মধু মধুর মতোই সুস্বাদু একটি খাবার। এর খাদ্যমান বেশ উঁচু। শক্তি বর্ধনের জন্য মধুর ব্যবহার অনেকটাই স্বীকৃত। সর্দিকাশিতে তুলসী পাতার নিংড়ানো রসের সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়ার মতো টোটকা চিকিৎসাতেও মধুর ব্যবহার আছে। মোটকথা, প্রাচীনপন্থী ও ইসলামপন্থী লোকেরা মধুকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেও অতোদিন পর্যন্ত মধুর রোগ নিরাময় ক্ষমতার বিজ্ঞানভিত্তিক কোন প্রমাণ ছিল না। অবশ্য মধু নিয়ে তেমন গবেষণাও হয়নি। ফলে মধুর জীবাণুনাশক তথা এন্টিবায়োটিক হিসেবে কার্যকারিতার মেকানিজম জানাও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু বিশ্বাসীগণ মধুর রোগ নিরাময় ক্ষমতার কথা জানতেন। মহান আল্লাহ চৌদ্দশত বছর আগে তাঁর এক ‘উম্মী’ নবীর কাছে নাজিলকৃত কালামে এ ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। সূরা নাহলের ৬৮ ও ৬৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন-  “আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন, পর্বতগাত্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু ডালে গৃহ তৈরি কর, এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে চোষণ করে নাও এবং চল স্বীয় রবের সহজ-সরল পথে। তার পেট থেকে বের হয় নানা রঙের পানীয় যাতে রয়েছে মানুষের জন্য রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নির্দশন।” পবিত্র কোরআনের আটভাগের একভাগ অর্থাৎ আটশ’রও বেশি আয়াত প্রাকৃতিক ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্কিত তথা বিজ্ঞান সম্পর্কিত। গত কয়েক দশকের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর প্রতিটিরই উল্লেখ আছে পবিত্র কোরআনে। মহাবিশ্বের প্রসারণ থেকে শুরু করে জ্যোর্তিবিজ্ঞানের অত্যাশ্চর্য আবিষ্কারগুলোর প্রতিটিরই উলেস্নখ আছে আল-কোরআনে। দু-একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি খোলাসা হবে। মহাবিশ্বের প্রসারণের কথাই ধরা যাক। গত শতাব্দীতে আবিষ্কৃত এই তত্ত্বটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের হাজার বছরের লালিত ধারণাকে পাল্টিয়ে দিয়েছে। অথচ আল-কোরআনে চৌদ্দশত বছর আগেই তা সন্নিবেশিত আছে।

“আমি আকাশমণ্ডলীকে সৃষ্টি করিয়াছি ক্ষমতার বলে এবং নিশ্চয় আমি উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি।” (সূরা ৫১, ৪৭)

মহাশূন্য বিজয়ের কথাও কোরআন শরীফের ৫৫নং সুরার ৩৩নং আয়াতে ইঙ্গিত দেয়া আছে।

“হে জ্বিন ও মানবমণ্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করিতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায়, তাহা হইলে উহাতে প্রবেশ কর। তোমরা উহাতে প্রবেশ করিতে পারিবে না মহাক্ষমতা ব্যতিরেকে।” অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, তোমরা মহাক্ষমতা অর্জন করেই কেবল উহাতে প্রবেশ করতে পারবে। বলাবাহুল্য, এই মহাক্ষমতা হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকর্ষের বাধা অতিক্রমকারী দ্রুতগামী প্রযুক্তি অর্জন। বিগত শতকের শেষ দিকে মানুষ এই প্রযুক্তি করায়ত্ত করে এবং সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই বিবর্তন-পরিবর্তনের ধারায় তার শেষ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে সৌরজগতের অভিভাবক সূর্যের কথাই ধরা যাক। আধুনিক বিজ্ঞান মোটামুটি নিশ্চিত তথ্য-উপাত্তের সাহায্যে আমাদের জানাচ্ছে, সূর্য তার বিবর্তনের প্রাথমিক স্তরে অবস্থান করছে। সূর্যের অভ্যন্তরে হাইড্রোজেন অ্যাটম যেভাবে হিলিয়াম অ্যাটমে রূপান্তরিত হচ্ছে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিচার করে আধুনিক বিজ্ঞান এই মর্মে রায় দিচ্ছে যে, সূর্য এখনো তার বিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং এই প্রাথমিক পর্যায়ের মেয়াদ হলো দশ শত কোটি বছর। সূর্যের বয়স মোটামুটিভাবে সাড়ে চারশত কোটি বছর। থিউরি অনুযায়ী সূর্যের বিবর্তনের এই প্রাথমিক পর্যায় আগামী আরো সাড়ে পাঁচশত কোটি বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়। এক সময় সূর্যের অন্তিমদশা শুরু হবে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, সূর্যের এই অন্তিমদশার গন্তব্যস্থলটি যে কোথায়, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে সূর্যের সেই নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলের নামকরণ পর্যন্ত করে ফেলেছেন। নামটা হলঃ ‘সোলার এপেক্স’। বস্তুত গোটা সৌরমন্ডল মহাশূন্যে অবস্থিত ‘কন্‌স্‌টেলেশন অব হারকিউলাস’ (আলফা লাইরি) নামক একটি কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে চলছে। আর সেই কেন্দ্রটি মহাশূন্যের কোন স্থানে, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান তাও সঠিকভাবে নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই না, সেই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দিকে সৌরমণ্ডলের এগিয়ে চলার গতিও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ধারণ করে ফেলেছে এবং সেই গতিটি হচ্ছে মোটামুটিভাবে প্রতি সেকেন্ডে ১২ মাইল। অথচ হতবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো, আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর এই আবিষ্কারটির কথা আল-কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

