- Home
- ইসলাম ও মানবতা
- শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী (সা)
শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী (সা)
- By Article Poster
- Published 06/9/2008
- ইসলাম ও মানবতা
- Unrated
বিশ্ব জাহানের শান্তির অগ্রদূত আখেরি নবী (সা•) মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি আদর্শ জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করে সর্বাধিক কৃতিত্বের আসনে সমাসীন হয়েছেন। যার প্রশান্তি সর্বকালের ও সর্বযুগের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মুখে মুখে বিধৃত। নবী করিম (সা•) শ্রমিকদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘এরা তোমাদের ভাই, তোমাদের খিদমত করছে। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তাই যে ভাই যার অধীনে রয়েছে, যা সে নিজে খায়, তাকে তা থেকে খেতে দেবে। যা সে নিজে পরে, তা-ই তাকে পরাবে। আর যে কাজ তার জন্য অতি কষ্টকর, সে কাজের বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেবে না। অগত্যা যদি সে রকম কাজ করাতেই হয়, তবে নিজে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তাকে সাহায্য করবে।’ (বুখারি শরিফ)
শ্রমিক বলতে সাধারণত কর্মচারী শ্রেণী, দিনমজুর, কুলি, তাঁতি, জেলে, কৃষক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, গাড়িচালক, রাজমিস্ত্রি, ছুতার মিস্ত্রি ও হেলপার প্রভৃতি পেশাজীবীকে বোঝায়। যদি তার মজুরি আজ না দিয়ে আগামীকাল দেয়ার জন্য রেখে দেয় কিংবা মেরে দেয়, তাহলে সে টাকার অভাবে খাবার কিনতে না পেরে ছেলেমেয়েসহ সারা রাত-দিন অভুক্ত কাটাবে। এ কারণেই মহানবী (সা•) শ্রমিককে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দেয়ার জন্য বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন।
নবীজী (সা•) আল্লাহ পাকের নির্দেশকে জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, অকর্মণ্য অলস ব্যক্তি আল্লাহর অপছন্দনীয় এবং উপার্জনকারী কর্মঠ ব্যক্তি আল্লাহর পছন্দনীয়। নবীজী (সা•) নিজে শ্রম করতেন আর অপরকে উৎসাহিত করতেন। তিনি নিজের জামা নিজে ধৌত করতেন এবং নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন। নিশ্চয় হজরত দাউদ (আ•) নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্যান্য নবী-রাসূলও নিজেদের কাজ নিজেরাই করতেন। নবী করিম (সা•) শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষকে অত্যন্ত সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতেন। এ জন্য যে, যারা সৃষ্টির কল্যাণের জন্য নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, শরীরের রক্ত পানি করে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে, নিজেদের ঘাম ঝরায় মানুষের সুখের জন্য, শান্তির জন্য, মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, নিজেদের তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেয়; নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দেয়, তারা মহান আল্লাহর দরবারে বড় মর্যাদার অধিকারী।
মহানবী (সা•) যখন শ্রমজীবী কাউকে অসচ্ছল ও দুর্দশাগ্রস্ত দেখতেন, তখন তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন এবং বিত্তশালীদের তার প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। কোন দাস-দাসী, অভাবি, গরিব বা সেবাকর্মে নিয়োজিত কাউকে বিবস্ত্র কিংবা মলিন কাপড়ে দেখলে তার মালিককে এ অবস্থার জন্য সাবধান করে দিতেন। তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে বলতেন। নবী করিম (সা•) বলেন, ‘তার চেয়ে উত্তম কোন আহার নেই, যা মানুষ তার নিজের হাতে উপার্জন করে আহার করে।’ রাসূলে করিম (সা•) শ্রমিকদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘শ্রমিকদের এমন কাজে বাধ্য করা যাবে না, যা তাদের অক্ষম ও অকর্মণ্য বানিয়ে দেবে।’
