Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
গীবত
http://articles.ourislam.org/articles/170/1/aaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 04/18/2008
 
কুরআন মজীদে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেনঃ নিশ্চই তোমাদের মধ্যে সেই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহ ভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব কিছু জানেন সব বিষয়ে অবহিত। (হুজুরাতঃ ১৩) হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর, যেরূপ করা উচিত। আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না। আল ইমরান ১০২)।

গীবত

কুরআন মজীদে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেনঃ নিশ্চই তোমাদের মধ্যে সেই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহ ভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব কিছু জানেন সব বিষয়ে অবহিত। (হুজুরাতঃ ১৩) হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর, যেরূপ করা উচিত। আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না। আল ইমরান ১০২)।

হজরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, হে আয়েশা ছোট-খাটো গুনাহর ব্যাপারেও সতর্ক হও কেননা এজন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। (ইবনে মাজা) হে ঈমানদার লোকেরা! বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। কারণ কোন কোন ধারণা অনুমান পাপ। আর দোষ অম্বেষণ করো না এবং তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে। এমন কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছে, যে তার নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? দেখো, তা খেতে তোমাদের ঘৃণা হয়। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ অধিক পরিমাণে তওবা কবুলকারী এবং দয়ালু (সুরা হুজুরাতঃ ১২)

আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন, মানুষের গোপন বিষয় তালাশ কর না। একজন আরেকজনের দোষ খুঁজো না। অন্যদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করে বেড়াবে না। এ আচরণ খারাপ ধারণার বশবর্তি হয়ে করা হোক কিংবা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হোক অথবা শুধু নিজের কৌতূহল ও ঔৎসুক্য নিবারণের জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে তা নিষিদ্ধ। অন্যদের যেসব বিষয় লোকচক্ষুর অন্তরালে আছে তা খোঁজাখুঁজি করা এবং কার কি দোষ-ত্রম্নটি আছে ও কার কি দুর্বলতা গোপন আছে, পর্দার অন্তরালে উঁকি দিয়ে তা জানার চেষ্টা করা কোন মুমিনের কাজ নয়। এ কারণে একবার নবী (সাঃ) তার খুতবায় দোষ অম্বেষণকারীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘হে সেই সব লোকজন, যারা মুখে ঈমান এনেছ কিন্তু ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানদের গোপানীয় বিষয় খুঁজে বেড়িও না। যে ব্যক্তি মুসলমানদের দোষ ক্রুটি তালাশ করে বেড়াবে’ আল্লাহ তার দোষ ত্রম্নটির অম্বেষণে লেগে যাবেন। আর আল্লাহ যার ত্রম্নটি তালাশ করেন তাকে তার ঘরের মধ্যে লাঞ্ছিত করে ছাড়েন।’ (আবু দাউদ)

অপর এক হাদীসে নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ ‘কেউ যদি কারো দোষ ত্রম্নটি দেখে ফেলে এবং তা গোপন রাখে তাহলে সে যেনো একজন জীবন্ত পুঁতে ফেলা মেয়ে সন্তানকে জীবন দান করলো।’ (আল জাসসাস)

গীবতের সংজ্ঞা হলোঃ ‘কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা শুনলে সে অপছন্দ করবে।’ স্বয়ং রাসুল্লাহ (সাঃ) থেকে গীবতের এ সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। মুসলিম আবু দাউদ তিরমিযী নাসায়ী হাদীস গ্রন্থে হজরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ঐ হাদীসে নবী করীম (সাঃ) গীবতের যে সংজ্ঞা বর্ণনা করেছেন তা হলোঃ “গীবত হচ্ছে এই যে, তুমি এমনভাবে তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে কথা বললে যা তার কাছে অপছন্দনীয়। প্রশ্ন করা হলো, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে সত্যিই থেকে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার মত কি? তিনি বললেন, তুমি যা বলছো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই তো তুমি গীবত করলে। আর তা যদি না থাকে তাহলেতো অপবাদ আরোপ করলে।” রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বাণী থেকে প্রমাণিত হয়, কারো বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতে মিথ্যা অভিযোগ করাই অপবাদ আর সত্যিকার দোষ ত্রম্নটি বর্ণনা করা গীবত। এ কাজ স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে করা হোক বা ইংগিতের মাধ্যমে করা হোক সবসময় তা হারাম। অনুরূপভাবে একাজ ব্যক্তির জীবদ্দশায় করা হোক বা মৃত্যুর পরে করা হোক উভয় ক্ষেত্রে তা সমানভাবে হারাম।

