একবার এক আলোচনার সময় আমাকে বলা হলোঃ
‘আপনি উদারপন্থি (লিবারাল) নন।’
‘কেন নই?’ আমি জানতে চাইলাম।
‘আপনি কি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন?’ তিনি বললেন।.
‘হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি।’
‘আপনি কি তার জন্যে প্রার্থনা করেন ও রোজা রাখেন?’
“তা করি।”
‘তাহলে আপনি উদারপন্থি নন।’
‘আমি তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলামঃ
‘আপনি কিভাবে বলছেন যে আমি মুক্তচিন্তক (ফ্রী-থিংকার) না?’
‘কারণ আপনি এক অর্থহীন সত্তায় বিশ্বাস করেন যার কোন অস্তিত্ব নেই।” তিনি বললেন।
‘আর আপনি আপনারা কিসে বিশ্বাস করেন? এই মহাবিশ্ব ও জীবন কে সৃষ্টি করেছেন? আমি জানতে চাইলাম।
‘প্রকৃতি!’
‘আচ্ছা, প্রকৃতি আসলে কি?’
‘এটি এক গোপন শক্তি যার কোন সীমা নেই, তবে এর এমন প্রকাশিত রূপ আছে যা ইন্দ্রিয় দ্বারা বোধ করা যায়।’ তিনি বললেন।
আমি বললামঃ ‘আপনার কথা শুনে এখন মনে হচ্ছে যে আপনি আমাকে এক অজানা শক্তিতে বিশ্বাস করতে বাধা দিচ্ছেন কিন্তু আপনি নিজে অন্য এক অজানা শক্তিতে বিশ্বাস করছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমি কেন অন্য আরেক অজানা শক্তির খাতিরে আমার ঈশ্বরকে অস্বীকার করব? অন্য শক্তিটি তো মিথ্যে দেবতা। যে ঈশ্বরে বিশ্বাস আমাকে শান্তি, প্রশান্তি ও স্বস্তি দেয় তাকে ছেড়ে আমি কেন প্রকৃতির ঈশ্বরের কাছে নত হবো যে আমার ডাকে সাড়া দেয় না, কিংবা আমাকে স্বস্তিও দেয় না?’
চিন্তার স্বাধীনতার বিষয়ে প্রগতিশীলদের উচ্চারিত কথা সংক্ষেপে এমনই শোনায়। তাদের কাছে চিন্তার স্বাধীনতার অর্থই যেন কারো ঈশ্বরকে অস্বীকার করা। এটি অবশ্য চিন্তার স্বাধীনতা নয়, বরং নাস্তিকতার স্বাধীনতা। এমন ধারণা নিয়ে তারা ইসলামকেও অভিযুক্ত করে একথা বলে যে, ইসলাম চিন্তার স্বাধীনতা খর্ব করে। কারণ ইসলাম নাস্তিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এখন প্রশ্ন হলঃ চিন্তার স্বাধীনতা এবং নাস্তিকতা কি একই ধারণা এবং নাস্তিকতা কি মুক্তচিন্তার জন্য প্রায়োজনীয় জরুরী পূর্বশর্ত? ইউরোপের উদারপন্থি মতবাদ এর ইতিহাস দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে এই সত্যটি অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় যে কিছু স্থানিক বা আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য ইউরোপে নাস্তিকতা বিস্তার লাভ করলেও একথা সত্য নয় যে সেই একই পরিস্থিতি বিশ্বের সর্বত্র বিরাজ করবে।
একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ইউরোপের চার্চগুলো থেকে খ্রীস্টধর্মের যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল তা ইউরোপের মুক্তচিন্তার অনুসারীদেরকে নাস্তিকতার পথে ঠেলে দেয়। কারণ চার্চ হয়ে উঠেছিল বিজ্ঞানের কণ্ঠরোধকারী, বিজ্ঞানীদের উপর নির্যাতনকারী এবং ঈশ্বরের নামে মিথ্যা ও কুসংস্কারের প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান। ইউরোপের বুদ্ধিজীবীরা খাপ খায় না এমন দুটি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটিকে পছন্দ করতে বাধ্য হয়েছিলঃ স্বভাবগতভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস অথবা বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক তথ্যে বিশ্বাস।
ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীরা এই উভয়সংকট থেকে মুক্তির আংশিক উপায় খুঁজে পেল প্রকৃতির মাঝে। তাই তারা চার্চকে বললঃ “ তোমরা তোমদের ঈশ্বরকে ফিরিয়ে নাও, যার নামে তোমরা আমাদেরকে দাসত্বে বেঁধে রেখেছ, যার নামে আমাদের ওপর অন্যায্য বোঝা চাপাও এবং অত্যাচারী স্বৈরশাসন ও কুসংস্কারের মাঝে আমাদেরকে বেঁধে রাখো। তোমাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস মানুষকে সন্ন্যাসী হয়ে আবদ্ধ জীবনযাপন করতে বলে আমরা তা করতে অস্বীকার করছি। আর তাই, আমরা এক নতুন ঈশ্বরকে গ্রহণ করবো যিনি পুরনো ঈশ্বরের বেশিরভাগ বৈশিষ্ট্য বহন করবেন। তবে তার কোন চার্চ থাকবে না যার দ্বারা আমাদেরকে দাসত্বে আবদ্ধ করা যায় বা তিনি তোমাদের ঈশ্বরের মত আমাদের ওপর কোন নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা ব‘বাদী বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেবেন না।”
কিন্তু ইসলামে এমন কিছুই নেয় যা মানুষকে নাস্তিকতার দিকে নিয়ে যাবে। মনকে বিমূঢ় করতে পারে এমন কোন উভয়সংকট এতে নেই। কেবল একজন ঈশ্বর আছেন; তিনি সব জীব সৃষ্টি করেছেন এবং তার কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে। এটি একটি সাধারণ স্পষ্ট ধারণা যে বিষয়ে সন্দেহ করা বা অস্বীকার করা এমনকি প্রকৃতিবাদী বা নাস্তিকদের জন্যও কঠিন।
ইউরোপের চার্চে যে ধরনের যাজকশ্রেণীর অস্তিত্ব আছে, ইসলামে তেমন কিছু নেই। ধর্ম প্রতিটি ব্যক্তির এজমালি সম্পত্তি এবং প্রতিটি মুসলিম এ থেকে তার প্রাকৃতিক, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থø অনুযায়ী উপকার ভোগ করবে। সব মানুষ সমান এবং তারা তাদের কাজের আলোকে বিচার্য হবে। মানুষের মাঝে তিনিই শ্রেষ্ঠ যার ভেতর ঈশ্বরভীতি আছে, তিনি হতে পারেন ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক, মজুর বা অন্য যে কোন পেশার মানুষ। ধর্ম এসব পেশার ভেতরের কোন নির্দিষ্ট একটির জন্য নয়। ইসলামে পেশাদার যাজকশ্রেণীর অস্তিত্ব নেই এবং এ কারণে ইসলামে পেশাদার যাজকশ্রেণীর হস্তক্ষেপ ছাড়া উপাসনা করা সম্ভব। কিন্তু এটি অবশ্য আবশ্যক যে কিছু ব্যক্তি ব্যবহারশাস্ত্র ও আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবেন। কারণ এসবের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য আদেশজারি করা হয়। ইসলামী ব্যবহারশাস্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের এসব বিশেষজ্ঞরা যে অবস্থান (স্ট্যাটাস) ভোগ করেন তা অন্যান্য দেশের তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিও ভোগ করে থাকেন। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে তারা কোন কতৃêত্ব বা খাতির ভোগ করার জন্য হকদার নন। তারা কেবল রাষ্ট্রের ব্যবহারশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শদাতা। এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে আল-আজহার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যাজকশ্রেণীর মত তারা মানুষকে পুড়িয়ে মারার বা অত্যাচারের কর্তৃত্ব রাখেন না। আল-আজহার যা করতে পারে তা হলো ধর্ম বিষয়ে কোন ব্যক্তির বোধকে চ্যালেঞ্জ করা বা সমালোচনা করা। আবার, অপরপক্ষে বাইরে থেকে যে কেউ ধর্মীয় ব্যাপারে আল-আজহার এর বোধকে চ্যালেঞ্জে করতে ও তার সমালোচনা করতে পারে। কারণ ইসলাম কোন ব্যক্তি বা শ্রেণীর একচেটিয়া অধিকারের বিষয় নয়। কেবল সে সব ব্যক্তিকেই ধর্মের ব্যাপারে কর্তৃত্বধারী হিসেবে স্বীকার করা যায় যাদের এ ব্যাপারে গভীর বোধ থাকে এবং তারা যে পেশারই হন না কেন তারা বাস্তব জীবনে সে সবের প্রয়োগ করে থাকেন।
ইতিহাস একথার সাক্ষ্য দেয় যে, ইসলামী বিশ্বাস বা কখনো বিজ্ঞান বা এর তত্ত্বের বাস্তবায়নে বিরোধ সৃষ্টি করে না। ইসলামী শাসনে কোন বিজ্ঞানীকে তার আবিষ্কার বা বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ করার জন্য পুড়িয়ে মারা হয়নি বা তার উপর অত্যাচার করা হয়নি। সত্যিকারের বিজ্ঞানের সঙ্গে ইসলামের বিশ্বাস বা ঈশ্বর যে স্রষ্টা এ বিশ্বাসের সঙ্গে কোন প্রকৃত বিরোধ নেই। ইসলাম আহবান জানায় যেন মানুষ মহাকাশ এবং পৃথিবী নিয়ে গবেষণা করে এবং এসবের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে যেন তারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব বুঝতে পারে। একথা স্মরণ করা যেতে পারে যে বহু পশ্চিমা বিজ্ঞানী যারা ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিলেন না তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে একসময় ঈশ্বর বিশ্বাসী হয়েছেন।
ইসলাম এমন কিছু নেই যা মানুষকে নাস্তিক করতে পারে। প্রাচ্যের নাস্তিক্যবাদীরা আসলে পূর্বতন ঔপনিবেশিক শাসকদের অন্ধ অনুসারী। তারা চায় যে তাদেরকে সেই স্বাধীনতা দেয়া হোক যাতে করে তারা যে কোন বিশ্বাস, সব ধরনের উপাসনকে আক্রমণ করতে পারে এবং মানুষকে ধর্ম ত্যাগ করতে প্ররোচিত করতে পারে। কিন্তু এমন স্বাধীনতা তারা কেন চায়? ইউরোপে মানুষ কুসংস্কার থেকে মনকে মুক্ত করার জন্য এবং মানুষকে নিপীড়ন ও অত্যাচার থেকে বাঁচনোর জন্য ধর্মকে আক্রমণ করত। কিন্তু ইসলামী বিশ্বাস যদি তাদেরকে সেই সব স্বাধীনতা দেয় যা তাদের প্রয়োজন বা যার জন্য তারা চিৎকার করে থাকে, তাহলেও কি তারা একে আক্রমণ করবে? সত্য কথা হলো এসব তথাকথিত উদারপন্থিরা প্রকৃতপক্ষে চিন্তার স্বাধীনতা চায় না বরং তারা প্রকৃতপক্ষে নৈতিক অবক্ষয় এবং যৌন অনাচার এর বিস্তৃতি চায়। তারা তাদের নীচ উদ্দেশ্য পূরণে চিন্তার স্বাধীনতাকে মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করে। এটি আসলে ধর্ম ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে পরিচালিত জঘন্য যুদ্ধে ব্যবহ্নত ছদ্মাবেশ কৌশল মাত্র। ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের এই অবস্থান এজন্য নয় যে, ইসলাম চিন্তার স্বাধীনতাকে বাধা দেয়, বরং এজন্য যে ইসলাম মানবজাতিকে নীচ আবেগ থেকে মুক্তি দিতে দৃঢ় অবস্থান নেয়।
ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রাঃ) বলেছেনঃ ‘আমি যতক্ষণ আল্লাহ এবং তার রসুলকে মেনে চলব ততক্ষণ তোমরা আমাকে মেনে চলবে। কিন্তু আমি যদি আল্লাহ বা তার রসুলকে অমান্য করি তবে আমি আর তোমাদের আনুগত্যের দাবিদার থাকেবো না।’
ওমর (রাঃ) মুসলমানদের উদ্দেশ করে বলেছেনঃ ‘আমার মধ্যে কোন অসাধুতা পেলে আমাকে সংশোধন করে দেবে।’ জনতার ভেতর থেকে কোন এক ব্যক্তি বললঃ ‘সর্বশক্তিমানের শপথ, আমরা যদি আপনার মধ্যে কোন অসাধুতা পেতাম, তবে অবশ্যই তরবারির দ্বারা আপনাকে সঠিক করে দিতাম।’
এটি সত্য যে, পৃথিবীতে ধর্মের নামে অত্যাচার ও নিপীড়ন ঘটেছে। এও সত্য যে, কোন কোন দেশে এখনো ধর্মের নামে নিপীড়ন চলছে। কিন্তু ধর্মই কি স্বৈরশাসকদের একমাত্র মুখোশ? হিটলার কি ধর্মের নামে শাসন করেছে? একথা এখন রাশিয়াতেও স্বীকৃত যে, স্টালিন একজন অত্যাচারী স্বৈরশাসক ছিলেন যিনি এক দমন-পীড়নের রাজত্ব করেছেন। কিন্তু স্টালিন কি ধর্মের নামে শাসন করেছিলেন? মাও সে তুং, ফ্রাংকো, দক্ষিণ আফ্রিকার মলন, জাতীয়তাবাদী চিনের চিয়াং কাই শেকসহ অন্য সব স্বৈরশাসক কি ধর্মের নামে শাসন করেছেন? একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বিংশ শতাব্দি যেকোন উপায়ে হোক ধর্মের প্রাধান্য থেকে মুক্ত হয়েছে, কিন্তু এই শতাব্দি একই সঙ্গে অত্যন্ত ভয়ংকর দৈত্যসুলভ স্বৈরশাসন প্রত্যক্ষ করেছে যা সুন্দর সুন্দর নামের আড়ালে কাজ করেছে এবং যা ধর্মের চেয়ে কোন অংশে কম পবিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়নি।
ব্যক্তিগত উচ্চাশা পূরণে মুখোশ হিসেবে যেকোন মহান নীতিকে মানুষ অপব্যবহার করতে সক্ষম। স্বাধীনতার নামে যে কত জঘন্য অপরাধ ঘটানো যেতে পারে ফরাসী বিপ্লবের সময় তার উদাহরণ আমরা দেখেছি। কিন্তু একে অজুহাত করে স্বাধীনতার প্রকাশ রুখে দেয়া ঠিক নয়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে শত শত মানুষকে কারাগারে বন্দী করা, নির্যাতন করা বা হত্যা করা হয়েছে। তাহলে কি সব সংবিধান বাতিল ঘোষণা করতে হবে? কোন কোন দেশে ধর্মের নামে নিপীড়ন ও অত্যাচার চলেছে। এজন্য কি আমরা সব ধর্মকে পরিত্যাগ করব? হ্যাঁ ধর্মকে পরিত্যাগ করা সঠিক হবে যদি তা নিপীড়ন ও অন্যায়ের পক্ষে ওকালতি করে। তবে ইসলামের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। কারণ শুদ্ধ বিচার এবং সাম্যের মহান উদাহরণ ইসলাম প্রদর্শন করেছে তা সে মুসলমানদের ভেতর হোক কিংবা মুসলমান ও অমুসলিমদের ভেতরে হোক না কেন।
মানুষকে ধর্মে বিশ্বাস করতে হয় বলেই এবং ধর্মের দ্বারা সুরক্ষিত ও প্রতিহত স্বাধীনতাকে সম্মান করার মাধ্যমেই অত্যাচারকে দমন করা সম্ভব। এ ধরনর মানুষ শাসককে অন্যায় করার সুযোগ দেবে না, বরং তাকে তার আইনগত ক্ষমতার ভেতরে আটকে রাখবে। আমার মনে হয় না যে, ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য এতকিছু করেছে। ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য এটি এক কর্তব্য হিসেবে স্থির করেছে যে, শাসক অন্যায্য কিছু করলে তাকে তারা শুধরে দেবে। নবী (সঃ) বলেছেনঃ যে, কউ কোন পাপ প্রত্যক্ষ করে তার উচিত তার পরিবর্তন করা। তিনি আরো বলেছেনঃ অন্যায়কারী শাসকের সামনে ন্যায়ের একটি কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।’
এসব নীতির কারণেই ইসলামের ৩য় খলিফা ওসমানের (রাঃ) বিরুদ্ধে জনগণ বিদ্রোহ করেছিল। কারণ তারা মনে করেছিল যে, ওসমান সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। যদিও সেই বিদ্রোহ মূলত আরো বড় বিচ্যুতি নিয়ে এসেছিল।
উপসংহারে বলি, আমরা এমন ‘প্রগতিশীল মুক্তচিন্তকদের জন্য একটি উপদেশ রাখতে চাই। ধর্মকে ত্যাগ করার মধ্যে প্রকৃত স্বাধীনতা নেই, বরং মানুষের মধ্যে সেই চেতনা লালন করার মধ্যেই প্রকৃত স্বাধীনতা যা ঘৃণা করে অবিচার এবং যা অন্যায়কে সংশোধন করে। এই চেতনাই হচ্ছে ইসলামী জনগণের চেতনা। [বর্তমান প্রবন্ধটি মুহাম্মদ কুতবের বহুল আলোচিত গ্রন্থ ‘ইসলামঃ দি মিসআনডারস্ট্যুড রিলিজন’ এর একটি অধ্যায় ‘ইসলাম এন্ড ফ্রিডম অব থট’ এর অনুবাদ। ]
**************************
মুহাম্মদ কুতব
অনুবাদঃ হাসিনুল ইসলাম
দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ এপ্রিল ২০০৮