সাধারণতঃ চরিত্রকে আরবী আখলাক শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। আখলাক শব্দটি ‘খুলকুন’ শব্দের বহুবচন। আখলাক শব্দটি আরবী ‘খুল্‌ক’ শব্দ থেকে উৎসারিত। খুল্‌ক শব্দের অর্থ হ’ল মানুষের জন্মগত স্বভাব ও প্রকৃতি। এই শব্দটি জন্মগত স্বভাবের সমার্থবোধক। খাল্‌ক, খুল্‌ক ও খুলুক শব্দ মূলতঃ এক এবং অভিন্ন। তবে ব্যবহারিক দিক থেকে খাল্‌ক শব্দটি কখনও কখনও দৃশ্য বা আকৃতি বুঝাতে ব্যবহ্নত হয়। অপরদিকে খুলুক শব্দটি মূলতঃ বোধ ও অনুভব সংশিস্নষ্ট কিছু বুঝাতে ব্যবহার হয়ে থাকে।

আখলাক-এর মূল শব্দ হিসেবে ব্যবহ্নত খুলুক ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যবহৃত হয়েছে। পর্যালোচনা কালে দেখা যায় যে, খুলুক শব্দের অর্থ কখনও ‘স্বাভাবিক প্রবৃত্তি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কখনও কখনও একে ‘স্বভাব এবং প্রকৃতি’ এবং ‘পূর্ববর্তীদের স্বভাব’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রখ্যাত একজন তাফসীরকারক বলেন, ‘খুলুক হচ্ছে মানুষের মনের অন্তর্নিহিত এমন এক প্রবৃত্তি, যা তাকে তার উপযুক্ত ভাল-মন্দ কাজে উদ্ধুদ্ধ করে।’

ইসলামী চিন্তাবিদগণ খুলুককে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ইব্‌ন জাহিয (মৃ·২৫৫ হি) বলেছেন,“ কোন কোন মানুষের মধ্যে খুলুক থাকে স্বভাবজাত এবং প্রকৃতিগত, আবার কোন কোন মানুষের মধ্যে চেষ্টা সাধনা ছাড়া তা অর্জিত হয় না।” মাওয়ার্দ্দী (মৃঃ ৪৫০ হি·) বলেন, “আখলাক হচ্ছে স্বভাবজাত প্রচ্ছন্ন জিনিস।” মুহাদ্দিসগণ আখলাককে আরো চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে আখলাক হলো এমন মূল্যবোধ যে অনুযায়ী মানুষের আচরণ হওয়া প্রয়োজন।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল ওয়াদুদ মাকরূম বলেছেন, “আখলাক হচ্ছে আচরণের রীতি-নীতির সমষ্টি, যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত ও সংহত করে এবং যাকে চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে মানুষের অনুসরণ করা উচিত।” অপর একজন মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান মাযদানীর মতে আখলাক হচ্ছে ‘মানব মনে প্রোথিত একটি স্থায়ী গুণ, তা স্বভাবসিদ্ধ হোক বা অর্জিত, আচার-আচরণে যার প্রভাব পড়ে।”

ইব্‌ন কাইযিম আখলাককে দু’ভাগে ভাগ করেছেন।
এক· নিন্দনীয় আখলাক, যেমনঃ হিংসা, বিদ্বেষ, পরনিন্দা, অহংকার, নীচতা, হীনতা ইত্যাদি। দুই· উন্নত আখলাক, যেমনঃ বিনয়, উদারতা, দয়া ইত্যাদি। ইব্‌ন তাইমিয়া ঈমানের সাথে আখলাকের সম্পর্কের কথা বলেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তায়ালাকে এমনভাবে ভালবাসতে হবে যা মানুষের মননে প্রভাব বিস্তার করে।

ইসলামের সুবিখ্যাত পন্ডিতগণের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও মতামতের আলোকে আখলাক সম্পর্কে যা জানা যায় সংক্ষেপে সে বিষয়ে এখানে আলোকপাত করা হলো। তাদের বর্ণনানুয়ায়ী আখলাক হচ্ছে আচরণের ক্ষেত্রে ভাল-মন্দের মানদন্ড। আখলাক এমন কিছু যা মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে মানদন্ড নির্ধারণ করে। এ সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে আখলাক মূল্যবোধের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আখলাক এমন জ্ঞান যার দ্বারা অপরের আচরণের বিকৃতি বা অনিষ্ট সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। আখলাক সম্পর্কিত জ্ঞান আচরণকে পরিশীলিত ও পরিমার্জিত করে।

