Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
হজ আদায়ের পদ্ধতি
http://articles.ourislam.org/articles/2/1/aa-aaaaaa-aaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 11/27/2007
 
(মুফতি মুহাম্মদ নুরুদ্দীন , জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ভারপ্রাপ্ত খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম) হজের প্রথম দিন ৭ জিলহজ ৭ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত দিনগুলোকে ‘আইয়্যামে হজ’ বলা হয়। এই দিনগুলোর মধ্যে ইসলামের একটি গুরুত্বপুর্ণ রুকন আদায় করা হয়। ৬ জিলহজের সুর্যাস্তের পর থেকে ৭ জিলহজের রাত শুরু হয়ে যায়। ইহরামের নিয়তে গোসল করে সেলাইকৃত কাপড় খুলে ইহরামের চাদর পরিধান করবে। অত:পর পুরুষ হাজিরা হারাম শরিফে আসবে এবং তাওয়াফ করবে।

হজ আদায়ের পদ্ধতি

মুফতি মুহাম্মদ নুরুদ্দীন 
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ভারপ্রাপ্ত খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম

হজের প্রথম দিন ৭ জিলহজ
৭ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত দিনগুলোকে ‘আইয়্যামে হজ’ বলা হয়। এই দিনগুলোর মধ্যে ইসলামের একটি গুরুত্বপুর্ণ রুকন আদায় করা হয়। ৬ জিলহজের সুর্যাস্তের পর থেকে ৭ জিলহজের রাত শুরু হয়ে যায়। ইহরামের নিয়তে গোসল করে সেলাইকৃত কাপড় খুলে ইহরামের চাদর পরিধান করবে। অত:পর পুরুষ হাজিরা হারাম শরিফে আসবে এবং তাওয়াফ করবে। মুস্তাহাব তাওয়াফের দুই রাকাআত নামাজ আদায় করার পর ইহরামের নিয়তে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করবে। যদি তাওয়াফ করার শক্তি না থাকে অথবা সাহস না হয় তাহলে শুধু ইহরামের নিয়তে মাথা ঢেকে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করবে। যদি মাকরুহ ওয়াক্ত হয় তাহলে নামাজ ব্যতীতই হজের নিয়ত করবে। অত:পর হজের উদ্দেশ্যে ইহরামের নিয়তে মধ্যম আওয়াজে তিনবার ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করবে।

মিনার দিকে যাত্রা : তালবিয়াহ্ পাঠের পর হজের ইহরাম বাঁধা অবস্থায় মক্কা মোকাররমা থেকে ৭ জিলহজের সুর্য উদয় হওয়ার পর মিনার দিকে যাত্রা শুরু করবে। এ সময় অধিক পরিমাণে তালবিয়াহ্ পাঠ করবে এবং দুআ পড়বে। মিনায় জোহর, আসর এবং ৮ জিলহজের মাগরিব, ইশা ও ফজরের নামাজ এই মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুস্তাহাব এবং রাতে মিনায় অবহান করা সুন্নত।

হজের দ্বিতীয় দিন ৮ জিলহজ
আরাফাহর দিকে যাত্রা : ফজরের নামাজ মিনায় আদায় করে ‘তাকবীরে তাশরীক’ এবং তালবিয়াহ্ পাঠ করে আরাফাহর দিকে ধীরে-সুস্থে যাত্রা শুরু করবে। রাস্তায় অধিক পরিমাণে তালবিয়াহ্ পাঠ করবে। আরাফাহর ময়দানে (উকুফে আরাফাহ) অবস্থনের সময় হলো, ‘জাওয়াল’ অর্থাৎ সুর্য ঢলে পড়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এজন্য জাওয়ালের পর থেকেই অবস্থন শুরু করবে। উকুফের নিয়ত করে দুআর জন্য হাত প্রসারিত করে বিনয় ও নমন্সতার সঙ্গে তালবিয়াহ্ পাঠ করবে। অত:পর রুনাজারির মাধ্যমে তওবা ইস্তিগফার করবে এবং নিজের সব গোনাহ ক্ষমার জন্য অন্তর থেকে দুআ করবে। এভাবে সুর্য অস্ত যাওয়ার পুর্ব পর্যন্ত খুশুখুযুর সঙ্গে জিকির ও দুআর মধ্যে মশগুল থাকবে।

