Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
তায়েফে ইসলাম প্রচার
http://articles.ourislam.org/articles/127/1/aaaaaa-aaaaa-aaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 03/28/2008
 
মহানবী (সা·) নবুয়ত প্রাপ্তির পর তাঁর স্বগোত্রীয় লোকদের মাঝে মহান আল্লাহপাকের ঐশী গ্রন্থ আল-কোরআনুল কারিমের শাশ্বত বাণী প্রচার করতে চাইলেন। কিন্’ তাঁর স্বগোত্রীয় লোকেরা তা সহজে মেনে নিতে পারলেন না। তাই মহানবী (সা·) নিজ জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে দূরে তায়েফবাসীর কাছে ইসলামের অমীয় বাণী প্রচারের মনস্থির করেন। পালক পুত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদকে (রা·) সঙ্গে নিয়ে তিনি তায়েফ নগরে গমন করেন।

তায়েফে ইসলাম প্রচার

মহানবী (সা·) নবুয়ত প্রাপ্তির পর তাঁর স্বগোত্রীয় লোকদের মাঝে মহান আল্লাহপাকের ঐশী গ্রন্থ আল-কোরআনুল কারিমের শাশ্বত বাণী প্রচার করতে চাইলেন। কিন্’ তাঁর স্বগোত্রীয় লোকেরা তা সহজে মেনে নিতে পারলেন না। তাই মহানবী (সা·) নিজ জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে দূরে তায়েফবাসীর কাছে ইসলামের অমীয় বাণী প্রচারের মনস্থির করেন। পালক পুত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদকে (রা·) সঙ্গে নিয়ে তিনি তায়েফ নগরে গমন করেন।

তারেফ নগরের সম্ভ্রা- ব্যক্তিবর্গের কাছে মহানবী (সা·) ইসলামের দাওয়াত দেন। মহান আল্লাহর একত্মবাদ এবং হজরত রাসূলুল্লাহ (সা·) আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী, তাঁর কাছেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআনুল কারিমের চির-ন বাণী তথা ওহি নাজিল হয়েছে-  এ কথা প্রচার করতে থাকেন। একথা শুনে তায়েফ নগরের সম্ভ্রা- ব্যক্তিরা বললেন, ‘আপনি যদি সত্যিই নবী হন; তাহলে আপনার ওপর ঈমান আনা জরুরি। আর যদি আপনি মিথ্যা বলেন, তাহলে আপনাকে এমনিতে ছেড়ে দেয়া আমাদের ঠিক হবে না। এই বলে তারা মহানবীর (সা·) সঙ্গে উপহাস, ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে থাকেন। এরপরও রাহমাতুল্লিল আলামিন তথা বিশ্বজগতের শান্তির দূত রাসূল (সা·) তাদের বারবার বোঝাতে চেষ্টা করেন।

কিন্’ তাঁর কথায় তায়েফবাসী কর্ণপাত না করে তাঁর পেছনে এলাকার কতিপয় বখাটে যুবককে লেলিয়ে দেয়। বিপথগামী ওই বখাটে যুবকরা আল্লাহর রাসূলকে লক্ষ্য করে পাথর মেরে সারা শরীর মোবারক রক্তাক্ত করে ফেলে। মহানবীর শরীর থেকে এত রক্ত ঝরে যে, রক্তের প্রবাহে পায়ের জুতার সম্পূর্ণ অংশ ভিজে যায় এবং তা শুকিয়ে মহানবীর (সা·) পা মোবারকের সঙ্গে জুতা আটকে যায়। এতে মহানবীর (সা·) হাঁটতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। পরে বহু কষ্টে তায়েফের বাইরে এক গাছের নিচে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে তিনি বসে পড়েন।

ঠিক ওই সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত জিবরাইল (আ·) দু’জন ফেরেশতা সঙ্গে নিয়ে বিশ্বনবীর (সা·) কাছে হাজির হন। তারা বিশ্বনবীর (সা·) সঙ্গে সালাম বিনিময় করে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি হুকুম করেন এ মুহূর্তে তায়েফবাসীকে তায়েফের দুই পাহাড়ের মাঝে ফেলে ধ্বংস করে দিই।’ জবাবে মহানবী (সা·) বললেন, ‘তায়েফবাসীকে ধ্বংস করো না। হতে পারে তাদের বংশধরদের কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং আমি তাদের ধ্বংস করার অনুমতি দিতে পারি না। আমি তাদের মাফ করে দিলাম।’

এই ছিল বিশ্বজাহানের রহমত, রাহমাতুল্লিল আলামিনের আদর্শ। মহান আল্লাহপাক আমাদের এই মাসকে উছিলা করে বিশ্বনবীর (সা·) প্রতিটি আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন!

**************************
রিয়াজুল ইহসান প্রতীম
যুগান্তর, ২৮ মার্চ ২০০৮