- Home
- পুণ্য ও শান্তি
- যে দয়া করে সে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে
যে দয়া করে সে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে
- By Article Poster
- Published 04/12/2008
- পুণ্য ও শান্তি
-
Rating:




মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর একটি গুণবাচক নাম হলো- আর রাহমান বা পরম দয়ালু। তাঁর দয়ার মহাসমুদ্র হতে একবিন্দু দয়া তিনি তাঁর প্রিয় বান্দাহদেরকে দান করেছেন। এজন্যই অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন মু’মিনের একটি অপরিহার্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য। এ মর্মে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ)কে বলতে শুনেছি- আল্লাহতা’য়ালা দয়াকে একশত ভাগে ভাগ করেছেন, তন্মধ্যে নিরানব্বই ভাগই নিজের কাছে রেখে পৃথিবীতে একভাগ মাত্র অবতীর্ণ করেছেন- যা দ্বারা গোটা সৃষ্টিকুল একে অপরের প্রতি দয়াপরবশ হয়, এমনকি ঘোটকী তার পায়ের ক্ষুর এ আশংকায় উঠিয়ে নেয় যে, পাছে যেন তার শাবক ব্যথা না পায়।’ (বুখারী) আর তাইতো দেখা যায় মুমিনের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে জালিম, নির্দয়, বেরহম, পাষাণ ও হ্নদয়হীন না হওয়া। বরং সমগ্র মানবতার জন্য স্নেহশীল, করুণা-প্রবণ, সহানুভূতিশীল এবং পরস্পরের শোকে-দুঃখে বেদনা অনুভবকারী হওয়া। ব্যক্তিগতভাবে একজন মুমিন আল্লাহর করুণার মূর্ত প্রকাশ এবং দলগতভাবেও মুমিনের দল আল্লাহর এমন এক নবীর প্রতিনিধি যার প্রশংসায় বলা হয়েছে- বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও করুণা হিসেবেই তোমাকে পাঠিয়েছি।” (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭)।
বিশ্ব জগতের রহমত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজের উম্মতের মধ্যে এই রহম ও করুণা বৃত্তিটির মত উন্নত নৈতিক বৃত্তিটিকেই সবচেয়ে বেশী প্রসারিত ও বিকশিত করতে চেয়েছেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ তাঁর নিম্নোক্ত বাণীগুলো প্রণিধানযোগ্য। যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি রহম করে না আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন না। (বুখারী ও মুসলিম), রহমকারীদের প্রতি আল্লাহ রহম করেন। পৃথিবীবাসীদের প্রতি রহম কর। আকাশবাসী তোমার প্রতি রহম করবেন। (আবু দাউদ ও তিরমিযী), তিন ধরনের লোক জান্নাতী। তন্মধ্যে একজন হচ্ছে- যে ব্যক্তি প্রত্যেক আত্মীয় ও প্রত্যেক মুসলিমের জন্য দয়ার্দ্র হ্নদয় ও কোমল প্রাণ। (মুসলিম), তোমরা অপরের দেখাদেখি কোন কাজ করো না এবং একথাও বলো না যে, অন্যেরা অনুগ্রহ করলে আমরাও অনুগ্রহ করব এবং অন্যেরা জুলুম করলে আমরাও জুলুম করব; বরং তোমরা এ বিষয়ে মনকে পাকাপোক্ত করে নাও যে, অন্যেরা অনুগ্রহ না করলেও তোমরা অনুগ্রহ করবে এবং অন্যরা জুলুম করলেও তোমরা জুলুম করবে না, বরং অনুগ্রহ করবে। (তিরমিযী)।
আল্লাহর যে বান্দা কোন বিধবা, অসহায় নারী অথবা কোন মিসকীন ও অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির কাজে দৌঁড়-ঝাঁপ করে, সে সেই মুজাহিদের মত যে আল্লাহর পথে দৌড়-ঝাঁপ করে। রাবী বলেন, আমার ধারণা রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন, সে সেই ইবাদতকারী ব্যক্তির মত যে সারা রাত্রি নামাজ পড়ে বরং ক্লান্ত হয় না এবং রোযাদারের মত যে সর্বদা রোযা রাখে কোন সময় রোযা ছাড়ে না। (বুখারী ও মুসলিম), যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি রহম করে না এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (তিরমিযী), হতভাগ্য ব্যক্তির হ্নদয় থেকেই রহম তুলে নেয়া হয়। (মুসনাদে আহমদ ও তিরমিযী), তোমরা মুমিনদেরকে পরস্পরের মধ্যে রহম, ভালবাসা ও সহানুভূতির ব্যাপারে একটি দেহের মত পাবে। যদি একটি অঙ্গে কোন কষ্ট অনুভূত হয় তাহলে সারা দেহ তাতে নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। (বুখারী ও মুসলিম) এবং মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না এবং তাকে সাহায্য করা থেকেও বিরত থাকবে না। যে ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের কোন প্রয়োজন পূরণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে কোন বিপদ থেকে উদ্ধার করবে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বিপদগুলোর মধ্য থেকে একটি বিপদ হতে তাকে উদ্ধার করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে আল্লাহও কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন। (বুখারী ও মুসলিম)।
উপরি উল্লিখিত হাদীসগুলোই প্রমাণ করে যে, ইসলামে একে অপরের প্রতি দয়া করার কী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। এতদসত্ত্বেও আজকের মানব সমাজ থেকে দিন দিন যেন ‘দয়া’ নামক এ মহৎ গুণটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। আজ দয়া, মায়া ও মহত্ত্ববোধ নেই বলেই একে অপরকে খুন, জখম, অঙ্গচ্ছেদ অথবা অপহরণ করতে ইতস্ততবোধ করে না। মানুষের মনুষ্যত্ব দিন দিন লোপ পাচ্ছে। সুতরাং একজন মুসলমান হিসেবেতো বটেই একজন মানুষ হিসেবেও আমাদের উচিত অপরের প্রতি দয়াপরবশ হওয়া। নিজের মনের পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধন করা। তাহলেই অবিচার-অনাচারমুক্ত সমাজ কায়েম করে ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব।
**************************
এম জহিরুল ইসলাম
দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ এপ্রিল ২০০৮