বিভিন্নভাবে আখলাককে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কারোর মতে আখলাক হলো অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সামাজিক মানদন্ড, যা নৈতিকতা সংশিস্নষ্টও বটে। আবার কেউ কেউ বলছেন আখলাক এমন মানদন্ড যার দ্বারা উত্তম-অধম, ভাল-মন্দ, প্রিয়-অপ্রিয়-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। আবার অনেকের মতে আখলাক এমন উপলব্ধি যা মানুষের কর্মপদ্ধতি ও জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে।

ইসলামের দৃষ্টিতে আখলাক হচ্ছে ‘মানবীয় আচরণের সুসংবদ্ধ আচরণের মূলনীতির সমষ্টি। ‘আখলাকের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবনকে সুসংহত করা এবং মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নির্ধারণ করা। সুআচরণের মাধ্যমে একটা কল্যাণকর জীবন পরিগঠন ইসলামী আখলাকের আরেকটি উদ্দেশ্য। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আখলাক হলো এমন কিছু বিধান এবং মানদন্ড যা জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সাহায্য করে, ব্যক্তিকে সমাজের যোগ্যতম সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে এবং যা জীবনের ব্যবহারিক রীতি-নীতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ইসলামী আখলাকের আরো কিছু পরিচয় লক্ষ্য করা যায়। সহজ কথায় ইসলামী আখলাক হলো মুসলমানদের ধর্মীয় বিধি-বিধানের অনুরূপ, আকিদা-বিশ্বাসের কিছু হীতকর নীতি ও বোধ। মুসলমানদের সকল কাজকর্ম, কথাবার্তা এবং পরিচালনা-ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে ইসলামী আখলাকের প্রতিফলন ঘটে। একারণে জীবনের সকল পর্যায়ে ইসলামী আখলাক প্রতিফলনের আবশ্যকতা রয়েছে। কেননা ইসলামী আখলাক ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা সুশৃংখলভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এর ব্যাপক অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত হয়।

ইসলামী আখলাক মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বা স্বকীয়তার সাথে সংঘাত করতে চায় না। মানব প্রকৃতিতে কখনও ধ্বংসও করতে চায় না। বরং মানব প্রকৃতিকে সুশংখল ও সুনিয়ন্ত্রণ করতে চায়। মানুষের সুকুমার বৃত্তি সমূহ বিকশিত করতে গুরুত্ব আরোপ করে। মননশীলতা ও চেতনা শক্তিকে উজ্জীবিত করতে ইসলামী আখলাক আহবান জানায়। সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে সাহায্য করে। আখলাক মানবিকতাকে জাগিয়ে তোলে।

এখন আখলাক প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোকপাত করা যাক। সর্ব প্রথম পবিত্র কুরআন মজিদ ও হাদীসের শাশ্বত শিক্ষার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য আহবান জানানো যায়। এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসাবে নবী করিম (স·) এর জীবনী অনুসরণের জন্য অনুপ্রাণিত করা যায়। কুরআন মজিদ ও হাদীস শরীফে আখলাকের গুরুত্ব, মর্যাদা ও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর প্রতি আগ্রহ ও অনুরুক্তি সৃষ্টির জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যায়। চেতনা বোধ ও অনুভূতি জাগ্রত করেত এ কাজটি সম্পন্ন করা খুব জরুরী। মহানবী (সঃ) এর চরিত্র সর্বোত্তম। তার চরিত্র মাধুর্য কল্যাণের ঐশ্বর্যে ভরপুর।

মানব প্রজন্ম যখন আখলাক হাসানা অর্জনের জন্য পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে এক অভাবিত তাড়না অনুভব করে তখন তার অনুভূতিকে আরো জাগ্রত করতে, তীব্রতর করতে অনুপ্রাণিত করা প্রয়োজন। এতে তার মধ্যে প্রচ্ছন্ন প্রচন্ড গতি সম্পন্ন শক্তির উন্মেষ ঘটবে যা কোন এক পর্যায়ে এক শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। ব্যক্তি এ পর্যায়ে সৎকর্ম পরায়ণ হয়ে উঠবে। আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৎকর্ম পরায়ণ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। ইরশাদ হচ্ছেঃ “তোমারা কল্যাণকর যা কর, সবই আল্লাহ জানেন।” (২ঃ২১৫)