“সূর্য তার নির্ধারিত স্থলের উদ্দেশ্যে পথ-পরিক্রমায় নিরত। ইহা মহাপরাক্রমশালী সুবিজ্ঞ সত্তারই নির্ধারিত ব্যবস্থা।” (সূরা ৩৬, ৩৮)

তো দেখা যাচ্ছে, আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কারগুলোর কথা আল-কোরআনে সন্নিবেশিত আছে। সে হিসেবে মধুর রোগ নিরাময় ক্ষমতা তথা জীবাণুনাশক হিসেবে মধুর কথাও উল্লেখ আছে। সুপ্রাচীনকাল থেকে মধু রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়েও আসছে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মধুকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাননি। ফলে মধু কার্যকরী ওষুধ হিসেবে নয়, পথ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে কোরআনের অনেক বর্ণনাই আজ স্পষ্ট হচ্ছে। অবিশ্বাসীর মুখে ছাই দিয়ে আল-কোরআন নিশ্চিত প্রমাণিত অত্যাধুনিক বিজ্ঞানকে ধারণ করছে। সূরা নাহনের মধু বিষয়ক উপর্যুক্ত দু’টি আয়াতেরও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে। মধু বর্তমানে এন্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে মধু একটি কার্যকরী জীবানুনাশক হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হবে।

প্রাণরসায়নবিদ প্রফেসর পিটার মোলান নিউজিল্যান্ডের ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হানি রিসার্স ইউনিট’-এর ডাইরেক্টরদের মধ্যে একজন। গত দুই দশক ধরে প্রফেসর মোলানের ল্যাবরেটরিতে মধুর জীবাণুবিধ্বংসী গুণাগুণ নিয়ে অধিকাংশ গবেষণা কার্যক্রম চলে আসছে। তিনি বলেন, “রোগ প্রতিকারে আদিকাল থেকে মধুর ব্যবহার এখন আর কোন বিশ্বাসের ব্যাপার নয়।” রোগ প্রতিকারে মধুর আশ্চর্য ক্ষমতার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এত মজবুত যে, তিনি মধু দিয়ে তার স্ত্রী ও নিজের রোগ প্রতিকারের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর একটি ফোঁড়া হয়েছিল। বাজারে প্রচলিত কোন মলমই যখন ফোঁড়া নিরাময়ে কার্যকর হচ্ছিল না, তখন আমি একদলা মানুকা মধু মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে গলিয়ে স্বচ্ছ পাতলা কাপড়ের ওপর ঢেলে গজটি ফোঁড়ার উপর বসিয়ে দিই। গলিত মধুর বিক্রিয়ার কারণে প্রয়োগকৃত স্থানের কিছু জায়গা পুড়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে মানুকা মধু ফোঁড়সহ পোড়া ক্ষতস্থান অতি দ্রুত সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয়।” উলেস্নখ্য, মানুকা মধু হলো মানুকা গাছের ফুল থেকে প্রাপ্ত মধু। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় এই গাছটি পাওয়া যায়। মৌমাছি মানুকা গাছের ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে মানুকা মধু উৎপাদন করে। মানুকা মধু অন্যান্য মধুর চেয়ে স্বাদ ও গন্ধে ভিন্নতর। মানুকা মধুর জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অন্যান্য মধুর চেয়ে অনেক বেশি।

জীবাণুনাশক হিসেবে মধুর প্রতি আকর্ষণ বাড়ার মূল কারণ হলো বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ এন্টিবায়োটিক বর্তমানে বহু জীবাণুর বিরুদ্ধে তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। জীবাণুর প্রতি ক্রমবর্ধমান এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যন্স চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুকা মধু মেথিসিলিন রেসিস্টেন্ট জীবাণু স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস কর্তৃক সংক্রমণের ফলে ক্ষতস্থান সারাতে পারে। বেশ কিছুদিন ধরে মানুকা মধুর ড্রেসিং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রথম দিকে কানাডাতেও মানুকা ড্রেসিং এন্টিমাইক্রোবায়াল হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন মানুকা ড্রেসিং বাজারজাতকরণের জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়িই এই চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