‘তাদের ওপর এতখানি কাজের চাপ দেয়া যেতে পারে, যতখানি তদের সামর্থেø কুলায়। সাধ্যাতীত কোন কাজের নির্দেশ কিছুতেই দেয়া যাবে না’ (মুসলিম শরিফ)। শ্রমিকদের বেতন, উৎপাদিত পণ্যে তাদের অংশ ইত্যাদি সম্পর্কে মহানবী (সা•) বলেছেন, ‘শ্রমিকদের বেতন নির্দিষ্ট না করে তাকে কাজে নিযুক্ত করা যাবে না’ (বায়হাকি)। মানুষের নিজের হাতের কাজের বিনিময় এবং সৎ ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা উত্তম উপার্জন। (আহমদ) শ্রমিককে তার কাজ থেকে অংশ দান কর। কারণ আল্লাহর শ্রমিককে কিছুতেই বঞ্চিত করা যেতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল)। ‘তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই যে অধীনস্থদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।’
পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘যাদের যা প্রাপ্য তার থেকে কাউকে বঞ্চিত করো না।’ নবীজী (সা•) জুলুমের পরিণাম কি হতে পারে, তা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জুলুম-শোষণ কিয়ামতের দিন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে।’ অর্থাৎ অন্ধকারে মানুষ যেমন দিশেহারা হয়ে যায়, কাউকে সাহায্যকারী পায় না, ঠিক তেমনি জালিম কিয়ামতের দিন অসহায় হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা মানুষকে অত্যাচার ও শোষণ কর না।’ ‘মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, যে জাতি নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করে না, আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেন না।’ মহানবী (সা•) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে ভিক্ষা করে, আমি তাকে দিয়ে দেই, আর যে ব্যক্তি ভিক্ষা থেকে বিরত থাকে অথবা আল্লাহর কাছ থেকে সমৃদ্ধি চায়, আল্লাহ তাকে সমৃদ্ধি দান করেন। আর যে ব্যক্তি আমার কাছে ভিক্ষা করে না, সে আমার কাছে ভিক্ষুকের চেয়ে অধিক প্রিয়। (বোখারি শরিফ)। ভিক্ষাবৃত্তির ওপর শ্রমের মর্যাদা দেয়া হয়েছে এবং ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করা হয়নি।
অন্য হাদিসে আছে, দু’প্রকার লোকের পক্ষে ভিক্ষা করা নাজায়েজ। ১• ধনী ২• সুস্থ সবল ব্যক্তি। (আবু দাউদ, তিরমিযি) মহানবী (সা•) বলেন, তোমাদের অধীনস্থ ব্যক্তিদের তোমরা তোমাদের আপন সন্তানদের মতো স্নেহ-সমীহ কর। শ্রমিকের মজুরি আদায় না করার পরিণতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভয়াবহ কিয়ামতের দিন আমার মমতাময়ী আশ্রয় থেকে সেই ব্যক্তি বঞ্চিত হবে যে কোন শ্রমিককে নির্ধারিত পারিশ্রমিক দেয়ার চুক্তিতে নিয়োগ করে, অতঃপর তার কাছ থেকে পূর্ণ শ্রম ও কাজ আদায় করে নেয়; কিন্তু তাকে পূর্ণ পারিশ্রমিক দেয় না। শ্রমিকের অধিকার হল তার পারিশ্রমিক ঠিকমতো পাওয়া।
সংকটে মুসলিম বিশ্বের করণীয়
প্র কৌ শ লী মোঃ আ রি ফু ল ই স লা ম
বিশ্বায়ন (মষড়নধষরংধঃরড়হ) হল আন্তর্জাতিক অর্তনীতির একটি নতুন প্রপঞ্চ। এর মূল কথা হল- ’ঞযব ঢ়ৎড়পবংং ড়ভ রহঃবমৎধঃরড়হ’• বিশ্বায়নের প্রধান কাজ হল অর্থনৈতিক উদারীকরণ। এক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ করতে হবে এবং বাজার ও বিনিয়োগকে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
জাতি-রাষ্ট্রের প্রধান উপাদান হল সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক সীমারেখা। সার্বভৌমত্ব হল জাতি-রাষ্ট্রের স্বীয় নীতির উপর একচ্ছত্র আধিপত্য। আর ভৌগোলিক সীমারেখার মূল কথা হল, একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় জাতি-রাষ্ট্রের অবস্থান এবং এ সীমানার ভেতর অন্য কারও কোনরকম হস্তক্ষেপ চলে না। কিন্তু বর্তমান গ্লোবালাইজেশনের বিভিন্ন নীতিমালা এমনভাবে প্রণীত হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং ভৌগোলিক সীমানাও আজ তত্ত্বগত। কারণ বিশ্বায়ন বলে ঋৎবব ধপপবংং ড়ভ চৎড়ফঁপঃরড়হ বা ওহাবং:সবহঃ এর নামে এক দেশের ভূখণ্ড ও কাঁচামালের ওপর অন্য দেশের পুঁজিপতির নিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্বের কতিপয় নীতিমালা এমনকি অনেক সময় এর অস্তিত্বকেই বাতিল করে দিচ্ছে।