কোন এক পর্যায়ে আখলাকে হাসানা অর্জনকারী ব্যক্তি সমাজে সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে মর্যাদা পেতে থাকবেন। তখন তিনি মানসিক তৃপ্তি অনুভব করতে থাকবেন। তার এই তৃপ্তি বোধকে তখন আরো তীব্রতর করতে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ প্রদান করতে হবে। পরবর্তীতে ব্যক্তির মধ্যে আখলাকে হাসানার অন্তর্ভুক্ত গণাবলী বিকশিত হতে থাকবে।

আখলাক প্রতিষ্ঠা বা বিকাশ সাধনের ক্ষেত্রে উত্তম চরিত্রের অনুসরণ আরেকটি পদ্ধতি। আমরা জানি রাসূল (সঃ) এর চরিত্র হলো ‘উসওয়াতুন হাসানা’। আল্লাহতায়ালা রাসূল চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মজিদে বলছেনঃ “আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত” (৬৮ঃ৪)। অপরদিকে রাসূল (সঃ) বলছেনঃ ” আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।” (আহমাদ)। সুতরাং আমাদের সকলকে রাসূল (সঃ)-এর চরিত্রকে মডেল ধরে তা অনুসরণ করতে হবে।

আমাদের সকলকে আখলাকে হাসানা সর্ম্পকিত অনুশাসন মেনে চলায় অভ্যস্ত হতে হবে। আখলাক বিষয়ক অনুশাসন প্রতিপালনের মাধ্যমে চারিত্রক একটা ভিত্তি তৈরী হয়। আখলাক সম্পর্কিত অনুশাসনের ব্যাপক অনুশীলন ও চর্চা চারিত্রিক গুণাবলী বিকাশে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ মানবজীবনে এর মাধ্যমে শৃংখলাবোধ সৃষ্টি হয়, যা উন্নত চরিত্রের মূল ভিত্তি তৈরী করে। শুধু এটাই না, আখলাক সম্পর্কিত অনুশাসনের ব্যাপক চর্চা ও বাস্তবায়ন ব্যক্তিত্ব বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

ব্যক্তি সত্ত্বা স্বাতন্ত্র্য লাভ করার সাথে ব্যক্তি আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের দিকে ধাবিত হয়। সমাজের সকল মানুষের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। তখন ব্যক্তির স্বকীয়তাপূর্ণ আচরণ ও স্বাতন্ত্র্যবোধ নিজেকে সমাজের নিকট অনুকরণীয় করে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। ব্যক্তির মননে আত্মিক পরিশুদ্ধ পবিত্রতার জন্ম দেয়। ফলস্বরূপ ব্যক্তি দিনে দিনে নির্মল চরিত্রের অধিকারী হয়ে উঠে। তার চরিত্র মাধুর্য কখনও সমাজের অন্যান্যদের নিকট অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্তে পরিণত হয়।

আখলাকের পূর্ণতা আসার সাথে ব্যক্তির মধ্যে দুটি গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। একদিকে চিন্তা, মননশীলতা ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে অপরদিকে ব্যক্তির মধ্যে চারিত্রিক ও মানবীয় নতুন নতুন গুণাবলী তৈরী হতে শুরু করে এবং তৈরীকৃত গুণাবলীর উন্মেষ বা বিকাশ ঘটে যা একটি মূল্যবোধনির্ভর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

মানব চরিত্রের সৎ ও অসৎ, ভাল ও খারাপ, উত্তম ও মন্দ চরিত্রের ভিত্তিতে আখলাককে কখনও কখনও দু’ভাগে ভাগ করা হয়। একঃ আখলাকে হাসানা; দুইঃ আখলাকে সায়িআ। চরিত্রের উত্তম ও প্রশংসনীয় গুণাবলী আখলাকে হাসানা এবং মন্দ ও নিন্দনীয় গুণাবলীকে আখলাকে সায়িআ হিসাবে বিবেচিত হয়।

