সা·) আরও বলেন- যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ক্রাি-লগ্নে আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে, সে একশ’ শহীদের সমতুল্য সওয়াব পাবে। আল্লাহর রা-ায় একবার শহীদ হওয়া কতই না সওয়াবের। সেখানে একশ’ শহীদের মর্তবা কত ঊর্ধ্বে।
আমরা আমাদের জীবন ধারণে সব কাজই করে থাকি। নবীজীও (সা·) এসব কাজ করেছেন। নবীজীর (সা·) কাজের মধ্যে সওয়াব রয়েছে। রাসূলের (সা·) সুন্নত তরিকা আমাদের জানা না থাকায় শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা মহামূল্যবান ইত্তিবায়ে সুন্নত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
আসুন, আমরা উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে রাসূলের সুন্নতগুলো জানি এবং তদনুযায়ী আমল করে জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলি।
নিচে কিছু সুন্নত নিয়ে আলোচনা করা হল-
ঘুম থেকে ওঠার পর উভয় হাত দিয়ে মুখমণ্ডল ও চক্ষু মর্দন করা সুন্নত। জাগ্রত হওয়ার পর তিনবার আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা সুন্নত। জাগ্রত হয়ে দোয়া পড়া সুন্নত।
প্রস্রাব-পায়খানায় প্রবেশের আগে দোয়া পড়া সুন্নত। ঢোকার সময় বাম পা দিয়ে ঢোকা সুন্নত। ডান পা দিয়ে বের হওয়া সুন্নত।
খাওয়ার আগে-পরে দোয়া পড়া সুন্নত। যে কোন কাজ শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা সুন্নত। প্রতিটি মানুষ তার জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ঘুমের মধ্যে কাটিয়ে দেয়। সুতরাং মানুষটি যদি আল্লাহর রাসূলের সুন্নত তরিকা অনুযায়ী ঘুমায় তবে তার এ সময় সওয়াবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। ঘুমের আগে ওজু করে ডান কাত হয়ে ঘুমানো সুন্নত এবং ঘুমের আগে-পরে দোয়া পড়া সুন্নত।
অতএব সব মুসলমান ভাইকে বলব, আল্লাহর মহব্বত ও তাঁর ক্ষমা পেতে হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা জরুরি। তাই আসুন, এই মহিমান্বিত রহমত ও বরকতময় রবিউল আউয়াল মাসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ইত্তিবা করে ইহকালীন ও পরকালীন সুখ লাভ করি।
**************************
মা ও লা না মো হাঃ ও ম র ফা রু ক
যুগান্তর, ২৮ মার্চ ২০০৮