১• বিশ্বায়ন বাণিজ্য উদারীকরণের কথা বলে। এ বাণিজ্য উদারীকরণের জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে এমনভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তার দেশীয় স্বার্থ রক্ষা করার মতো যথেষ্ট স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকে না। সাহায্যের অজুহাতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক মূলত বিশ্বায়নের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে।
২• বিশ্বায়নে ওপেন মার্কেট বা মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলা হয়, যেখানে পণ্যের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। এ অবাধ যাতায়াতের জন্য দেশীয় কোন ধরনের নীতিমালা আরোপ করা যাবে না। অনেক সময় দেশীয় পণ্যকে প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষার জন্য জাতি-রাষ্ট্রগুলো সংরক্ষণ নীতিমালা গ্রহণ করে বিদেশী পণ্যকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু সেটা বিশ্বায়নের/মুক্তবাজার অর্থনীতির বিপক্ষে যায়। এভাবে দেশীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সার্বভৌমত্ব জাতি-রাষ্ট্রের থাকছে না।
৩• বিশ্বায়ন বেসরকারিকরণের (চৎরাধঃরংধঃরড়হ) কথা বলে। অথচ বে-সরকারিকরণ অনেক সময় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আত্মঘাতী পদক্ষেপে পরিণত হয়। বাংলাদেশে আদমজী পাটকল বন্ধ করে দেয়ায় হাজার হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে এবং উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে আর্থ-সামাজিক কাঠামোয়। এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চাপে। তাহলে সার্বভৌমত্ব থাকল কোথায়? যখন অন্যের পরামর্শে নিজের জন্য অকল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিতে হয়; তখন তাকে আর যা-ই বলা হোক, সার্বভৌম আচরণ বলা যাবে না।
৪• বিশ্বায়নের ফলে এক বিশ্ববাজার তৈরির কথা বলা হয়, যে বিশ্ববাজারের কোন ভূখণ্ডগত সীমানা থাকবে না। বিনা শুল্কে এক দেশের পণ্য অন্য দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে। বিশ্বায়নের এ নীতি সার্বভৌম ক্ষমতা চর্চার অনুকূল নয়। তাছাড়া এ নীতি জাতীয় সীমানার অস্তিত্বকে স্বীকার করছে না। এভাবে জাতি-রাষ্ট্র আজ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
৫• বিশ্বায়ন উন্মুক্ত বাণিজ্যে অংশগ্রহণের কথা বলে। অথচ সব দেশেরই উন্মুক্ত বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া সম্ভব নয়। অথচ বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যায় চাপে এ সিদ্ধান্ত দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামোর দেশগুলোকে মেনে নিতে হচ্ছে। উপমহাদেশের এভাবে সার্বভৌমত্বের ধারণা আজ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
এবার আসা যাক মুসলিম বিশ্বের কথায়। উপমহাদেশের মুসলমানদের আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, ধর্মচর্চা আলীগড়, দেওবন্দ ও আজমীর এই তিন মতাদর্শ দ্বারা গঠিত ও প্রভাবিত। আলীগড় মডেল সেসব মুসলমানের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা সহজাতভাবে আধুনিকতাকে গ্রহণ করে ইসলামের মৌলিকতাকে ধরে রেখে। সে আধুনিকতায় ইসলাম দূষিত হয় না, সে আধুনিকতাকে সানন্দে বরণ করে নেয় এ মডেলের অন্তর্ভুক্ত মুসলমানরা। মালয়েশিয়া বা তুরস্ক, সেখানে মুসলিম সমাজ নিজেদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করছে আবার ধর্মীয় ঐতিহ্যও লালন করছে।
বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশে ১•৩ বিলিয়ন (প্রায়) মুসলমানের বাস। এই মুসলিম বিশ্বের জনগুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হল, বিশ্বের মোট মুসলমানের এক-তৃতীয়াংশ বাস করে অমুসলিম দেশে। আমেরিকায় এই পরিসংখ্যান ৭ মিলিয়ন এবং ব্রিটেনে ২ মিলিয়ন। এককথায়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে মুসলমানদের বসবাস। আর সেজন্যই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বরাবরই প্রাধান্য পেয়ে আছে ‘মুসলিম’ শব্দটি। দুঃখের বিষয় হল, অনেক অমুসলিম দেশ তথা পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামকে সহজে বুঝতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেদেশের ৭৫ ভাগ নাগরিক ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না এবং ইসলামকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে।