আখলাকে হাসানা অর্জনের মাধ্যমে চরিত্র পূর্ণতা লাভ করে এবং আখলাকে হাসানা অর্জনের সাথে সাথে ঈমানের পূর্ণতা আসতে শুরু করে। এছাড়া আখলাকে হাসানা অর্জনের মাধ্যমে পারস্পারিক সর্ম্পক ও বন্ধন সুদৃঢ় হয়, পরস্পরের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধি পায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত হয়। আখলাকে হাসানার অধিকারীরদের ঈমান টেকসই হয়। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ “মুমিনদের মাঝে উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী তারাই যারা সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।” (আবু দাউদ)। উত্তম আখলাকসমুন্ন ব্যক্তিই মানুষের মধ্যে উৎকৃষ্ট-হাদিস শরীফে এরূপ বর্ণনা বিধৃত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছেঃ “তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তিই উত্তম যার চরিত্র বা আখলাক সর্বোৎকৃষ্ট।” (বুখারী ও মুসলিম)।

মানব চরিত্রর মন্দ, নিন্দনীয়, খারাপ ও অপছন্দনীয় চারিত্রিক দোষগুলো আখলাকে সায়িআ হিসেবে বিবেচিত হয়। এগুলো মানব চরিত্রের নিকৃষ্ট দিক। মানব চরিত্রের খারাপ ও নিন্দনীয় দোষের কারণে পারস্পারিক হ্নদ্যতা হ্রাস পায় এবং সংহতি দুর্বল হয়ে পড়ে, ভ্রাতৃত্ববোধ নড়বড়ে হয়ে পড়ে। চরিত্রের মন্দ স্বভাব এবং নৈতিকতাবিবর্জিত অনুভূতি মানবকে অনেক সময় খারাপ কাজে প্ররোচিত করে। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ‘দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে দাখিল হতে পারবে না।” (আবু দাউদ)।

আখলাকের প্রভাব ও প্রতিফলন বহুমাত্রিক। বিশেষ করে আখলাক একদিকে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে, তার মধ্যে মানবীয় ও চারিত্রক গুণাবলীর উন্মেষ ঘটিয়ে ব্যক্তির মধ্যে পূর্ণতা আনয়ন করে। দ্বিতীয় প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় ব্যক্তিকে অন্যায়, অশস্নীল কাজ, কথা ও আচরণ থেকে বিরত রাখে। ব্যক্তিকে একজন উপযুক্ত সমাজ সদস্য হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সবশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান হল আখলাক অন্যায় ও দুর্নীতি থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। সমকালীন প্রেক্ষাপটে আখলাকের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী।

মুসলিম সমাজের একটি অন্যতম সমস্যা হল মুসলিম সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় সকল মুসলিম সমাজে একইরকম চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। মুসলিম সমাজগুলোতে ভ্রাতৃত্ববোধের পরিবর্তে বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব, মমত্ববোধের পরিবর্তে হিংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি, অপরের জন্য কল্যাণকর চিন্তা ভাবনার পরিবর্তে ছিদ্রাম্বেষণমূলক তৎপরতা বেশী বেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর সমাজ সংহতি অথবা সামাজিক বন্ধনের ভিত্‌ নড়বেড়ে হয়ে পড়ছে। আখলাকে হাসানার উজ্জীবন বা বিকাশ ভ্রাতৃত্ববোধকে অটুট ও শক্তিশালী করতে পারে।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড·এম· উমর চাপরা “ইসলাম এ্যান্ড দি ইকনমিক চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক বইয়ে বলেছেনঃ “মানুষের মর্যাদা নির্ধারণের মানদন্ড তার জাতি, পরিবার বা সম্পদ নয়; বরং তা হচ্ছে তার চরিত্র ও মানবতার প্রতি সেবা।” হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ “তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মহত্তম হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সচ্চরিত্র”। (বুখারী)। সমকালীন প্রেক্ষাপটে আখলাকে হাসানার ব্যাপক অনুশীলন ও বিকাশ প্রয়োজন। সামাজিক সংহতি, সামাজিক বন্ধন, পারস্পারিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এর বিকল্প নেই।

**************************
আবু হেনা মোস্তফা কামাল
দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ এপ্রিল ২০০৮