মুযদালিফায় যাত্রা : আরাফাহর ময়দানে সুর্য অস্ত যাওয়ার পর সেখানে অথবা রাস্তায় মাগরিব ও ইশার নামাজ না পড়ে মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও ইশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবে।

পথে অধিক পরিমাণে দুরুদ শরিফ, আল্লাহর জিকির ও তালবিয়াহ্ পাঠ করতে থাকবে। মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও ইশা দুই ওয়াক্তের নামাজ ইশার ওয়াক্তে একই সঙ্গে আদায় করবে। উভয় নামাজের জন্য এক ‘আজান’ এবং এক ‘ইক্কামত’ বলবে।

নামাজের পদ্ধতি হলো নিম্নরুপ-
মুযদালিফায় পৌঁছার পর ইশার নামাজের সময় হলে প্রথমে আজান দেবে এবং ইক্কামত বলার পর নামাজ আদায়ের নিয়তে জামায়াতের সঙ্গে মাগরিবের তিন রাকাআত ফরজ নামাজ আদায় করবে। অত:পর সালাম ফিরিয়ে তাকবীরে তাশরীক এবং তালবিয়াহ্ পাঠ করবে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে কোনো ধরনের দেরি না করে ইক্কামত ব্যতীত জামায়াতের সঙ্গে ইশার ফরজ কসর নামাজ আদায় করবে এবং সালাম ফিরিয়ে তাকবীরে তাশরীক এবং তালবিয়াহ্ পাঠ করবে। অত:পর মাগরিবের দুই রাকাআত সুন্নত এবং ইশার দুই রাকাআত সুন্নত এবং তিন রাকাআত বিতর নামাজ আদায় করবে।

নামাজ থেকে ফারেগ হওয়ার পর ইবাদতে মশগুল থাকবে। তবে কিছু সময় বিশ্রাম ও আরাম করবে।

কংকর কুড়ানো : জামারাতে কংকর মারার জন্য মুযদালিফা থেকে রাতেই কংকর সংগ্রহ করা উত্তম। কিন্তু যদি এই কংকর অন্য কোনো হান থেকে সংগ্রহ করা হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা হবে না।

উকুফে মুযদালিফা (মুযদালিফায় অবস্থন) : যখন সুবহে সাদিক হয়ে যাবে তখন অন্ধকারের মধ্যেই আজান দেবে এবং ফজরের সুন্নত নামাজ পড়ে ফজরের ফরজ নামাজ জামায়াতের সঙ্গে আদায় করবে। সুবহে সাদিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুযদালিফায় অবহান শুরু হয়ে যায়। মুযদালিফায় অবহান করা ওয়াজিব। উকুফে মুযদালিফার সময় হলো সুবহে সাদিক থেকে সুর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব ফজরের নামাজ আদায়ের পর থেকে জিকির ও দুআয় মশগুল থাকবে এবং আলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই মুযদালিফা থেকে মিনায় যাত্রা শুরু করবে।

মিনায় প্রত্যাবর্তন : মুযদালিফা থেকে মিনায় ফেরার পথে তালবিয়াহ্ পাঠরত অবস্থয় মনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ ও একাগ্র হবে। এভাবে পথ চলে মিনায় পৌঁছবে।

হজের তৃতীয় দিন ১০ জিলহজ
জামরায়ে আকাবায় রমী করা : মিনায় পৌঁছার পর সর্বপ্রথম ‘জামরায়ে আকাবায়’ কংকর নিক্ষেপ করবে। কংকর নিক্ষেপের পদ্ধতি হলো-ডান হাতের বৃদ্ধ ও শাহাদাত আঙুল দিয়ে একটি কংকর ধরে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জামরার পিলারের গোড়ার দিকে কংকর নিক্ষেপ করবে। পিলারের গোড়ার কিছু ওপরে নিক্ষিপ্ত হলেও কোনো ক্ষতি নেই। এতদসত্ত্বেও এর আশপাশে গোড়ার দিকে কংকর নিক্ষেপ করা জরুরি। এভাবে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবে।

