নামাজে যে কাজ করলে গোনাহ হয় এবং নামাজের সওয়াব কমে যায়, কিন্তু নামাজ ভঙ্গ হয় না, এরূপ কাজকে মাকরুহ বলে। এছাড়াও নামাজের মধ্যে এমন কিছু কাজ আছে যা করলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায় এবং পুনরায় ওই নামাজ আদায় করতে হয়। যেমন-

নামাজের ভেতরে আঙুল মটকানো, কোমরে হাত রেখে দাঁড়ানো, ডানে-বামে মুখ ফিরিয়ে দেখা মাকরুহ। অবশ্য ঘাড় বা মুখ না ফিরিয়ে শুধু চোখের কোণ দিয়ে ইমামের বা কাতারের ওঠা-বসা দেখে নেয়া জায়েজ। কিন্তু একান্ত আবশ্যকতা ছাড়া এরূপ করাও জায়েজ নয়। নামাজের ভেতরে হাত উঠিয়ে ইশারা করে কারও সালামের জবাব দেয়া মাকরুহ। মুখে সালামের জবাব দিলে তবে নামাজ ভেঙে যাবে। পুনরায় ওই নামাজ আদায় করে নিতে হবে। প্রস্রাব-পায়খানার বেগ হলে তা চেপে রেখে নামাজ পড়া মাকরুহ। নামাজের মধ্যে ছারপোকায় কামড়ালে তাকে ধরে ছেড়ে দিতে হবে, কেননা নামাজরত অবস্থায় মারা উচিত নয়। আর না কামড়ালে হাত দিয়ে তাড়ানোও মাকরুহ। যখন ক্ষুধা বেশি হয় এবং খাবার তৈরি থাকে, তখন আগে খাবার খেয়ে তারপর নামাজ আদায় করতে হবে। এমতাবস্থায় খাবার না খেয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ। অবশ্য যদি নামাজের ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আশংকা থাকে বা জামাত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে আগে নামাজ পড়ে তারপর খাবার খেতে হবে। বিনা প্রয়োজনে নামাজের ভেতরে থু থু ফেলা বা নাক ঝাড়া মাকরুহ। আর যদি এগুলো করার আবশ্যকতা থাকে, তবে তা জায়েজ। যেমন কারও কাশি এসে মুখ কফে ভরে গেছে, সেক্ষেত্রে নিজের বাম দিকে ফেলে দেয়া জায়েজ। কিন্তু ডান দিকে কিবলার দিকে জায়গা থাকলেও সেদিকে থু থু ফেলা উচিত নয়। কাঠের ওপর রুমাল বা অন্য কোন কাপড় ঝুলিয়ে রেখে নামাজ করা মাকরুহ। টাকা-পয়সা, কড়ি ইত্যাদি যে কোন বস্তু মুখের মধ্যে রেখে নামাজ পড়া মাকরুহ। তা যদি এমন কোন বস্তু হয়, যার জন্য নামাজে সহীহ নিয়মানুযায়ী কোরআন পাঠ করা যায় না, তবে নামাজই হবে না। নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে।
বেহেশতি জেওর অবলম্বনে

**************************
মাকসুদা নাসরিনদৈ
নিক যুগান্তর, ১৬ মে ২০০৮