এ ব্যাপারে মহানবী (সঃ) অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বলেছেনঃ ‘তোমাদের কেউ মারা গেলে তাকে ছেড়ে দাও এবং তার গীবত কর না।’ (আবু দাউদ, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ) ‘তোমরা মৃতদের গালি দিও না, কারণ তারা তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পাওয়ার স্থানে পৌঁছে গেছে। হাদীসটি ইবনে হিব্বান (রঃ) রিওয়াত করেছেন এবং আবদুল আজীম আল মুনথিরী তার কিতাবুল তারগীব ওয়াত তারহীব-এ সংকলন করেছেন।

“তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের সদগুণাবলী আলোচনা কর এবং তাদের দুর্নাম থেকে বিরত থাক।” (আবু দাউদ) হজরত আবু দারদা (রাঃ) প্রায়ই কবরস্থানে যেতেন এবং কবরের পাশে বসতেন। লোকেরা এর কারণ জিজ্ঞস করলে তিনি বলেন, আমি এমন লোকের নিকটে বসি যারা আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আমি চলে এলে তারা আমার গীবত করে না। কিন্তু জীবিতদের অবস্থা এর বিপরীত (ইহয়া উলুমিদ-দীন, কিতাবুল আমওয়াত) কোন প্রয়োজনে একটি বেঁটে স্ত্রীলোক মহানবী (সাঃ) এর নিকট আসে। সে চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রাঃ) তার দৈহিক কাঠামো বেঁটে হওয়ার ত্রম্নটি বর্ণনা করেন। মহানবী (সাঃ) বলেনঃ হে আয়েশা! তুমি ঐ স্ত্রী লোকটির গীবত করলে। তিনি বলেন, ইয়া রাসুল্লাহ! আমি বাস্তব ঘটনার বিপরীত কিছু বলিনি, অবশ্য আমি তার বেঁটে হওয়ার কথা বলছি এবং এই ত্রম্নটি তার মধ্যে রয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেন, হে আয়েশা! যদিও তুমি সত্য কথা বলেছ কিন্তু তুমি তার ত্রম্নটি বর্ণনা করায় তা গীবত হয়ে গেল। (ফকীহ আবুল লাইম, বাবুল গীবত)

একদা হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল। আপনি কি মাফিয়্যার বেঁটে হওয়াটা অপছন্দ করেন না? তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! তুমি এমন একটি কথা বললে যা নদীর পানির সাথে মিশিয়ে দিলে তার উপরও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। (আবু দাউদ বাবুল গীবত)

