Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
ইসলামে নামকরণের গুরুত্ব
http://articles.ourislam.org/articles/136/1/aaaaaa-aaaaaaaa-aaaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 04/4/2008
 
পরিচয়ের জন্য নাম প্রয়োজন। তাই পৃথিবীতে আল্লাহর সৃষ্টি জীবজন্তু, বস্’ ও মানুষের তৈরি যাবতীয় জিনিসের নাম রয়েছে। মহান আল্লাহপাক সর্বপ্রথম আদমকে নামই শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, অতঃপর তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন। প্রত্যেক নামই বিশেষ অর্থ এবং বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত বহন করে। মহান আল্লাহপাক মানুষের নাম দিয়েছেন আদম ও ইনসান, যা তার পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলামে নামকরণের গুরুত্ব

পরিচয়ের জন্য নাম প্রয়োজন। তাই পৃথিবীতে আল্লাহর সৃষ্টি জীবজন্তু, বস্’ ও মানুষের তৈরি যাবতীয় জিনিসের নাম রয়েছে। মহান আল্লাহপাক সর্বপ্রথম আদমকে নামই শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, অতঃপর তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন। প্রত্যেক নামই বিশেষ অর্থ এবং বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত বহন করে। মহান আল্লাহপাক মানুষের নাম দিয়েছেন আদম ও ইনসান, যা তার পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মানবজীবনে ব্যক্তির নাম ও নামের অর্থ গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ভালো নামের বদৌলতে অনেক সময় মানুষের চরিত্র, চালচলন ও আচার-ব্যবহার হয় উন্নত এবং জীবন হয় সুন্দর। নিজের নামটি সুন্দর ও অর্থবহ হলে কেউ যদি নাম জিজ্ঞেস করে তখন জোরে নামটি বললেও লজ্জাবোধ হয় না। আর নামের অর্থ জিজ্ঞেস করলে যদি অর্থ সুন্দর হয়, তাহলে তা বলতেও মনে আনন্দ পাওয়া যায়। অন্যদিকে খারাপ নাম মানবজীবনে অনেক ক্ষেত্রে বয়ে আনে দুঃখ, দুর্দশা ও অশুভ পরিণতি। নাম অসুন্দর ও খারাপ অর্থের হলে তা কারও কাছে বলতেও নামধারী ব্যক্তি লজ্জাবোধ করেন। হজরত আবু দারদা (রা·) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা·) বলেছেন-  ‘কিয়ামতের দিন তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের নিজের নামে এবং তোমাদের পিতার নামে। অতএব তোমাদের নামগুলো সুন্দর করে রাখ’ (আবু দাউদ ও বায়হাকী)। সুতরাং স-ানের ভালো নাম রাখা প্রত্যেক পিতা-মাতার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে আরবি অর্থসহ পুত্র ও কন্যা স-ানের নাম উল্লেখ করা হল-

পুত্র সন্তানঃ মুহাম্মদ-  প্রশংসিত, প্রশংসার যোগ্য। মাহদী-  সৎ পথপ্রাপ্ত, মুকাররাম-  সম্মানিত, মুহতাসিম-  মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, মামনুন-  কৃতজ্ঞ, ফাহিম-  সূক্ষ্মদর্শী, ফুয়াদ-  অ-র, ফারহান-  আনন্দিত, ফাতিক-  বীরপুরুষ, ফাহাদ-  সিংহ, তাহসিন-  সুন্দর, তারিক-  প্রভাতের তারা, তাহির-  পবিত্র, তাবিব-  বুদ্ধিমান, আবির - সুবাস, আশফাক-  অধিক স্নেহশীল, আবরার-  পুণ্যবান, আসিফ-  যোগ্য ব্যক্তি, আত্তাব-  চরিত্রবান, আছির-  সম্মানিত, আরিফ-  জ্ঞানী, আজহার-  অতি উজ্জ্বল, ইরফান-  মেধা বা প্রজ্ঞা, ইহজাজ-  ভাগ্যবান, জাবির-  প্রভাবশালী, হুসাইন-  সুন্দর, জারিপ-  বুদ্ধিমান, জামিল-  সুন্দর, তানভির-  উজ্জ্বলতা লাভ করা, নাজিম-  উদিয়মান, নাবিল-  উদার, নাফিস-  মূল্যবান, নাইফ-  উন্নত বা মহান।

কন্যা সন্তানের নামঃ আফিফাহ-  পুণ্যবতী বা সতী, আনিকাহ-  রূপসী, শারমিলা-  লজ্জাবতী, আফিয়াত-  পুণ্যবতী, আয়েশাহ-  সৌভাগ্যশালিনী, আনজুম-  তারা, ইসমাত-  সতী, ইবশার-  সুসংবাদ প্রাপ্ত হওয়া, ইশরাত-  সদ্ব্যবহার, আত্বিফ-  স্নিগ্ধ স্বভাবসম্পন্ন, ওয়াফা-আনুগত্য, ওয়াহীদাহ-  অদ্বিতীয় বা তুলনাহীন, ওয়াসামাত-  সৌন্দর্য, কামারুন-  চাঁদ, কাওকাবাত-  সন্ধ্যাতারা, খিফাত-  ভয়, জাবিয়াহ-  হরিণী, জাফনুন-  চোখের পাতা, জিনাত-  সৌন্দর্য, জাকিয়াহ-  নির্মলা বা পাপশূন্য, তাহামীনা-  মূল্যবান, তামান্না তাবসসুম-  প্রত্যাশিত হাসি, তীবাত-  সুগন্ধি, দীবা-  সোনালী, দিফা-  গরম কাপড়, নাবাত-  সবুজ ঘাস, নিশাত-  আনন্দ, আনান-  মেঘ, নাসিতা-  আনন্দিত, নুবাহ-  বুদ্ধিমত্তা, নাওরুন-  কলি, ফারহাতুন-  আনন্দ।

**************************
আবু ইলিয়াস কল্লোল
যুগান্তর, ৪ এপ্রিল ২০০৮