- Home
- ইসলাম ও বিজ্ঞান
- ইসলাম প্রচারে ইন্টারনেটের ভূমিকা
ইসলাম প্রচারে ইন্টারনেটের ভূমিকা
- By Article Poster
- Published 06/13/2008
- ইসলাম ও বিজ্ঞান
- Unrated
বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে বিশ্ব। মিডিয়ার ফলেই মূলত এটি সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যধিক। মিডিয়া দুই ধরনের- প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তবে দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদান এবং দৃশ্যসম্বলিত হওয়ায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রভাব একটু বেশি। আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সর্বাধুনিক ও সর্বাধিক ক্রিয়াশীল বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে ইন্টারনেট। এর দ্বারা দুনিয়ার যে-কোনো প্রান্তের কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। ইন্টারনেট হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। এক জরিপে দেখা গেছে, সব মিলিয়ে ষাট হাজারটি নেটওয়ার্ক এবং দশ মিলিয়ন কম্পিউটার ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত আছে। ১৪০টি দেশের প্রায় ৬০ মিলিয়ন মানুষ এর আওতাভুক্ত। ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব মানুষ এর আওতায় এসে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক কারণে ইন্টারনেটের আবিষ্কার হলেও বর্তমানে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রবাহ, গবেষণা ইত্যাদি কাজে ব্যবহ্নত হচ্ছে। এগুলো ছাড়াও নিজস্ব চিন্তাধারা, মতবাদ, কৃষ্টি, কালচারকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যম হিসাবেও ইন্টারনেট কাজ করে যাচ্ছে। ইসলামী জাহানে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার হয় না বলা চলে। বিশ্বে মাত্র দু’হাজার একশ’ এক চল্লিশটি ওয়েবসাইট আছে। আবার এসব ওয়েবসাইটেও ইসলামের ভুল এবং নিম্নমানের ব্যাখ্যা পেশ করা হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলামের গতিশীল ব্যাখ্যা ও প্রকৃত সত্য তুলে ধরা সময়ের দাবি। বর্তমানে দাওয়াতী ক্ষেত্রে ইন্টারনেট হতে পারে বড় একটি মাধ্যম। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘আমরা ইন্টারনেটের মোকাবিলা করতে পারি ইন্টারনেটের সাহায্যে। কম্পিউটারের মোকাবিলায় কম্পিউটার এবং কলমের মোকাবিলা করতে পারি কলমের সাহায্যে। আমরা উটের পিঠে চড়ে ল্যান্ডক্রুজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে পারি না।’
ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো যুগচাহিদার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা। যুগের পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দাওয়াতের প্রকৃতি ও আঙ্গিকে পরিবর্তন আসে। আল কুরআনে দাওয়াতের মূলনীতি বর্ণনা করে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের প্রতি আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বিতর্ক কর’। (সুরা নাহল-১২৫)
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এখানে ইসলামের দাওয়াতকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাপক রাখা হয়েছে। এতে দাওয়াতের সব মাধ্যম ও উপকরণ অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান বিশ্বে মানুষের মধ্যে ইসলামের ব্যাপারে কৌতূহল বাড়ছে। ইসলামকে জানতে ও বুঝতে সবাই উদগ্রীব। বিশেষত দেশে দেশে অমুসলিম যুব শ্রেণী আগ্রহী হচ্ছে ইসলামের অমীয় সৌন্দর্যের প্রতি। কিন্তু তাদের কাছে সত্যের পয়গাম না পৌঁছার কারণে তারা এতে সাড়া দিতে পারছে না। এসব লোকের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ হচ্ছে ইন্টারনেট। ঘরে বসে বিশ্বের মানুষের কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তুলে ধরা যায় শ্বাশত দ্বীনের আহ্বান। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রয়াস যেমন দরকার, তেমনি প্রয়োজন সামষ্টিক উদ্যোগ। আশার কথা হচ্ছে, ইন্টারনেটে ইসলাম প্রচারের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যক্তি ও সংস্থা যুগোপযোগী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ব্যাপকভাবে গ্রহণ করতে পারলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
**************************
জ হি র উ দ্দি ন বা ব র
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৩ জুন ২০০৮