এক সফরে হজরত আবু ববক (রাঃ) ও হজরত উমার (রাঃ-র সাথে এক দরিদ্র খাদেম ছিল, সে সবসময় তাদের খেদমত করত। গন্তব্যে পৌঁছে তারা উভয়েই ঘুমিয়ে পড়লেন এবং কিছুক্ষণ পর সেও ঘুমিয়ে পড়লো তাদের উভয়ের জন্য খাবার তৈরি না করে। তাঁরা উভয়ে জাগ্রত হয়ে বলতে লাগলেন, এই কাটা খুব ঘুমায়। তারা তাকে ঘুম থেকে তুলে মহানবী (সাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। সে তার নিকট আবেদন করল, হে আল্লাহর রাসুল! হজরত আবু বকর (রাঃ) ও হজরত উমার (রাঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং কিছু খাবার চেয়েছেন। রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বললেনঃ তারা উভয়ে আহার করেছে এবং তৃপ্ত হয়েছে। তাঁরা উভয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আজ কি খেয়েছি? তিনি বলেনঃ তোমরা আজ ঐ খাদেমের গোশত খেয়েছ এবং আমি তোমাদের দাঁতে গোশতের রং দেখতে পাচ্ছি। তাঁরা উভয়ে এ কথা শুনে বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের ত্রম্নটি মাফ করুন এবং আল্লাহর দরবারে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহর ক্ষমাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে না, খাদেম যেন তোমাদের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে (দিয়া আল-মুকাদ্দাসীর বরাতে আদদুররুল মানছুরে)। ইবাদতের ত্রম্নটি-বিচ্যুতির উল্লেখপূর্বক সমালোচনা করাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন অমুক ব্যক্তি উত্তম রূপে নামাজ পড়ে না অথবা রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে না অথবা নফল নামাজ পড়ে না অথবা রমজানের সবগুলো রোজা রাখে না অথবা মাকরাহ ওয়াক্তে নামাজ পড়ে। তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে কতক লোক ঘুমিয়ে থাকলে শেখ সাদী (রঃ) তাদের সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই লোকগুলো যদি তাহাজ্জুদ পড়তো তবে কতই না ভাল হত। সাদীর পিতা একথা শুনে বলেন, কতই না ভাল হত যদি তুমি তাহাজ্জুদ না পড়ে এদের মত ঘুমিয়ে থাকতে। তাহলে এদের গীবত করার পাপ তোমার ঘাড়ে চাপত না। কোন ব্যক্তিকে তার গুনাহের কারণে অপদস্ত করা এবং তাকে জাহান্নামী মনে করা আল্লাহ তায়ালার মর্জি বিরুদ্ধ কাজ। বরং যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে অপমান করে আল্লাহ তা’য়ালা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে অপমান করেন, অন্যদিকে যাকে অপমান করা হলো তার গুনাহ মাফ করে দেন। বনী ইসরাঈলের দুই ব্যক্তির ঘটনা এভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে, তাদের একজন সর্বদা ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকতো এবং অপরজন পাপাচারে লিপ্ত থাকতো। ইবাদতে লিপ্ত ব্যক্তি সব সময় পাপাচারীকে হেয় প্রতিপন্ন করতো। একদিন সে চটে গিয়ে বলল, আল্লাহর শপথ। তুমি জাহান্নামে যবে। কথাটি আল্লাহ পাকের অপছন্দ হলো এবং ইবাদতে লিপ্ত ব্যক্তিকে জানান্নামী এবং পাপীকে জান্নাতী বানিয়ে দিলেন (আবু দাউদ, কিতাবুল বিররি ওয়াস-মিলাহ)। মহানবী (সাঃ) বলেনঃ ‘‘প্রত্যেক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত আব্রুতে হস্তক্ষেপ করা হারাম”।

‘‘তোমরা গীবত সম্পর্কে সাবধান হও। কারণ গীবত জেনার চাইতেও মারাত্মক” তার কারণ এই যে, কোন ব্যক্তি জেনা করার পর আল্লাহর নিকট তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করতে পারেন। পক্ষান্তরে যার গীবত করা হয়েছে সে ক্ষমা না করা পর্যন্ত গীবতকারীর গুনাহ মাফ হয় না। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘‘মিরাজের রাতে আমি এমন একদল লোককে অতিক্রম করলাম যারা নিজেদের নখ দ্বারা নিজেদের মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করছিল। আমি জিবরীল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তিনি বলেন, এসব লোক গীবত করতো এবং মানুষের ইজ্জত আব্রু নিয়ে টানাটানি করতো।”

