প্রফেসর ড. আ.ন.ম রইস উদ্দিন

ধর্ম ও প্রগতির মধ্যে কোন বিরোধিতার প্রশ্ন আসে না। কারণ মহানস্রষ্টা ধর্ম প্রবর্তন করেছেন মানুষের কল্যাণ, প্রগতি, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই ধর্মকে প্রগতির প্রতিপক্ষ ও বাধা মনে করে। কারণ ধর্মকে তারা সেকেলে মনে করেন। কিন্তু এখানে ধর্ম বলতে আমি ইসলামকে বুঝাতে চাচ্ছি। এখানে পবিত্র কোরআনে সমৃদ্ধি ও প্রগতির জন্য মানব জাতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-কোরআনে ২ নম্বর সূরার ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনি সেই মহান পরাক্রমশালী যিনি তোমাদের (মানুষের) কল্যাণ ও প্রগতির জন্য সব কিছু সৃষ্টি করেছেন”। কিন্তু মানুষের দায়িত্ব হলো অধিক প্রচেষ্টা ও গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করা। যাতে মানুষ সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং মানুষের সার্বজনীন সম্প্রীতি ও শান্তি বিরাজ করে।

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন স্যার!

উত্তরঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়ারহমাতুল্লাহি, আলহামদুলিল্লাহ, ভাল আছি।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের সাপ্তাহিক আয়োজন ‘ধর্মচিন্তা’ পাতাটি আপনি নিশ্চয় পড়েন। এ বিভাগটি সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তরঃ ধর্মচিন্তা পাতাটি আমার পড়ার সুযোগ হয়েছে। সকল ধর্মের মানুষের জন্য উপাত্ত ও শিক্ষার উপযোগী একটি অন্যতম পরিবেশনা বলে আমার মনে হয়।

প্রশ্নঃ কর্তৃপক্ষ এ পাতাটিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ধর্ম বিষয়ক অভিমত সংবলিত সাক্ষাৎকার প্রকাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, এ ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কি?

উত্তরঃ এ বিষয়টি নিয়ে যারা চিন্তা করেছেন তাদেরকে মোবারকবাদ ও সাধুবাদ জানাই। কেবলমাত্র গতানুগতিক কিছু ইসলামিক প্রবন্ধ না ছাপিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু প্রবন্ধ ও প্রতিপর্বে নির্দিষ্ট বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদগণের অভিমত থাকলে সকল শ্রেণীর পাঠকের ইসলামের সঠিক ধারণা পেতে সহায়ক হবে। কারণ, ইসলাম সম্পর্কে দেশের স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন কিছু ব্যক্তির ভুল ব্যাখ্যায় জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে আসছে। বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ইসলাম বিষয়ক পণ্ডিতগণের এ পাতায় প্রকাশিত অভিমতের মাধ্যমে ঐ সমস্ত ভুল ব্যাখ্যা বিদূরিত হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

প্রশ্নঃ আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ‘ধর্ম ও চিন্তা’ -এ বিষয় বলতে আমরা কি বুঝি?

উত্তরঃ ধর্ম বলতে বুঝি মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন এ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেননি। বরং তাদের জীবনকে সুনিয়ন্ত্রিত করার মাধ্যমে পার্থিব ও পারলৈাকিক শান্তির নিশ্চয়তা বিধান করে যে পরিপূর্ণ জীবন বিধান দান করেছেন-তাই হচ্ছে ইসলাম। আর ইসলামের এই বিধিবিধান মেনে চালাই হচ্ছে আমাদের জন্য ধর্ম। আর চিন্তা হল, মহান স্রষ্টা সৃষ্টিকুলের মধ্যে শুধুমাত্র মানবজাতিকে জ্ঞানদান করেছেন। উদ্দেশ্য হল, তারা পার্থিব জীবনে জ্ঞানের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করবে এবং মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বিরাজ করবে। শুধু তাই নয়, অপর সৃষ্টির মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

প্রশ্নঃ ধর্ম ও চিন্তার উৎপত্তি কিভাবে হল?