মধু এন্টিবায়োটিক হিসেবে কিভাবে কাজ করে তার মেকানিজমও বর্তমানে জানা সম্ভব হয়েছে। মধুতে পানির পরিমাণ থাকে খুবই কম। এই পানি স্বল্পতার কারণে শরীরের ক্ষতস্থান থেকে পানি চুষে নিতে পারে। ফলে সংক্রামক জীবাণু অনুকূল পরিবেশ পায় না। তাছাড়া সংক্রামক রোগের জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার কোষের তরল পদার্থের চেয়ে মধুর ঘনত্ব বেশি বলে মধু জীবাণুর সংস্পর্শে এলে ব্যাকটেরিয়ার কোষ থেকে পানি বেরিয়ে মধুতে চলে আসে। ফলে পানি শূন্যতার কারণে জীবাণুর কোষ ধ্বংস হয়ে যায়।

অন্যদিকে, মধু সংগ্রহকারী কর্মী মৌমাছি ফুল ও ফল থেকে সংগৃহীত রসে গ্লুকোজ অক্সিজেন নামের একটি এনজাইম নিঃসরণ করে। মধু সিক্ত ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে আসার পর গ্লুকোজ অক্সিজেন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড নামের একটি রাসায়নিক উপাদান উৎপন্ন করে যা সংক্রামক রোগে জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মধু সংক্রামক রোগের প্রতিকারের প্রচলিত সনাতন রীতি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। কিন্তু পরবর্তীতে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি আলেকজান্ডার ফ্লেমিং কর্তৃক পেনিসিলিন (এন্টিবায়োটিক) আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে মধুর জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব কমতে থাকে। বর্তমানে অনেক প্রচলিত এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মধু আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০০০ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, নতুন নতুন সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ১৯৭০ সাল থেকে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য এন্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়নি। বর্তমান বাজারে প্রচলিত বহুল ব্যবহৃত প্রতিটি এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগের জন্য দায়ী বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া ইতোমধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে। আশা করা হচ্ছে, সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ও প্রতিকারে মদু এই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে। মানুকা মধুকে ইদানীং বিশ্বের ‘অলৌকিক প্রাকৃতিক সম্পদ’ বা ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক গোপন রহস্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। প্রফেসর মোলান ওয়াইকাটা হাসপাতালে মেথিসিলিন রেজিস্টেন্ট স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট প্রতি আলসারে মানুকা ড্রেসিং প্রয়োগ করে আশাতীত সাফল্য পাচ্ছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন পাকস্থলীর আলসার, বেডমোর এবং সাইনাস সংক্রমণ রোধে মধু উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আরো একটি ভয়ঙ্কর রোগের ক্ষেত্রে মধু আশাতীত ফল দিচ্ছে। বিশ্বের ১৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী পায়ের আলসারে ভুগেন। ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে রক্ত চলাচল কম হয় বলে রক্ত পায়ের ক্ষতস্থানে প্রচলিত এন্টিবায়োটিক পৌঁছে দিতে পারে না। এই আলসারের কারণে বিশ্বে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একটি পা কেটে ফেলতে হয়। মধুর কার্যপ্রণালী ভিন্ন বলে এক্ষেত্রে মধু এন্টিবায়োটিকের চাইতে অধিক কার্যকর। মধুর এসিডিক পিএইচ, মধুতে পানি স্বল্পতার কারণে জীবাণুর ডিহাইড্রেশন ক্ষমতা এবং এনজাইমের উপস্থিতিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের সংশ্লেষণ জীবাণু ধ্বংসে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানী তাদের গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, মৌমাছি কর্তৃক উৎপাদিত বিশেষ কিছু পদার্থ শরীরে টিউমার বৃদ্ধি রোধ করতে সক্ষম। যদিও এসব গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও আশা করা যায় ফলপ্রসূ গবেষণার মাধ্যমে মধু অদূর ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এতোদিন মধুকে নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়নি। আল্লাহ পাকের ঘোষণা অনুযায়ী মধুর ভেতরে জীবাণুনাশক গুণাগুণ অবশ্যই রয়েছে। উন্নত গবেষণায় আস্তে আস্তে আল্লাহর ঘোষণার সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত, উন্নত গবেষণায় মধু অদূর ভবিষ্যতে এক বিকল্প এন্টিবায়োটিক ও জীবাণুনাশক হিসেবে সমগ্র বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হিসেবে আবির্ভূত হবে। আল্লাহ বলেন- “আল-কোরআন মহাবিজ্ঞানময় গ্রন্থ।” (৩৬:২) “ইহা অবতীর্ণ হয়েছে মহাপরাক্রমশালী মহাবিজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ হইতে।” (৩৯ঃ১) সুতরাং এই মহাগ্রন্থের কোন বাণী সত্য না হয়ে পারে না। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে, মহাগ্রন্থের বাণীর সত্যতা ততই মূর্ত হয়ে উঠছে।


**************************
লেখকঃ  মুহাম্মদ ফজলুল হক
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ০৭ ডিসেম্বর ২০০৭