Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
আল-কোরআনের আলোকে পরিবেশ
http://articles.ourislam.org/articles/378/1/aa-aaaaaaaa-aaaaaa-aaaaaa--/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 08/5/2008
 
বিশ্বজুড়ে যে উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, তার বংশ বিস্তার পদ্ধতির প্রতি আমরা মনোনিবেশ করলে দেখতে পাব, এই উদ্ভিদ কীভাবে বিশ্বে প্রাণীকুলের জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে। উদ্ভিদের ওপর গবেষণা করে বহুসংখ্যক তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ভিদ বংশ বিস্তার পদ্ধতিতে মুল উদ্ভিদের কোন অংশ নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে, তা আমরা অবহিত হতে পারি। অযৌন বংশ বিস্তার পদ্ধতি কেবল নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মুল উদ্ভিদ দেহের বিশেষ কোষকলাকে একটি নতুন বৃক্ষ জন্মাতে সাহায্য করে। এই উভয় প্রকারের নিচুশ্রেণীর সীমিতসংখ্যক উদ্ভিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উচ্চশ্রেণীর আড়াই লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ বংশ বিস্তারে যৌন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে। বলা যেতে পারে আমাদের চোখে যেসব উদ্ভিদ হেমি, তার বংশ বিস্তার মুলত যৌন সংযোগে হয়ে থাকে।