উত্তরঃ ধর্মের উৎপত্তি মানব সৃষ্টি তথা মানবের উৎপত্তির সাথে সাথেই হয়েছে। পবিত্র কোরআন-এ বিষয়টিকে এভাবে বলা হয়েছে-মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত আদম (আঃ) এবং পরবর্তীতে তার সহধর্মিণী হাওয়াকে (আঃ) সৃষ্টি করে তাদের দু’জনকেই নির্দেশ দিলেন বেহেস্তে বসবাস করার জন্য এবং যথেচ্ছা পানাহার করার নির্দেশ দিলেন সাথে সাথে একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন যে, তারা নিষিদ্ধ একটি গাছের কাছেও যেন না যায়। এ আদেশ এবং নিষেধ নিয়েই ধর্মের উৎপত্তি। বর্তমান বিশ্বে আল্লাহ প্রদত্ত যতগুলো ধর্মগ্রন্থ রয়েছে সবগুলোকেই দুই ভাগে ভাগ করা যায়-আদেশ ও নিষেধ। পবিত্র কোরআনে ৬৬৬৬ আয়াতকেও দুইভাগে ভাগ করা যায়-আদেশ ও নিষেধ। এখানে প্রশ্ন হতে পারে পবিত্র কোরআনে নবী-রসূলগণের অনেক ঘটনা রয়েছে। তদুত্তরে বলা যায় যে, এ ঘটনাগুলোর মধ্যেও আদেশ ও নিষেধ পাওয়া যায়। কেননা যারা আল্লাহর নবীগণের বিরুদ্ধচরণ করেছে তাদেরকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যারা নবীগণের সহযোগিতা ও অনুসরণের মাধ্যমে সত্য ও শান্তির পথ অনুসরণ করেছে তারা পার্থিব ও পরলৌকিক জীবনে মহা শান্তি লাভ করেছে। তাই এ সব ঘটনা থেকেও বোঝা যায় যে, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত ও তাঁর আদিষ্ট কাজগুলো করার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নঃ ধর্ম ও প্রগতির মধ্যে কি কোন বিরোধ আছে?

উত্তরঃ ধর্ম ও প্রগতির মধ্যে কোন বিরোধিতার প্রশ্ন আসে না। কারণ মহানস্রষ্টা ধর্ম প্রবর্তন করেছেন মানুষের কল্যাণ, প্রগতি, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই ধর্মকে প্রগতির প্রতিপক্ষ ও বাধা মনে করে। কারণ ধর্মকে তারা সেকেলে মনে করেন। কিন্তু এখানে ধর্ম বলতে আমি ইসলামকে বুঝাতে চাচ্ছি। এখানে পবিত্র কোরআনে সমৃদ্ধি ও প্রগতির জন্য মানব জাতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-কোরআনে ২ নম্বর সুরার ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনি সেই মহান পরাক্রমশালী যিনি তোমাদের (মানুষের) কল্যাণ ও প্রগতির জন্য সব কিছু সৃষ্টি করেছেন”। কিন্তু মানুষের দায়িত্ব হলো অধিক প্রচেষ্টা ও গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করা। যাতে মানুষ সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং মানুষের সার্বজনীন সম্প্রীতি ও শান্তি বিরাজ করে।

প্রশ্নঃ এখানে কি একথা সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য?

উত্তরঃ অবশ্যই! কারণ বিজ্ঞান মানে কি? বিজ্ঞান মানে বিশেষ জ্ঞান। যার মাধ্যমে মানুষের সুখ ও প্রগতি অর্জন করা যায়। একটু আগে যে আয়াতটি উল্লেখ করলাম সেখানে যেমন জাতিকে প্রগতির পথ উন্মুক্ত করার জন্য স্রষ্টার সৃষ্টি করা সকল উপাত্তকে সর্বধিক ব্যবহার করা নির্দেশ রয়েছে। তেমনি পবিত্র কোরআনের অপর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলমিন ধর্মীয় নির্দেশ দেয়ায় সাথে সাথে প্রগতি ও অগ্রগতি অর্জন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন “জুমআর দিনে যখন আজান হয় তখন তোমরা কাজ-কর্ম রেখে নামাজের প্রতি ধাবিত হও” ঠিক একই আয়াতের নিচে আল্লাহ তায়ালা বলেন- নামাজ সমাপ্তির পর তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং প্রগতি ও উন্নতির জন্য আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের অম্বেষণ কর। এ আয়াতে বোঝা যায় যে ন্যায় ভিত্তিক সৎ জীবন-যাপন করার মাধ্যমে এবং অপরের অধিকারহরণ না করার মাধ্যমেই প্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করা যায়।

প্রশ্নঃ প্রধান প্রধান ধর্মের মৌলিক শিক্ষা সম্পর্কে বলবেন কি?

