Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
বৃক্ষরোপণ সওয়াবের কাজ
http://articles.ourislam.org/articles/266/1/aaaaaaaaaa-aaaaaaa-aaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 06/6/2008
 
বৃক্ষ আল্লাহর দান, প্রকৃতির অপূর্ব শোভা। বৃক্ষবিহীন পৃথিবী মলিন। বৃক্ষ মানবসহ তাবৎ প্রাণীকুলের বন্ধু। বৃক্ষ সকলকে জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। বৃক্ষ থেকে আমরা পাই জীবন ধারণের জন্য খাদ্য, জ্বালানি, বস্ত্র তৈরির সুতো, ঘর-বাড়ী নির্মাণের কাঠ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য সমাগ্রী ও ঘর সাজানোর আসবাব। দুনিয়া থেকে বিদায়কালেও বৃক্ষ আমাদের কাজে আসে। যে খাট ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু কাঠের তৈরি। বৃক্ষ প্রকৃতির শেষ্ঠ সম্পদ। বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আবহাওয়া আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ রাখে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বৃক্ষ বৃষ্টিপাত ঘটায়।

বৃক্ষরোপণ সওয়াবের কাজ

বৃক্ষ আল্লাহর দান, প্রকৃতির অপূর্ব শোভা। বৃক্ষবিহীন পৃথিবী মলিন। বৃক্ষ মানবসহ তাবৎ প্রাণীকুলের বন্ধু। বৃক্ষ সকলকে জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। বৃক্ষ থেকে আমরা পাই জীবন ধারণের জন্য খাদ্য, জ্বালানি, বস্ত্র তৈরির সুতো, ঘর-বাড়ী নির্মাণের কাঠ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য সমাগ্রী ও ঘর সাজানোর আসবাব। দুনিয়া থেকে বিদায়কালেও বৃক্ষ আমাদের কাজে আসে। যে খাট ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু কাঠের তৈরি। বৃক্ষ প্রকৃতির শেষ্ঠ সম্পদ। বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আবহাওয়া আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ রাখে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বৃক্ষ বৃষ্টিপাত ঘটায়। এছাড়া ভূমিক্ষয় রোধ এবং ঝড়-বন্যা থেকেও বৃক্ষ আমাদের রক্ষা করে। মাটিকে সরস ও উর্বর করতে বৃক্ষের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। বৃক্ষকে কাজে লাগিয়ে দিন দিন আমরা উন্নতি লাভ করছি আজ যে সভ্য সমাজের কথা বলা হয় তা কিন্তু শিক্ষার কল্যাণে। আর এই শিক্ষার অন্যতম বাহন হলো কাগজ। কাগজ তৈরি হয় বাঁশ, কাঠ, খড় ইত্যাদি বৃক্ষদ্বারা। বর্তমানে রাবার শিল্প একটি জনপ্রিয় শিল্প। এই রাবারও গাছ থেকে তৈরি। গাছ থেকে পাচ্ছি আমরা রঙ ও সুগন্ধির মতো নানা উপকারী বস্তু। আমাদের রোগ নিরাময়ের অধিকাংশ ওষুধ গাছ থেকে তৈরি হয়। এমনকি বনের পশুরা অসুস্থ হলে লতাপাতা খেয়েই তারা সুস্থ হয়। বাঘের প্রধান খাদ্য মাংস। কিন্তু যখন যে অসুস্থ হয় তখন ঘাস খেতে আরম্ভ করে। আল্লাহর সৃষ্টির বড় একটি অংশ হলো উদ্ভিদ জগৎ। আল্লাহ তার এই সৃষ্টি সম্পর্কে মানুষকে ভাবতে বলেছেন্‌। আ্‌ল-কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে-“তারা কি জমিনের প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের কতো উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি। নিশচয় এতে নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।” (সূরা শো’য়ারা, আয়াতঃ ৭-৮) বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে মানুষ ও পশুর অফুরন্ত রিজিক। আল-কোরআনে আল্লাহ বলেন- “মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক, তাহলে তারা দেখতে পারে যে, তাদের জন্য প্রচুর পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা আরো দেখেতে পাবে, পৃথিবীর মাটিকে আমি নানা ভাগে বিভক্ত করেছি। কেনো মাটিতে শস্য উৎপন্ন হচ্ছে আবার কোথাও আঙ্গুর। কোথাও তাজা সবজি, জয়তুন ও খেজুর। অনেক জায়গায় উদ্যান করা হয়েছে, সেই সব উদ্যানে নানা ফলের গাছ ও তৃণ রয়েছে। যা তোমাদের ও তোমাদের পশুদের জন্য উপকারী।” (সূরা আবাসা, আয়াত ২৪-৩২) আল-কোরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে;” আর তিনি সৃষ্টি করেছেন বৃক্ষ ও লতাপাতা সমৃদ্ধ বাগান এবং খেজুরগাছ ও শস্যক্ষেত যে সবের স্বাদ বিশিষ্টি। তিনি জলপাই ও আনার গাছ সৃষ্টি করেছেন, যার ফল বাহ্যিক রূপে পরস্পর সদৃশ এবং স্বাদ ভিন্ন। তোমরা তার উৎপাদন খাও, যখন ফল আসে এবং তার হক আদায় কর এই সবের ফসল আহরণের দিন। কিন্তু কখনো তা অপচয় কারো না বা মাত্রাতিরিক্ত ভোগে লিপ্ত হয়ো না।” (সূরা আনআম, আয়াতঃ ১৪১) আমরা বেশিরভাগ রিজিক পাচ্ছি বৃক্ষ থেকে। কিন্তু এই রিজিক ভোগ করার জন্য আমাদেরকে বাগান কিংবা শস্য খেত আবাদ করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগতে হবে। সামান্য জমি খালি না পড়ে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। সামান্য জমি খালি না পড়ে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাদ্য সংকট এবং দুর্যোগ থেকে বাঁচতে এখন প্রয়োজন পৃথিবীকে সবুজ করা। গাছের ছায়ায়ই শান্তিময় হতে পারে মানবজীবন।

