‘বড় বড় নিষিদ্ধ কাজগুলি হতে তোমরা যদি বেঁচে থাকতে পার, যে গুলি হতে দূরে থাকার জন্য তোমাদের বলা হচ্ছে, তাহলে তোমাদের অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করানো হবে।’ (সূরা নিসা, ৩১ আয়াত)।

সুধী পাঠকবৃন্দ আল্লাহতায়ালা আমাদের ভালোবাসেন। সে কারণে আমাদের গোনাহ মাফের অবাধ সুযোগ রেখেছেন। বড় বড় গোনাহ থেকে আমরা যদি মুক্ত থাকতে পারি বা কোন গোনাহ সংঘটিত হলে সঙ্গে সঙ্গে সহিহ তাওবা করতে পারি, তাহলে ছোট ছোট গোনাহগুলো আল্লাহতায়ালা আমাদের জন্য ধরবেন না। সেগুলো এমনিতেই মাফ করে দিবেন। আজকের আলোচনায় সেসব বড় বড় গুনাহের উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি, যেগুলো তওবা ছাড়া মাফ হয় না।

আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার গোনাহঃ আল্লাহতায়ালার সঙ্গে যারা শিরক করল আল্লাহতায়ালা তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। কারণ সবচেয়ে বড় গোনাহ হল, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। আল্লাহতায়ালা কোরআনের সূরা নিসার ৪৮নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন- ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সঙ্গে শিরক করে। তিনি ক্ষমা করেন এটা ছাড়া অন্য সকল পাপ যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।’ সূরা লোকমানের ১৩নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় শিরক একটি মস্ত বড় জুলুম।’ সূরা মায়েদার ৭২নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কারও শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য বেহেশত হারাম করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম।’ বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলুল্লাহ (সা·) একদিন তিনবার বললেন, ‘আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় গোনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না?’ উপস্থিত সাহাবিরা সবাই বললেন, অবশ্যই করবেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা·)। তখন তিনি (সা·) বললেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা, মাতা-পিতাকে কষ্ট দেওয়া। অতঃপর তিনি হেলান দেয়া থেকে সোজা হয়ে বসে বললেন, ‘মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হতে সতর্ক থাক।’ অন্য একদিন প্রিয় নবী (সা·) সাহাবিদের বললেন, তোমরা ছোট শিরক থেকে বেঁচে থাক। সাহাবিরা বললেন, ছোট শিরক কি? তিনি (সা·) বললেন, রিয়া অর্থাৎ লোক দেখানো কাজ করা। যেদিন আল্লাহ মানুষের কর্মফল দিবেন সেদিন বলা হবে, ‘যাও তাদের কাছে দেখ, তারা তোমাদের কোন প্রতিদান দিতে পারে কিনা? যাদের দেখিয়ে তোমরা দুনিয়ায় কাজ করতে। সুতরাং সকল প্রকার শিরকি কাজ হতে যেন আমরা বিরত থাকার চেষ্টা করি।’

পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়াঃ আল্লাহতায়ালা এ প্রসঙ্গে সূরা বনি ইসরাইলের ২৩ ও ২৪নং আয়াতে কারিমায় উল্লেখ করেছেন, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ফায়সালা হয়ে গিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করা যাবে না। পিতা-মাতার সঙ্গে সৎ ব্যবহার করতে হবে। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি বার্ধক্যাবস্থায় তোমাদের কাছে উপনীত হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করো না যেন তারা ‘উহ’ শব্দ করে, কষ্ট পায়, তাদের সঙ্গে ধমক দিয়ে কথা বলো না বরং তাদের সঙ্গে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বল। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে নম্রতায় মস্তক নত করে দাও এবং বল, ‘হে আমাদের পালন কর্তা। তাদের ওপর তেমন রহম করো, যেমন তারা আমার শৈশবকালে করেছেন।’ প্রিয় নবী (সা·) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’

মহানবী (সা·) ঘোষণা করেন যে, ‘আনসার ও মুহাজিরগণ শোন। যে ব্যক্তি মায়ের সাথে মন্দ আচরণ করে তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। অন্য বর্ণনায় হুজুর (সা·) বলেছেন, যে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে পেল অথচ তাদের সেবা-যত্ন করে জান্নাত হাসিল করতে পারল না তাদের চেয়ে হতভাগ্য আর কে হতে পারে?’ সুতরাং পিতা-মাতার সঙ্গে যারা অসদাচরণ করে, অবাধ্য হয়, তারা যদি পিতা-মাতার কাছে মাফ চেয়ে নিয়ে তাওবা না করে, তাহলে আল্লাহতায়ালা কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না। এমনিভাবে বড় বড় গোনাহ আরও অনেক আছে, আজকের যে দুটি বিষয় আলোচিত হল এর দুটি বিষয় আমরা সবাই মেনে চলার চেষ্টা করি, আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে সে তাওফিক দান করুন, আমিন।

**************************
মা ও লা না জা কি র হো সা ই ন আ জা দী
যুগান্তর, ৬ জুন ২০০৮