উত্তরঃ প্রধান প্রধান ধর্ম বলতে আমরা যা বুঝি প্রত্যেক ধর্মেরই মৌলিক শিক্ষা এক। যেমন ধরুন আমাদের বাংলাদেশে চারটি ধর্মের অনুসারী তথা ইসলাম, হিন্দু, খিস্টান ও বৈদ্ধ ধর্ম এগুলোর মধ্যে আপনি কি একটি ও দেখতে পারবেন যে, সেখানে চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার, অবৈধহত্যা করা সম্পদ লুণ্ঠন করা, জবরদখল করা, ঘুষ খাওয়া, দুর্নীতি করা, কারও অধিকার অন্যায়ভাবে হরণ করা পাপ নয়? তাহলে দেখা গেল সকল ধর্মেরই মৌলিক শিক্ষার মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই বরং সত্য ও সতাতা, ন্যায় ও মানবতা, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা, মানুষকে ভালবাসা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস না করা এ কথাগুলো সকল ধর্মে সমানভাবে উচ্চারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো আজকে একবিংশ শতাব্দিতে বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৬২৫ কোটি মানুষ বসবাস করছে। এই মানুষগুলো যদি স্ব-স্ব ধর্ম সঠিকভাবে পালন করে এবং পরস্পর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখায় তাহলে এ বিশ্ব একটি শান্তির নীড়ে পরিণত হবে। আজকের বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উন্নতির মাধ্যমে মানুষ হাওয়াতে উড়তে শিখেছে, পানিতে ভাসতে শিখেছে এমন কি চন্দ্র দেশে গিয়ে নতুন নতুন গ্রহ-উপগ্রহ আবিষ্কার করছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, তাঁরা আজও মানব সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। বরং নতুন নতুন অস্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা চলছে, অস্ত্রের ঝনঝনানি ও এটম বোমার বিকট আওয়াজে পৃথিবী প্রকম্পিত হচ্ছে। যাতে ব্যয় হচ্ছে বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার এবং ঝরে পড়ছে অকালে অসংখ্য প্রাণ। যেখানে কোটি কোটি মানব সন্তান আজও বুভুক্ষু অবস্থায় অন্যের জন্য হাহাকার করছে এবং অধিকার হারা বঞ্চিত মানুষের কান্নার ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস ভারী হচ্ছে। ধর্ম মানুষকে এ অনূভূতি দান করেন যে, পৃথিবীর সকল মানুষ এক পবিত্র কোরআনের ৪ নং সূরার প্রথম আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন- আল্লাহ মানব জাতিকে ধর্ম, বর্ণ, গ্রোত্র ও ভাষা নির্বিশেষে “মানব জাতি” বলে সম্বোধন করেছেন। শুধু তাই নয় পবিত্র কোরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে সমগ্র মানব জাতি একটি মাত্র জাতি। আর তাদের স্রষ্টা হলেন এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ। এ প্রসঙ্গে আমার একটি উর্দু কবিতা মনে পড়ে গেল। তাহলো-‘দরদে দিলকেলিয়ে পয়দাকিয়া ইনসানকো অরনা এবাদাতকেলিয়ে কুচ কম নাথে কাররামিয়া’ অর্থাৎ “মানুষের ব্যথা-বেদনা সুখ-দুঃখ অনুভব করা ও তার প্রতিকার কারার জন্য মানব জাতিকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। না হয় আল্লাহর এবাদতের জন্য ফেরেস্তাকুল রয়েছেন”। তাই ধর্মের প্রধান শিক্ষা হলো মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা ও সম্প্রীতি। এ বিষয় আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন যে, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। তিনি (সাঃ) আরও বলেন, “মানব জাতি আল্লাহর পরিবারের সদস্যভুক্ত”। সে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় যে মানুষের প্রতি অধিক সৎ ব্যবহার করে। মহানবী (সাঃ) আরো বলেছেন, যে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি স্নেহ দেখায় না সে আমার দলভুক্ত বা অনুসারী নয়। এখানে মহানবী (সাঃ) জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে মানব সমাজের সম্প্রীতির কথাই বলেছেন।