কোরবানি : জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর কোরবানি করবে। জিলহজের ১০ তারিখেই কোরবানি করা উত্তম, তবে ১০ থেকে ১২ জিলহজের সুর্যাস্ত পর্যন্ত রাত বা দিনের যে কোনো সময় কোরবানি করা যাবে।

হলক ও কসর (মাথা মুন্ডানো বা চুল কাটা) : কোরবানি থেকে ফারেগ হওয়ার পর পুরুষ হাজিরা তাদের মাথা মুন্ডাবে কিংবা মাথার চুল ছোট করে ছেঁটে ফেলবে। শরিয়তের পরিভাষায় মাথা মুন্ডানোকে ‘হলক’ এবং চুল ছোট করে কাটাকে ‘কসর’ বলে।

হলক বা কসর করার পর ইহরামের পুর্ববর্তী কানুনগুলো পালন শেষ হয়ে যাবে, অর্থাৎ হালাল হয়ে যাবে।

তাওয়াফে জিয়ারত : রমী, কোরবানি এবং মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাঁটার পর তাওয়াফে জিয়ারত করবে। তাওয়াফে জিয়ারতের পর সায়ী করবে। অর্থাৎ সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থনে সাতবার দৌড়াবে।

তাওয়াফে জিয়ারতের গুরুত্ব : স্মরণ রাখতে হবে, তাওয়াফে জিয়ারত হজের রুকন বা ফরজ। কোনো অবস্থতেই তাওয়াফে জিয়ারত ছাড়া যাবে না এবং তাওয়াফে জিয়ারতের পরিবর্তে এর বদলা করাও যাবে না; বরং শেষ জীবন পর্যন্ত তাওয়াফে জিয়ারত ফরজ হিসেবেই থেকে যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করা না হবে ততক্ষণ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা হারাম থেকে যাবে।

সুতরাং যে কোনো অবস্থায় তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করেই দেশে ফিরতে হবে। এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন তাওয়াফে জিয়ারত ছুটে না যায়।

হজের চতুর্থ দিন ১১ জিলহজ
১১ জিলহজ জাওয়ালের পর তিন জামরাতেই সাতটি করে কংকর নিক্ষেপ করবে। অর্থাৎ প্রথমে ‘জামরায়ে উলা’তে সাতটি কংকর অত:পর ‘জামরায়ে উস্তা’য় সাতটি কংকর এবং সর্বশেষ ‘জামরায়ে আকাবা’য় সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবে।

হজের পঞ্চম দিন ১২ জিলহজ : ১২ জিলহজের দিন বিশেষ কাজ হলো জাওয়ালের পর তিন জামরাতে ১১ তারিখের মতো সাতটি করে কংকর নিক্ষেপ করা। এদিনও জোহরের পুর্বে রমী করা জায়েজ হবে না। প্রথম দুই জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে কিছুক্ষণ দুআ করা। তৃতীয় জামরায় কংকর নিক্ষেপের পর অপেক্ষা না করেই চলে আসা। এদিন রমী করার পর ইচ্ছা হলে মিনায় থাকবে বা মক্কায় ফিরেও আসতে পারবে। যদি মক্কায় ফিরে আসার ইচ্ছা করে তাহলে সুর্য অস্ত যাওয়ার আগেই মিনার সীমানা থেকে বের হয়ে যাবে। অবশ্য ঝড়-তুফান বা অন্য কোনো কারণে এদিন সুবহে সাদিকের পুর্বে মিনা ত্যাগ না করে থাকলে ১৩ জিলহজ রমী করে আসা ওয়াজিব হবে। এভাবেই পবিত্র হজ সম্পন্ন হবে।

হজ থেকে প্রত্যাবর্তন এবং তাওয়াফে বিদা : হজ সম্পন্ন হওয়ার পর যখন মক্কা থেকে নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছা করবে তখন ‘বিদায়ী’ তাওয়াফ করতে হবে। এটাও ‘ওয়াজিব’। এরপর দেশের পথে রওনা হবে। এভাবেই ইসলামের একটি অন্যতম রুকন পবিত্র হজের দীর্ঘ সফর ও আমলের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে।


**************************
উৎসঃ দৈনিক আমারদেশ, ২৫শে নভেম্বর ২০০৭