Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম
http://articles.ourislam.org/articles/175/1/aaaaaa-a-aaaaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 04/18/2008
 
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো কাদেরিয়া ত্বরিকার প্রতিষ্ঠাতা বড় পীর হজরত মুহীউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ওফাত দিবস। হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস্‌সানি আধ্যাত্মিক জগতের এ মহান কৃতী পুরুষ ওফাতপ্রাপ্ত হন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি তাই বেশ তাৎপর্যবহ।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হলো কাদেরিয়া ত্বরিকার প্রতিষ্ঠাতা বড় পীর হজরত মুহীউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ওফাত দিবস। হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস্‌সানি আধ্যাত্মিক জগতের এ মহান কৃতী পুরুষ ওফাতপ্রাপ্ত হন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি তাই বেশ তাৎপর্যবহ।

তিনি ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাতেন এবং চারিত্রিক পরিশুদ্ধি ও আদর্শিক মনোবৃত্তি গঠনের মানসে কাজ করে যেতেন।
তার সবচেয়ে বড় অলৌকিকত্ব হলো তার জবান বা মুখনিঃসৃত কথাবার্তা। এসব কথাবার্তা ও পুতঃবাণীর মধ্যে এমন আকর্ষণ ছিল যে, শ্রোতাদের মনে তা গভীর দাগ কাটত। বিনিময়ে অনেক কঠিন হৃদয়ের মানুষ ভ্রান্ত ধর্মাবলম্বী, ডাকাত সর্দার, পাপী-তাপী লোক ইসলামের অনুশাসনে ঝুঁকে পড়ত। সে ছোট্ট বয়সে তার চারিত্রিক মাধুর্য মাতৃভক্তি ও সত্যবাদিতার অভাবিতপূর্ণ দৃশ্য দেখে বাগদাদের পথে তার হাতে যে জনৈক দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার নিজ দলবল নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিল তা পাঠকমাত্রই অবগত আছেন। তার হাতে যে কত ইহুদি, খ্রিষ্টান মুসলমান হয়েছিল তার হিসাব করা মুশকিল। তিনি প্রায় সময় বলতেনঃ আমার ইচ্ছা হয় নির্জনে বসে ইবাদতে দিন গুজরান করি, কিন্তু আল্লাহ চান আমার কাছে খিদমতে খালক বা জনসেবা। তাই মানুষের বেষ্টনীর মধ্যেই আমি বসবাস করি। এতে লোকদের সত্যের পথ চিনতে সহজ হয়...।

ইতিহাস বলছে, হজরত বড় পীর কখনো কোনো রাজা-বাদশার তোয়াক্কা করতেন না। বরং অন্যায় কাজের জন্য খলিফার সমালোচনা করতেও তিনি দ্ব্যর্থহীন ছিলেন। তিনি দরবারি আলিম ও সরকারি আলিমদেরও মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন এবং সবাইকে এসব তোষামোদি নীতি পরিহার করে দীনী আদর্শ পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে থাকার পরামর্শ দিতেন। তবুও সমকালীন শাসক মনীষীরা তার দরবারে এসে ভিড় জমাতেন।

এসব কিছু তিনি পারতেন এ কারণে যে, তিনি সুখ-দুঃখ, কল্যাণ-অকল্যাণ এবং ভালো-মন্দ সবকিছুর একমাত্র শক্তি হিসেবে আল্লাহকে জানতেন। তাই তার মনে কোনো মনুষ্যভীতি ছিল না, ছিল খোদাভীতি-তাকওয়া।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী রহঃ ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবু সালেহ জঙ্গী এবং মাতার নাম সাইয়্যেদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাগদাদের নিজামিয়া মাদরাসায় তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকাহ, আকাইদ ইত্যাদি বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে লেখাপড়া করে সনদ লাভ করেন। এ প্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতাও করেন। তারপর বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমী রহঃ-এর কাছ থেকে মারিফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খিলাফতপ্রাপ্ত হন। তিনি ছিলেন জাহেরি-বাতেনি উভয় জ্ঞানে জ্ঞানবান।

৫৬১ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ওফাত প্রাপ্তির পূর্বক্ষণে তার উপদেশ ছিল, “একমাত্র আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর ইবাদত-বন্দেগি করা তোমার (তোমাদের) কর্তব্য। আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় কোরো না এবং কারো কাছে কোনো কিছু আশা কোরো না। আল্লাহ ছাড়া আর কারো প্রতি ভরসাও কোরো না। একমাত্র তাওহিদ বা একত্ববাদ ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর প্রতি নির্ভর কোরো না, যে তাওহিদ সম্বন্ধে পূর্বপুরুষরা সবাই একমত।”
 
**************************
মাওলানা মনিরুল ইসলাম রফিক
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৮ এপ্রিল ২০০৮