Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
হজের ইহরাম কখন কীভাবে, কোথেকে এবং নিষিদ্ধ বিষয়
http://articles.ourislam.org/articles/3/1/aaaa-aaaaa-aaa-aaaaaa-aaaaaa-aaa-aaaaaaa-aaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 11/27/2007
 
(শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক) জামিআ রাহ‌মানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর মাদ্রাসার শায়খ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধার বিধান রয়েছে। ইহরাম বলতে কী বোঝায়? ইহরাম কখন বাঁধতে হয় এবং ইহরামের নির্দিষ্ট স্থান কয়টি এবং কী কী?

হজের ইহরাম কখন কীভাবে, কোথেকে এবং নিষি

(শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক)

জামিআ রাহ‌মানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর মাদ্রাসার শায়খ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধার বিধান রয়েছে। ইহরাম বলতে কী বোঝায়? ইহরাম কখন বাঁধতে হয় এবং ইহরামের নির্দিষ্ট স্থান কয়টি এবং কী কী?

জবাবে তিনি বলেন, সেলাইবিহীন চাদর লুঙ্গি পরিধান করে তালবিয়াহ্ পড়াকে শরিয়তের পরিভাষায় ইহরাম বলা হয়। পুরুষ হাজিদের জন্য এ বিধান পালন করা ওয়াজিব। অবশ্য মহিলা হজ্ব পালনকারীদের জন্য সেলাইবিহীন কাপড় পরিধানের বিষয়টি জরুরি নয়। শরয়ী বিধান অনুযায়ী তারা যে কোনো পোশাক পরিধান ও ব্যবহার করতে পারবে।

হজ্ব পালনকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে ইহরাম বাঁধা যেমন জরুরি একটি বিষয়, ঠিক তেমনি ইহরাম বাধার জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা। হজ্ব পালনকারীকে এ সময়ের প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আরবি শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ থেকে জিলহজ্ব মাসের ৮ তারিখের সুর্যোদয়ের পুর্বক্ষণ পর্যন্ত ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট সময়। কোনো ব্যক্তি শাওয়াল মাসের আগে কিংবা জিলহজ্ব মাসের ৮ তারিখের পর হজ্বের উদ্দেশে ইহরাম বাঁধলে তার হজ্ব সহীহ হবে না। হ্যাঁ এই ইহরামের দ্বারা তার ওমরাহ পালিত হবে। কেননা ওমরার ইহরাম বছরের যে কোনো সময় বাঁধা জায়েজ।

হজ্ব পালনকারীরা কোন স্থান থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্ব পালন করবে এ সম্পর্কে স্বয়ং রাসুলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্দেশিত ইহরাম বাঁধার স্থান বা মিকাত নিম্নরূপ :

মিসর, সিরিয়া এবং মরক্কোর অধিবাসীদের জন্য মিকাত হলো, সৌদি আরবের উত্তর-পুর্বকোণে অবস্থিত ‘আল-জুহ্‌ফা’ নামক স্থান। বর্তমানে এ স্থানটি ‘রাবেগ’ নামে খ্যাত।

মদিনার অধিবাসীদের জন্য মিকাত হলো ‘যুল হোলায়ফা’ নামক স্থান; যা বর্তমানে ‘আবয়ারে আলী’ নামে খ্যাত। ইরাক অধিবাসীদের মিকাত বা ইহরাম বাঁধার স্থান হলো মক্কা মুকাররমার উত্তর-পুর্বকোণে অবস্থিত, ‘যাতে ইরক’ নামক স্থান।

সৌদি আরবের পুর্ব এবং মধ্যবর্তী অ—লসহ কুয়েত অধিবাসীদের জন্য ‘ক্করনুল মানযিল’; যা ঐতিহাসিক ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আস্‌সাইল’ নামক স্থানের খুব কাছেই অবস্থিত। ইয়ামেন, হিন্দুস্তান, বাংলাদেশসহ এতদ—লের অন্যান্য দেশের হাজিদের ইহরাম বাঁধার স্থান হলো ‘ইয়ালামলাম’। এটি মুলত মক্কার দক্ষিণে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম।

এ ছাড়া অন্যান্য স্থান থেকে আগত হাজিরা বর্ণিত মিকাতগুলোর অনুসরণে নিজের মিকাত নির্দিষ্ট করে নেবে। ইহরাম না বেঁধে উল্লিখিত স্থানগুলো অতিক্রম করা নাজায়েজ। অতিক্রমকারী হজ্বের সফর বিমান, নৌ-জাহাজ বা অন্য যে কোনো আরোহণেই অতিক্রম করুক না কেন, এতে শরিয়তের বিধানের কোনো হেরফের হবে না।

অবশ্য হজ্বের সফরে কোনো ব্যক্তি রওজা শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সরাসরি মদিনায় চলে এলে তার জন্য ইহরাম বাঁধা জরুরি নয়। কিন্তু মদিনা জিয়ারত শেষে মক্কায় প্রবেশের আগে যুল হোলায়ফা থেকে তাকে অবশ্যই ইহরাম বাঁধতে হবে।

যেসব মক্কা অধিবাসী উল্লিখিত স্থানগুলোর অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে তারা নিজ বাড়ি থেকেই ইহরাম বেঁধে বের হবে। হজ্ব অথবা ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো হারাম হয়ে যাবে।

এক. বিবাহ শাদী এবং এতদসংকক্রান্ত স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশার সম্পর্ক।
দুই. সেলাইকৃত কাপড় পরিধান। (পুরুষদের জন্য)
তিন. মাথা ঢেকে রাখা, (পুরুষদের জন্য)
চার. কোনো শিকারি প্রাণী ধরা। কিংবা ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে হারাম শরিফের কোনো বৃক্ষ অথবা ঘাস কাটা।
পাঁচ. অবশ্য শুকনো তরুলতা, ঘাস, ফসলাদি কিংবা ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের জন্য গাছপালা উপড়ানো জায়েজ আছে।
ছয়. মাথা মুন্ডানো, সুগন্ধি ব্যবহার, নখ কাটা। তবে দেহ মাথা পানি দ্বারা ধৌত করা সুগন্ধিবিহীন সাবান ব্যবহার করা কোনো দোষণীয় নয়। উল্লিখিত হারাম বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে গেলে শরিয়তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘ফিদইয়া’ আদায় করা ওয়াজিব।


**************************
উৎসঃ দৈনিক আমারদেশ, ২৫শে নভেম্বর ২০০৭