আল-কোরআনের আলোকে পরিবেশ

বিশ্বজুড়ে যে উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, তার বংশ বিস্তার পদ্ধতির প্রতি আমরা মনোনিবেশ করলে দেখতে পাব, এই উদ্ভিদ কীভাবে বিশ্বে প্রাণীকুলের জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে। উদ্ভিদের ওপর গবেষণা করে বহুসংখ্যক তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ভিদ বংশ বিস্তার পদ্ধতিতে মুল উদ্ভিদের কোন অংশ নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে, তা আমরা অবহিত হতে পারি। অযৌন বংশ বিস্তার পদ্ধতি কেবল নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মুল উদ্ভিদ দেহের বিশেষ কোষকলাকে একটি নতুন বৃক্ষ জন্মাতে সাহায্য করে। এই উভয় প্রকারের নিচুশ্রেণীর সীমিতসংখ্যক উদ্ভিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উচ্চশ্রেণীর আড়াই লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ বংশ বিস্তারে যৌন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে। বলা যেতে পারে আমাদের চোখে যেসব উদ্ভিদ হেমি, তার বংশ বিস্তার মুলত যৌন সংযোগে হয়ে থাকে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃতিতে যে অদ্ভুত নিয়ম-কানুন পরিলক্ষিত হয়, তা একদিকে যেমন সুদৃঢ় তেমনি জটিল এবং চিত্তাকর্শক। অথচ পুরো ব্যাপারটিকে একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা থেকে উদ্ভুত সুনিশ্চয়তার প্রক্রিয়ায় সামান্যতম ব্যতিক্রম বা পরিবর্তন ঘটলে প্রকৃতি মারাত্মক অস্তিত্বের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়তে পারে। এমনি পরিস্হিতির উদ্ভব হলে কোনো প্রজাতির কোনো কোনো সময়ের পরিস্হিতিতে চিরদিনের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু না। উদ্ভিদের বংশ বিস্তারের প্রধান সাহায্য আসে বাতাস, কীট-পতঙ্গ, পাখি ও পানি থেকে। ফুলের পরিণত পুংকেশর লাখ লাখ পরাগরেণুকে উপযুক্ত করে রাখে। এই পরাগরেণু কেবল সঠিকভাবে গর্ভকেশরে প্রতিস্হাপিত হলেই নিষেকীকরণ সম্পন্ন হতে পারে এবং ভবিষ্যতের বংশবিস্তার ব্যবস্হা নিশ্চিত হতে পারে। এর জন্য চাই একসঙ্গে অনেক কিছুর সমন্বয়, যে সমন্বয়ের বিষয়ে আমরা অনেক কিছু জানি না বিধায় বিষয়টি আমাদের তত মনোযোগ আকর্ষণ করে না। পুংকেশরের লাখ লাখ পরাগরেণু সৃষ্টি হয়ে অবাধভাবে কোনো মাধ্যমে, বিশেষত বাতাসে প্রবেশ করে। এই লাখ লাখ পরাগরেণু থেকে হয়তো মাত্র ১-২টি ফুলের গর্ভকেশরে প্রতিস্হাপিত হয়ে নিষিক্ত হওয়ার সুযোগ পায়, বাকিরা ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ এই লাখ লাখ পরাগরেণু সৃষ্টি না হলে, যে একটি নিষিক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তা সম্ভব হতো না।
সমন্বয়ের ব্যাপারটি এখন পর্যালোচনা করা যাক। যে সময় পরাগরেণু পরিপক্ক হবে, ঠিক সেই সময় গর্ভকেশরের দেহ থেকে আঠালো পদার্থ বের করে তার অঙ্গটিকে আঠালো করে রাখবে। সেই সময় আবার বাতাস প্রবাহের জন্য সুর্যকে তার তেজোদীপ্ত আলো দিয়ে পৃথিবীর কোনো স্হানে বায়ুর শুন্যতা সৃষ্টি করতে হবে। সেই শুন্যতা পুরণ করবে বায়ু-প্রবাহ। অর্থাৎ শত শত মাইল দুরে কোনো সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপটি তার প্রান্তিক প্রভাবমন্ডলে যে ধীর গতির বাতাসের সৃষ্টি করেছে, যে প্রবাহটি আমাদের অজ্ঞানে পৃথিবীপৃষ্ঠের যাবতীয় ফুলের পরাগরেণু তুলে নিয়ে অন্য কুলের গর্ভকেশরে প্রতিস্হাপন করে চলেছে। বাতাসের এ ছোঁয়াটুকু ফুল না পেলে লাখ লাখ উদ্ভিদ সৃষ্টিতে হয়তো বঞ্চিত থেকে যেত গর্ভধারণ সঞ্চালনে। গর্ভধারণ না হলে জন্মাত না লাখ লাখ নতুন উদ্ভিদ। প্রকৃতির খাদ্য ভান্ডার এ উদ্ভিদের ফলন থেকে বঞ্চিত হলে জীবজগতের মজুতে টান পড়ত। এতে জীব জগতের অস্তিত্ব বজায় রাখাই দুরুহ হয়ে পড়ত। অতএব, বলা যায়, ক্ষতিকর এই নিম্নচাপটি আমাদের অজান্তেই কত সুষ্ঠুভাবে জীবজগত তথা পৃথিবীর জীবনমন্ডলকে নিয়ত সাহায্য করে যাচ্ছে। নিম্নচাপের এমনি উপযোগীর উদাহরণ আল্লাহর বাণী শৈলীর সঙ্গে একেবারে মিলে যাচ্ছে। আমরা বিমুগ্ধ চিত্তে উচ্চারণ করতে বাধ্য হই-‘হে আমাদের প্রতিপালক। তুমি কোনোকিছুই অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমিই মহান, পবিত্র।’ (সুরাঃ আল এমরানঃ ১৯১)।

উদ্ভিদের বংশবিস্তারের প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের কথা বলা হচ্ছিল। বিভিন্ন ফুলে রয়েছে বিভিন্ন স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণ। কোনো কোনো ফুলের বর্ণের চেয়ে গন্ধ তীব্র, কোনোটির রংয়ের চেয়ে সাজে অতুলনীয়। কীটপতঙ্গরা বিভিন্ন ফুলের বিভিন্ন বিশেষত্বে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। ফুলে ফুলে তারা ঘুরে বেড়ায় ক্ষুধা নিবারণে, আশ্রয়ের সন্ধানে ও ডিম ফোটাবার প্রয়োজনে। ফুলে আগত কীটপতঙ্গ তাদের অজান্তে পা ও পাখায় মেখে নেয় পরাগরেণু। তারপর স্বভাবজাত তাগিদে ও প্রয়োজনে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। তাদের এ ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর স্বভাবটি কত অমুল্য ফল বয়ে আনল দুনিয়ায়। ফুল, ফলে ও ফসলে ভরে গেল সারা দুনিয়া। কীট-পতঙ্গসমুহের ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর কারণে কোনো এক জাতির ফুলের পরাগ অন্য অতি কাছাকাছি প্রজাতির ফুলের গর্ভকেশরে সার্থকভাবে প্রতিস্হাপিত হলেও বংশ রুপান্তরে তিল পরিমাণও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় নি। ‘প্রাকৃতিক ও মানবীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সারা জলবায়ু ও পারিপার্শ্বিকতা পরিবর্তন অথবা জৈব-শুক্র দ্বারা উপর্যপুরি আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সব যুগের উদ্ভিদের কোনো পরিবর্তন হয় না বা একই এবং অপরিবর্তনীয় থাকে।’ এ আবিষ্কারে যেন আল্লাহর কথাটির প্রমাণিত হলো-‘আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই।’ (সুরা রুম ৩০:৩০) ইহা সৃষ্টির প্রথম থেকেই চলে আসছে। ‘আল্লাহর বিধানে কোনোরুপ পরিবর্তন দেখতে পাবে না।’ (সুরা ফাতেহ ৪৮:২৩)। বিবর্তনবাদের অসারতার প্রতি এটা কটাক্ষ। ফরাসি উদ্ভিদবিধ দ্য জাসিয়া তার প্রজাতি সম্পর্কিত গবেষণায় দাবি করেন যে ‘ইহা (প্রজাতি) প্রজনন দ্বারা চিরস্হায়ী একই রকম উদ্ভিদের বহু বর্ষজীবী পরপর অনুগমন মাত্র’। এতে বিজ্ঞানের আবিষ্কার আর আল-কোরআনের বাণীতে কোনো পার্থক্য নেই, তাই প্রমাণিত হলো।

এতে আমাদের চোখে ফুটে উঠে যে, একটি ফুলের পরাগ পৌঁছানোর জন্য সমন্বয়ের ব্যাপারটি এত সুবিশাল এবং এত ব্যাপক যে, ভাবলে স্তম্ভিত হতে হয়। ফুলের স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ, সুর্যের তেজ, সমুদ্র, বাতাস, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি অসংখ্য জ্ঞাত অজ্ঞাত বিষয়গুলো যখন একসঙ্গে সমন্বিত হয়, তখনই কেবল একটি ফুলের গর্ভকেশরে গর্ভধারণের গৌরব অর্জন করে এবং জীব জাতির বেঁচে থাকার সনদপ্রাপ্ত হয়। সবকিছু মিলিয়ে চিত্তাকর্ষক অনুভুতি জাগানোর মতো বিস্ময়কর ও নিদর্শনমুলক এসব রহস্যের দাবি নিয়েই বুঝি আল-কোরআন ঘোষণা করে- ‘বিশ্ববাসীদের জন্য পৃথিবীতে রয়েছে অসংখ্য নিদর্শন।’ (জারিয়া ৫১:২০)। ‘চিন্তাশীল লোকদের জন্যই আমি এসব নিদর্শন ব্যক্ত করে থাকি।’ (আনআম ৬:১২৬)। এখন আমরা প্রকৃতির ভারসাম্যটি লক্ষ্য করব। এত সমন্বয়ের ফসল এ উদ্ভিদটি কোন বিশেষত্ব বহন করে? আজকে বিশ্বের প্রায় সব লোকই ইকোলজি কথাটির সঙ্গে পরিচিত। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য দুষণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আজ শঙ্কিত। মানুষের হটকারিতায় প্রকৃতির ভারসাম্য চিন্তা না করে বৃক্ষ নিধনের সঙ্গে সঙ্গে মরুকরণের প্রকোপের মাত্রা বৃদ্ধিতে আজ পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের যে বিরাট সাহারা মরুভুমি, তা পুর্বে ছিল ঘন বনভুমি। জীবিকা, চাষাবাদ, নির্মাণ ইত্যাদি নানাবিধ অজুহাতে গাছপালা নিধন করা হচ্ছে নির্বিচারে। মানুষ প্রয়োজনাতিরিক্ত ভোগ-বিলাসের প্রয়োজনে অতিরিক্ত বন নিধনের কারণেই আজ সারা বিশ্বে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়, বন্যা-খড়া, সাইক্লোন, টর্নেডো ইত্যাদি আজ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ফসলাদির মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় বিশ্বে আজ খাদ্যে টান পড়েছে। মানুষ কর্তৃক প্রকৃতির ভারসম্য নষ্ট করার জন্যই আজ এ বেহাল অবস্হা। প্রকৃতিতে বনবাদাড়, পাহাড় পর্বত, নিবিড় জঙ্গল ইত্যাদি যদি না থাকত, তবে সমস্ত পৃথিবীতে অক্সিজেনের যে ঘাটতি হতো এবং বিপরীত-এর যে আধিক্য দেখা দিত, তাতে জীবজগতের বেঁচে থাকাই দুরুহ হয়ে পড়ত। একটু জিন্তা করলেই বোঝা যাবে এমনই বনবাদাড়, দুর্গম পাহাড়-পর্বত, নদী, সাগর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা দ্বারা মানুষের সহজ গমনের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে। তারপরও তার মধ্যে হিংস্র জন্তুর আবাসস্হল করা হয়েছে, যাতে মানুষ তার ক্ষতি না করতে পারে। এদের ভয়সংকুলতা ও প্রাকৃতিক দুর্গমতা না থাকলে লোভী মানুষ ইতোমধ্যেই এ পৃথিবীকে জীবজগতের বাঁচার অযোগ্য করে ফেলত। বিষয়টি যুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, দুরদুরান্তের গহীন অরণ্যে প্রকৃতির বন্যতায় লালিত প্রাণসংহারক জীবজন্তুসমুহ, প্রাকৃতিক দুর্লংঘতা ইত্যাদি সবই মুলত জীবমন্ডলের সেবা কাজে নিয়োজিত। সমস্ত জীবমন্ডল ও উদ্ভিদকুল মুলত মানুষের কল্যাণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আল-কোরআনে তা বলা হয়েছে এভাবে-‘এভাবে তিনিই হইতেছেন যিনি পৃথিবীকে করেছেন তাদের (মানুষের) প্রতি অনুগত। তাঁহারই কাছে পুনরুত্থান।’ (মুলুক ৬৭:১৫)। ‘তুমি কি লক্ষ্য কর না, আল্লাহ তোমাদের কল্যাণের জন্য নিয়োজিত করিয়াছেন পৃথিবীর যাহা কিছু আছে সম্পদসমুহ?’ (হজ্ব-২২:২৫)।

পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আল্লাহ কি নিপুণতায় তাকে সাজিয়েছেন বিবিধ বস্তু দিয়ে। জীবজগতের বসবাসের জন্য যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানেই ঠিক সেই জিনিসটি সমপরিমাণে দান করেছেন। তার একটু হেরফের হলে জীব জগতের বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাই আল্লাহর অসীম কুদরতের কথা ভেবে জ্ঞানী ও বিজ্ঞানীরা তাদের মাথা নত করে দেন তাঁর সম্মুখে।
 
*************************
প্রকৌশলী এস এম ফজলে আলী
আমার দেশ, ০২ আগষ্ট ২০০৮