ইসলাম কল্যাণের ধর্ম। যতো কল্যাণকর কাজ আছে ইসলাম তা করার জন্য মানুষকে সর্বদা উৎসাহিত করে। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বৃক্ষরোপণ একটি কল্যাণকর কাজ। এ জন্যই ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নিজে গাছ লাগিয়েছেন এবং অন্যকেও উৎসাহিত করেছেন। নবীজী (সাঃ) বলেন - “তুমি যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পাও যে, কেয়ামত এসে গেছে, তথাপি তোমার হাতে রোপণযোগ্য কোনো চারা থাকলে তা লাগিয়ে দাও।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন- “যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনো শস্য ফলায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা প্রাণী ভক্ষণ করে তাহলে তার জন্য তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে, (বোখারী-মুসলিম)

নিজে ফল ভোগ না করতে পারলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গাছ লাগিয়ে যাওয়া ইসলামের ফরমান। সাহাবীরা সেই অভ্যাসই গড়ে ছিলেন। একবার জনৈক ব্যক্তি হযরত আবু দারদা (রাঃ)-এর কাছে এসে দেখতে পেলেন তিনি আখরোটের চারা রোপণ করছেন? লোকটি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, আপনি এই বার্ধ্যক্যে আখরোটের চারা রোপন করছেন? এতো তো ফল আসতে অনেক সময় লাগবে। জবাবে আবু দারদা বললেন, তাতে ক্ষতি কি? আমি না খেতে পারলেও অন্যারা খাবে, আর আমি তার সওয়াব পাব।” গাছ লাগনো এবং তা পরিচর্যা করা সওয়াবের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন “যে ব্যক্তি একটি বৃক্ষ রোপণ করল এবং ফলদান পর্যন্ত তত্ত্বাবধান করল, ওই বৃক্ষের প্রত্যেকটি ফলের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে তার জন্য রয়েছে সদকা, অর্থাৎ দানের সওয়াব।”

প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ গাছ। এই সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব মানুষেরই। অকারণে মানুষ গাছ কাটবে না এবং শস্য নষ্ট করবে না। জরুরি পরিস্থিতি তথা যুদ্ধের সময়ও নবীজী বৃক্ষ এবং শস্য রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন। একবার একব্যক্তি একটি গাছের পাতা ছিঁড়লে নবীজী তাকে বললেন-“প্রত্যেকটি পাতা আল্লাহর মাহিমা ঘোষনা করে।” নবীজীর এই বাণী থেকে বুঝা গেল বৃক্ষ কেবল মানুষের উপকারের জন্যই নয়; বরং তারা আল্লাহর তাসবিহ পাঠেও রত। বৃক্ষ নিধনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সাহাবী ইবনে সাঈদ(রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- ‘মদীনার প্রত্যেক প্রান্তে সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে যাতে গাছপালা মুণ্ডানো এবং কর্তন করা না হয়। তবে উট খায় তা ব্যতীত” (আবু দাউদ)

পৃথিবীকে সুবজ করার দায়িত্ব আমাদের। কেননা কুলমাখলুকাতের মধ্যে মানুষই একমাত্র এই দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতিনিধি। মানুষ ব্যাপকভাবে ফলফলারী ও শস্যের আবাদ করে নিজে খাবে এবং অন্যকেও খাওয়াবে। যেদিন পৃথিবী সবুজে ভরে যাবে সেইদিন আমরা সর্গীয় শান্তি উপভোগ করতে পারব। আল্লাহ সবাইকে বৃক্ষ রোপণের গুরুত্ব বোঝার তাওফিক দিন।

**************************
মী যা নু র  রা হ মা ন  রা য় হা ন
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৬ জুন ২০০৮