প্রশ্নঃ জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে প্রধান প্রধান ধর্মগুলো কিভাবে মানব জাতিকে উৎসাহিত করেছে।

উত্তরঃ বিশ্বের সকল ধর্মেই জ্ঞান অর্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং জ্ঞানীকে চক্ষুষ্মান এবং মূর্খকে অন্ধ বলে অভিহিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন যে, জ্ঞানী ও মূর্খ কি কখনো সমান হতে পারে। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) জ্ঞানের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন যে, তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর। শুধু তাই নয়। বদর যুদ্ধের বিজয়ের পর যে সব বিধর্মী কোরাইশরা বন্দী হয়েছিল তাদেরকে মুক্ত করার জন্য মহানবী (সাঃ) ১০ জন মুসলিমকে জ্ঞান দান করার শর্তে একজনকে মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই দেখা যাচ্ছে জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে মুসলিম ওমুসলিম এর কোন পার্থক্য নেই। এভাবে শুধু ইসলামে নয় সকল ধর্মেই জ্ঞান অর্জনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন-মহামতি গৌতম বৌদ্ধ তার অনুসারিগণকে জ্ঞান অর্জনের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় বিশ্বের সকল নবী-রাসূলগণও তাদের উম্মত বা অনুসারিগণকে জ্ঞান অর্জনের জন্য কঠোর নির্দেশ- দিয়েছিলেন। কারণ জ্ঞান ছাড়া কোন ব্যক্তি যেমন পার্থিব ও কিছু অর্জন করতে পারে না তেমনি ভাবে জ্ঞান ব্যতিরেকে মহান প্রভুর সাথে সম্পর্ক ও সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়।

প্রশ্নঃ ইসলামে হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুলইবাদ সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

উত্তরঃ অবশ্যই বলবো! এক কথায় হাক্কুল্লাহ হলো আল্লাহর প্রতি মানুষের দায়িত্ব কর্তব্য এবং হাক্কুল ইবাদত হলো মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব কর্তব্য। এ বিষয়ে একটি কথা আগেই বলে রাখা ভাল যে, আল্লাহর প্রতি মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব কতর্বø পালনে যদি ভুল ত্রম্নটি হয়ে যায়। সে ব্যাপারে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। বান্দা তার কাছে অনুতপ্ত হ্নদয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি দয়া করে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু বান্দার হক যতক্ষণ পর্যন্ত সেই বান্দা ক্ষমা না করবে যার হক নষ্ট করা হয়েছে।

তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে, পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং সন্তানের প্রতি পিতা- মাতার দায়িত্ব কতর্ব্য অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ আরও বলা যায় যে, সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্বের অবহেলার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সন্তান মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসী হয়ে পড়ে। ফলে সন্তান পিতা-মাতার তথা জাতির জন্য সম্পদ না হয়ে বোঝা ও অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে পিতা-মাতা বৃদ্ধ হয়ে গেলে তাদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্যের অবহেলার কারণে পিতা-মাতাকে বিপর্যস্ত জীবনযাপন করতে হয়। এমতাবস্থায় পিতা-মাতা ক্ষমা না করলে ঐ সন্তানের জান্নাতে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে যায়। তাই আল্লহর হক পিতা-মাতার হক ও বান্দার হক এর ব্যাপারে প্রত্যেকেরই সজাগ, সতর্কতা অবলম্বন করে জীবন-যাপন করা উচিত।

**************************
সাক্ষাৎকার গ্রহণেঃ মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭ জুন ২০০৮