Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
মহানবী (সাঃ) ইয়াতীমের অভিভাবক
http://articles.ourislam.org/articles/158/1/aaaaaa-aaa-aaaaaaaa-aaaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 04/15/2008
 
মহানবী (সাঃ) ইয়াতীমদের অভিভাবক ছিলেন। তিনি সর্বদা ইয়াতীমের খোঁজ-খবর রাখতেন। তিনি নিজেও ইয়াতীমদের সাহায্য করতেন এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি বলেছেন আল্লাহ সেই গৃহকে খুবই পছন্দ করেন যে গৃহ ইয়াতীমকে মর্যাদার আসনে বসায়। ‘যে ব্যক্তি কোন ইয়াতীমকে তার আহারে শরীক করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন’।

মহানবী (সাঃ) ইয়াতীমের অভিভাবক

মহানবী (সাঃ) ইয়াতীমদের অভিভাবক ছিলেন। তিনি সর্বদা ইয়াতীমের খোঁজ-খবর রাখতেন। তিনি নিজেও ইয়াতীমদের সাহায্য করতেন এবং অন্যদেরকেও এ বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি বলেছেন আল্লাহ সেই গৃহকে খুবই পছন্দ করেন যে গৃহ ইয়াতীমকে মর্যাদার আসনে বসায়। ‘যে ব্যক্তি কোন ইয়াতীমকে তার আহারে শরীক করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন’।

নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ইয়াতীম বালক অথবা বালিকার সাথে সদ্ব্যবহার করে, সে এবং আমি জান্নাতে এক সাথে থাকব, যেমন হাতের এ দু’টি আঙুল এক সাথে রয়েছে। (আল-আদাবুল-মুফরাদ)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রাসূলে করীম (সাঃ) বলেন, মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে সে ঘরই সর্বোত্তম, যাতে কোনো ইয়াতীম থাকে এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করা হয়। পক্ষান্তরে সে ঘর নিকৃষ্ট, যাতে কোনো ইয়াতীম থাকে এবং তার সাথে অসদাচরণ করা হয়। (ইবনে-মাজাহ্‌)

যারা ইয়াতীমের ধন-সম্পদ আত্মসাত করে, তাদের কবর থেকে এমন অবস্থায় ওঠানো হবে যে, তাদের মুখ থেকে অগ্নিশিখা বের হতে থাকবে। (আবু ইয়ালা)

আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত এক ব্যক্তি এসে বললো হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমার অন্তর কঠোর। নবীজী (সাঃ) বললেন ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলাও। মিসকীনকে খাবার খাওয়াও।

ইয়াতীম-অনাথরাও অন্যের দয়া-মায়ার অধিক মুখাপেক্ষী। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত তাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টি মেলে তাকান।

অন্য একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ইয়াতীমের প্রতিপালনকারী ব্যক্তি যেন সর্বদা রোযা পালনকারী, রোযাদার।

একদা এক ইয়াতীম ছেঁড়া-ফাঁটা কাপড় পরিধান করে নবীজীর নিকট এসে বলল, হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! আমার পিতার মৃত্যুর পর আবু জেহেল আমাদের সকল বিষয় সম্পত্তি জবর দখল করে নিয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব অসহায় নবীজী তখনই ইয়াতীম ছেলেটির হাত ধরে আবু জেহেলের বাড়ী গেলেন। অত্যন্ত ধীর গম্ভীর স্বরে আবু জেহেলকে বললেন- “এই ইয়াতীমের সম্পদ তাকে বুঝিয়ে দাও।”

আবু জেহেল ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ইয়াতীম ছেলের সকল সম্পদ ফিরিয়ে দিল।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে সস্নেহে ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, যতগুলো চুলের উপর দিয়ে তার হাত চলে, ততগুলো সওয়াবই সে পায়। যে ব্যক্তি ইয়াতীম বালক-বালিকার সাথে সদয় ব্যবহার করে, আমি এবং সে জান্নাতে মধ্যবর্তী ও শাহাদত আঙুলের মত কাছাকাছি থাকবো।

হযরত আবু যুরারাহ আনসারী (রাঃ) দু’টি ছোট কন্যা সন্তান রেখে মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসিয়ত করেন- আমার এ ছোট দু’টি কন্যার অভিভাবক হবেন নবী করীম (সাঃ)।