হজরত জাবি্‌র (রঃ) বলেন, আমরা মহানবী (সাঃ) এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি দুইটি কবরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং কবরের বাসিন্দাদ্বয়কে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। মহানবী (সাঃ) বলেনঃ তারা দুজন খুব মারাত্মক কোন গুনাহ করেনি, অথচ তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তাদের একজন মানুষের গীবত করত এবং অপরজন পেশাব করে উত্তমরূপে পবিত্র হত না। অতপর তিনি গাছের দুইটি তাজা ডাল চেয়ে নিয়ে তা দুইভাগ করে দুইজনের কবরের পাশে গেড়ে দেন এবং বলেনঃ ডাল দুটি যতক্ষণ তরতাজা থাকবে ততক্ষণ তাদের হাল্কা শাস্তি হবে (ইবনে আবিদ দুন্‌য়া)।

উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, কারো গীবত করো না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সামনে এক নারী সম্পর্কে বললাম যে, তার কাপড়ের আচল খুব লম্বা। মহানবী (সাঃ) বলেনঃ তুমি থুথু ফেলো। আমি থুথু ফেললে মুখ থেকে এক টুকরা গোশত বেরিয়ে আসে। কোন ব্যক্তি অভিনয়ের মাধ্যমে অপর ব্যক্তির দোষ ত্রম্নটির প্রতি ইঙ্গিত করলে তাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত। গীবত শুনে আনন্দিত হওয়াও গীবতের মধ্যে গণ্য। কারণ আনন্দ প্রকাশ করলে গীবতকারী খুশি হয় এবং আরও গীবতে লিপ্ত হয়। মোট কথা, কারো গীবত শোনা এবং তা বিশ্বাস করাও গীবতের পর্যায়ে গণ্য, বরং যে নীরবে গীবত শুনতে থাকে সেও গীবতে অংশগ্রহণ করে। হাদীস শরীফে এসেছেঃ ‘‘গীবত শ্রবণকারীও গীবতকারীদের একজন” (তারাবানী)। অতএব কেউ কারো গীবত করলে তাকে বাধা দিতে হবে, বাধা দেয়া সম্ভব না হলে মনে মনে ঘৃণা করতে হবে। সম্ভব হলে গীবতের মজলিস ত্যাগ করতে হবে অথবা গীবতকারীকে ভিন্ন প্রসঙ্গে মশগুল করার চেষ্টা করতে হবে এরূপ কোন চেষ্টা না করলে অবশ্যই গুনাহ্‌গার হতে হবে। আর কারো মধ্যে গীবত শোনার আগ্রহ লক্ষ্য করা গেলে তা মোনাফেকী স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। আন্তরিকভাবে গীবতকে খারাপ জানলে এবং যথাসাধ্য তাতে বাধা দিলেই কেবল গীবতের গুনাহ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মহানবী (সাঃ) বলেনঃ ‘‘কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তিকে অপমান করা হলো এবং উপস্থিত ব্যক্তি তাকে সাহায্য করার সামর্থø থাকা সত্ত্বেও সাহায্য করল না কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তাকে সৃষ্টিকুলের সামনে অপমানিত করবেন” (আহ্‌মদ, তাবারানী)” যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের অনুপস্থিতে তার ইজ্জত রক্ষায় সহায়তা করলো, আল্লাহতা’য়ালা কিয়ামতের দিন তার ইজ্জত রক্ষায় সহায়তা করবেন,” (ইবনে আবিদ দুন্‌য়া)। ‘‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতে তার ইজ্জত রক্ষায় সহায়তা করল, তাকে দোযখ থেকে নিষ্কৃতি দেয়া আল্লাহ্‌তা’য়ালার কর্তব্য হয়ে যায়” (আহ্‌মদ, তাবারানী) মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘কেউ খারাপ কাজ করে বসলো অথবা নিজের উপর জুলুম করলো, অতঃপর আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে সে আল্লাহ্‌কে ক্ষমাকারী ও দয়াকারী হিসাবেই পাবে” (সূরা নিসাঃ ১১০)।

আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা, যেন তিনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন, এবং যাবতীয় পাপকাজ থেকে বিরত রেখে তার আনুগত্যকারী হওয়ার তৌফিক দান করেন। ০

**************************
মুহম্মদ নূরউদ্দীন
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ এপ্রিল ২০০৮