যে কোন ব্যক্তি (কমপক্ষে) তিন মঞ্জিল (একজন লোক সাধারণভাবে পায়ে হেঁটে সমতল ভূমিতে তিন দিনে যতটুকু পথ অতিক্রম করে, তাকে তিন মঞ্জিল বলে) দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নিয়ত করে বাড়ি থেকে বের হলে, শরিয়ত অনুযায়ী তাকে মুসাফির বলা যাবে। যখন সে নিজ শহরের লোকালয় অতিক্রম করবে, তখন তার ওপর মুসাফিরের হুকুম বর্তাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজ শহর বা গ্রামের লোকালয়ের মধ্যে থাকবে, ততক্ষণ সে মুসাফির হবে না।
যে ব্যক্তি শরিয়ত অনুযায়ী মুসাফির সে জোহর, আসর ও এশার নামাজ দুই রাকায়াত করে পড়বে এবং সুন্নাতের হুকুম এই যে, যদি ব্যস্ততা থাকে তবে ফজরের সুন্নাত ছাড়া অন্যান্য সুন্নাত তরক করা জায়েজ। এতে কোন গোনাহ হবে না। আর যদি ব্যস্ততা না থাকে এবং সাথীদের থেকে পেছনে পড়ে থাকার ভয় না থাকে, তবে সুন্নাত নামাজও পড়তে হবে। সফর অবস্থায়ও সুন্নাত নামাজ পুরো পড়তে হবে, সুন্নাতের কছর হয় না।
ফজর, মাগরিব ও বিতরের নামাজে কছর নেই, সব সময় যেমনি পড়া হয় ঠিক তেমনি পড়তে হবে।
জোহর, আসর ও এশা- এ তিন ওয়াক্তের নামাজ সফর অবস্থায় ইচ্ছা করে চার রাকায়াত পড়লে গোনাহ হবে। যেমন- কেউ জোহরের চার রাকায়াত ফরজের স্থলে ছয় রাকায়াত পড়লে গোনাহগার হবে, তেমনি গোনাহগার হবে।
সফর অবস্থায় কেউ যদি ভুলে চার রাকায়াত পড়েন, তবে দু’রাকায়াতের পর যদি আত্তাহিয়্যাতু পড়ে থাকে, তবে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। অতিরিক্ত দু’রাকায়াত নফল হবে এবং সহু সিজদা করতে হবে। আর যদি দু’রাকায়াতে না বসে থাকে তবে ফরজ আদায় হয়নি, সব নামাজ নফল হয়েছে। ফরজ আবার পড়তে হবে।
(তিন মঞ্জিলের নিয়ত করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর) পথিমধ্যে কোন স্থানে যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে তবে সে মুসাফিরের মতো কছর পড়তে থাকবেন। অবশ্য যদি ১৫ দিন বা তার থেকে বেশিদিন থাকার নিয়ত করে, তবে সে আর মুসাফির থাকবে না, তখন থেকে তাকে পুরো নামাজ পড়া শুরু করতে হবে। তারপর নিয়ত পরিবর্তন করে ফেললে এবং পনের দিনের আগেই চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলে, সে মুসাফির হবে না। তাকে পুরো নামাজই পড়তে হবে। অতঃপর সে এখান থেকে যখন চলে যাবে, তখন যে স্থানে যাবে সে স্থান যদি এখান থেকে তিন মঞ্জিল দূর হয়, তবে সে আবার মুসাফির হবে। সে স্থান যদি এখান থেকে তিন মঞ্জিলের কম দূর হয়, তবে সে মুসাফির হবে না।
**************************
গ্রন্থনাঃ ফাইজুল্লাহ কাদের জিলানী
যুগান্তর, ১১ এপ্রিল ২০০৮