নবীজী (সাঃ) ইয়াতীম বালিকা দু’টির লালন-পালনের বিশেষ ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজ থেকে তাদেরকে স্বর্ণের অলংকার প্রদান এবং বড় হওয়ার পর বিবাহের ব্যবস্থা করেন।

আরও একটি হাদীসে রয়েছে, প্রিয়নবী (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ “যে ব্যক্তি মুসলমানদের মধ্য হতে কোন ইয়াতীমের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং তাকে তার সঙ্গে খাওয়ায় ও পান করায় আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তবে হ্যাঁ যদি সে ক্ষমার অযোগ্য কোন পাপ না করে।”

একবার ঈদের দিন নবীজী কোথাও যাচ্ছিলেন। মাঠে ছেলেরা আনন্দ ও খেলাধুলা করছিল, কিন্তু একটি বালক অন্য ছেলেদের সাথে খেলাধুলা না করে বিষণ্ন মনে মাঠের এক কোণে বসেছিল।

প্রিয়নবী (সাঃ) বালকটিকে আদর করে তার বিষণ্নতার কারণ জিজ্ঞেস করলে বালকটি জবাব দিল- আমার আব্বা মারা গেছেন, মা অন্যত্র বিবাহ করেছেন। এখন আমার কেউ নেই। নবীজী বললেন- তুমি কি এতে খুশি হবে যে, “মুহাম্মদ (সাঃ) তোমার পিতা আর আয়েশা (রাঃ) তোমার মাতা হবেন?”

একথা শুনে বালকটি আনন্দে আত্মহারা হলো। এরপর নবীজী বালকটির লালন-পালনের দায়িত্ব-ভার গ্রহণ করলেন।

ইয়াতীম ও ফকীর মিসকিনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা সম্বন্ধে আল্লাহ পাক ফরমায়েছেনঃ “ইয়াতীমকে দাবিয়ে রাখিবে না। তাহার হক নষ্ট করিবে না, তার তত্ত্বাবধান করিবে, তার মন‘ষ্টি বিধান করিবে, পিতার ন্যায় স্নেহ করিবে, তার উপযুক্ত ভরণ-পোষণ ও তালীম-তরবিয়ত করিবে, এমন কোন কাজ করিবে না, যাতে তার ক্ষতি বা বেইজ্জত হয়। তার সাথে উদার ও ভাল ব্যবহার করিবে।

যদি সে ইলমের প্রত্যাশী হয়, তবে তার বাসনা পূরণ করিবে। অহঙ্কার ও কর্কশ ব্যবহার না করে তাকে সৎ কথা শুনাইবে, সৎ শিক্ষা দিবে, আর অভাবগ্রস্ত হইলে যথাসাধ্য তার অভাব মোচন করিবে। অন্যথায় তাকে মিষ্ট কথায় বিদায় দিবে। অহঙ্কার ও গৌরব ব্যতিরেকে শুকুর গুজারী হিসাবে আপন পরওয়ারদিগারের ইহ্‌সান ও নিয়ামত বর্ণনা কর।” পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ ‘তায়ালা আরও বহু জায়গায় ইয়াতীমের যথোপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষা ও সর্ববিধ কল্যাণ সাধনের নিমিত্তে, তার যাতে কোন বিষয়ে দুঃখ-কষ্ট, ক্ষয়-ক্ষতি না হয়, সেদিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে হুকুম করেছেন। যেমন তার স্নেহ প্রাণ পিতা বর্তমান থাকলে করত। ইহার ব্যতিক্রম হলে পিতৃহারা শিশুর আখলাক, চরিত্র, মন-মানসিকতা বিকৃত ও কদর্য হতে পারে। যার দরুন সে কালক্রমে সমাজের উপর, স্বজনদের উপর এমন কি নিজের নিকটও ভারী বোঝা হয়ে পড়বে। যাকে আল্লাহ্‌তায়ালা ইহ্‌সান করেছেন ও নিয়ামত দিয়েছেন, প্রচুর ধন-সম্পদ দিয়েছেন অভাবী এতিম মিসকিন, মুসলমান ভাইয়ের প্রতিও তাঁর অনুরূপ ইহ্‌সান ও সাহায্য-সহযোগিতা করা অবশ্য কর্তব্য।

**************************
মাসুদা বেগম
দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ এপ্রিল ২০০৮