- Home
- জীবন ও কর্ম
- শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ
- Home
- জীবন ও কর্ম
- অলী-আউলিয়া
- শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ
শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ
- By Article Poster
- Published 06/6/2008
- জীবন ও কর্ম
- Unrated
হজরত শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ বাংলাদেশের কয়েকজন প্রবীণ আলেম ও পীর কামেলের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত) থেকে ১৯৫০-৫১ সালে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। অতঃপর উস্তাদ শায়খুল ইসলাম কুতবে আলম হজরত মাওলানা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ-এর পবিত্র হস্তে বয়আত গ্রহণ করেন।
হজরত শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ ১২ বছর ৫ মাস দেওবন্দে অবস্থান করে শায়খুল ইসলাম হজরত মাদানী রহঃ-এর কাছে ছহি বোখারি শরিফ ও তিরমিযী শরিফের পাঠ গ্রহণ করেন। আল্লামা ইব্রাহিম বলিয়াবী রহঃ-এর কাছে মুসলিম শরিফ শিক্ষালাভ করেন। তার অন্য উস্তাদদের মধ্যে ছিলেন শায়খুল আদব ওয়াল ফিকহ হজরত আল্লামা এজাজ আলী রহঃ, হজরত আল্লামা ফখরুল হাসান রহঃ, হাকীমুল ইসলাম মাওলানা ক্বারী তৈয়ব রহঃ, শাহ ছাহেব হজরত মাদানী রহঃ-এর প্রিয়ভাজন খলিফা ছিলেন। হজরত রহঃ-এর খানকায় শাহ ছাহেব ৫ বছর অবস্থানকালে হজরত রহঃ-এর নির্দেশে মুরিদগণের সবক বাতলানোর দায়িত্ব পালন করতেন। ইলমে সলুকের একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন শাহ ছাহেব রহঃ। হজরত মাদানীর রহঃ মুরিদগণের একটি অংশ শাহ ছাহেবের কাছে রুজু করেন এবং সলুকের সবক সমাপ্ত করে শাহ ছাহেব রহঃ থেকে ইজাজত ও খেলাফত লাভ করেন। শাহ ছাহেবও দেওবন্দ থেকে চট্টগ্রাম প্রত্যাবর্তনের পর হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত হন। মাদ্রাসার মুহতামিম হজরত থানভী রহঃ-এর বিশিষ্ট খলিফা হজরত আল্লামা আবদুল ওয়াহাব রহঃ শাহ ছাহেবকে খুবই স্নেহ করতেন। তিনি চট্টগ্রাম শহরের মোজাহেরুল উলুম মাদ্রাসা, বাথুয়া মাহমুদিয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা, সাতকানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকতা করেন।
শাহ ছাহেব দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীকাল ইসলাম ও সলুকের খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। অনেক বড় বড় আলেম শাহ ছাহেবের হাতে বয়আত গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের নানুপুর জামেয়া ওবাইদিয়ার শায়খুল হাদিস হজরত আল্লামা হাফেজ মোঃ হারুন, জিরী মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস হজরত মাওলানা আহমদুর রহমান, ঢাকার পীরজঙ্গী মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মুফতি সুলাইমান ইবনে আলী, মাওলানা আবদুর রহিম ইসলামাবাদী, মাওলানা হাফেজ জাফর (নাজিরহাট মাদ্রাসা), মাওলানা হাবীবুল্লাহ (রাঙ্গুনিয়া) শাহ ছাহেবের খলিফাদের অন্যতম।
হজরত শাহ আবদুস সাত্তার রহঃ আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। আমার বাসা ও অফিসে তিনি কয়েকবার এসেছেন আমার দাওয়াতক্রমে। আমিও তার গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছেছি তার সাথে দেখা করার জন্য। তার যে ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা ও দোয়া পেয়েছি তা ভোলার মতো নয়।
তিনি গত ১২ এপ্রিল ২০০৮ শনিবার রাত পৌনে চারটায় ৮৬ বছর বয়সে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর গ্রামে ইন্তেকাল করেন। তিনি স্ত্রী, ৭ ছেলে, ২ মেয়ে ও অসংখ্য ভক্ত মুরিদ, খলিফা ও ছাত্র রেখে গেছেন।
হজরত শাহ ছাহেব রহঃ-এর ইন্তেকাল এক অপূরণীয় ক্ষতি যা সমাজে পূরণ হওয়ার নয়। আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে উচ্চমর্যাদা দান করুন।
**************************
মুহিউদ্দীন খান
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ০৬ জুন ২০০৮