আমরা সবাই জানি, ইসলাম ধর্মে সুদ, ঘুষ, হারাম, পণ্যের ওজনে কম দেয়া, ভেজাল মেশানো কিংবা পচা দ্রব্যাদি ভালো হিসেবে চালিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ। ইত্যাকার আরও বহু কূটকৌশল ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ অথচ এগুলোই হচ্ছে অমুসলিম তথা পশ্চিমা বিশ্বের অনুসারীদের ব্যবসায়ের প্রধান কৌশল। তাহলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় (ইসলামের নীতির সঙ্গে অমুসলিমদের নীতির পার্থক্যের কারণে) মার খেয়ে যাচ্ছে মুসলিম বিশ্ব।
কূটনৈতিক পারদর্শিতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক ঘাটতি (:ৎধফব ফবভরপরঃ) কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। সেখানেও (কূটনীতিতে) রয়েছে হাজার রকমের চালবাজি; যথা- মিথ্যা বলাঃ ইত্যাদি। অথচ ইসলাম ধর্মে রয়েছে ‘মিথ্যাই সমস্ত পাপের মূল’। আরও বহু কারণে মুসলিম দেশগুলো পশ্চাৎপদ। যেমনঃ ঔপনিবেশিকতা ও নয়া ঔপনিবেশিকতা; স্বনির্ভরতা অর্জনে দাতা দেশের বাধা সৃষ্টি; বৈদেশিক সাহায্যের নামে ঋণের বোঝা; উন্নত দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ; বিভিন্ন ভ্রান্তিমূলক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি; উন্নত দেশের (যেমন- যুক্তরাষ্ট্র) সামরিক ঘাঁটি স্থাপন; পুতুল সরকার গঠন; রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা; সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশ (পর্নোগ্রাফি, ফ্রি সেক্স ইত্যাদি); সামরিক অভ্যুত্থান (থাইল্যান্ড, পাকিস্তানঃ); বিপর্যস্ত অর্থনীতিঃ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শোষণের ফলে উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতি খুবই বিপর্যস্ত। তাছাড়া শিল্পায়নের জন্য যে প্রযুক্তিবিদ্যা বা কূটকৌশল দরকার তা এদের নেই।
অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না বা এতদিন হতে পারেনি, যে সংকীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো তাদের স্বার্থে চালু করে গিয়েছিল। বিদেশী শক্তিসমূহ তাদের প্রভাব কায়েম করতে স্থানীয় (দেশীয়) সংস্কৃতি ধ্বংসের সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করে চলেছে। ঈঁষঃঁৎধষ ঢ়বৎাধৎংরড়হ তথা ভ্যালেন্টাইন্স ডে, থার্টিফার্স্ট নাইটসহ হ্যালোইন সংস্কৃতি এবং ‘কোকাকোলা’ সংস্কৃতির মধ্যে দেশের তরুণ সমাজকে বুঁদ করে রেখে মাথা জাগাতে দিচ্ছে না। প্রাণঘাতী এইড্স এবং মরণ নেশার ট্যাবলেট ‘ইয়াবা’সহ নিত্যনতুন নেশার উপকরণ তারাই তৈরি করছে যাতে তরুণ সম্প্রদায় মেধা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হতে না পারে। ফলে সমাজে শিক্ষা এবং আদর্শের অভাবের কারণে মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধের অভাব ঘটেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ৫৭টি মুসলিম দেশের নিজেদের মধ্যে কোন বিশ্বায়ন হচ্ছে না? হ্যাঁ, তারা হতে পারে একত্রীভূত ও শক্তিশালী। তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্বের মুসলমানরা তিনটি আলাদা আলাদা গতিধারায় পরিচালিত হচ্ছে। যেগুলোকে আলীগড়, দেওবন্দ ও আজমীর মডেল হিসেবে নাম দেয়া হয়। এদের মধ্যে বিশ্বায়নের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক মিথস্কিয়তা, যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আলোচনার নতুন নতুন টেবিল তৈরি করার বিকল্প নেই। ডায়ালগ বা আলোচনা জ্ঞান বাড়ায়, সৃষ্টি হয় বোঝাপড়া। সব মুসলমানের আল্লাহ্ এক, রাসূল (সা•) এক এবং একটি মাত্র কোরআন ও হাদিসের
পথ অনুসরণ করে ফিরকাবাজি ভুলে গিয়ে এক কাতারে দাঁড়াই না কেন? যোগাযোগের বিশ্বায়ন তৈরি হলে বাকিগুলো হয়ে যাবে।
**************************
মা সু দা বে গ ম
যুগান্তর, ৩০ মে ২০০৮