- Home
- জীবন ও কর্ম
- ইমাম বুখারী (রহ.)
- Home
- জীবন ও কর্ম
- অলী-আউলিয়া
- ইমাম বুখারী (রহ.)
ইমাম বুখারী (রহ.)
- By Article Poster
- Published 08/5/2008
- জীবন ও কর্ম
-
Rating:




জন্মঃ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস হজরত ইমাম বুখারী (রহ.) ১৯৪ হিজরি সালের ১৩ শাওয়াল পবিত্র জুমার দিনে বর্তমান তাজিকিস্তানের রাজধানী সমরকন্দ থেকে প্রায় ৩৮ মাইল পশ্চিমে অবস্হিত বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করন। তার নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু আবদুল্লাহ, উপাধি আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস’।
শৈশবঃ ইমাম বুখারী (রহ.) বাল্যকালেই পিতৃহারা হন। তার লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার দায়িত্ব তার মাতার ওপরই বর্তায়। তার মাতা অধিকাংশ সময় ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন। সর্বদা জিকিরে সময় কাটাতেন। বাল্য অবস্হায় ঘটনাক্রমে ইমাম বুখারীর দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। শত চেষ্টা করেও তার দৃষ্টি সচল হচ্ছিল না। একদিন তার মা আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে দোয়া করায় স্বপ্নযোগে হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সাক্ষাৎ লাভ করেন। তিনি তাকে সুসংবাদ দেন, তোমার দোয়া আল্লাহপাক কবুল করেছেন এবং তোমার ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। নিদ্রা থেকে উঠে দেখতে পান তার সন্তান দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন।
শিক্ষা জীবনঃ তার বয়স সবেমাত্র পাঁচ বছর। তার মা দ্বীনি ইলম শিক্ষার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তাকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য বড় বড় হাদিস বিশারদের কাছে পাঠাতে থাকেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, আমার অন্তরে হাদিস শিক্ষার আকর্ষণ হলে আমি প্রাথমিক শিক্ষা ত্যাগ করে হাদিস মুখস্হ করা আরম্ভ করি। আমার বয়স তখন দশ বছর। হাদিস শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি তা মুখস্হ করে ফেলতাম। তিনি যখন একাদশ বছরে উপনীত হন, তখন মুহাদ্দিস দাখিলির দরসে গমন করেন। তৎকালীন যুগে তার হাদিসের দরস খ্যাত ছিল। শিক্ষা দানকালে মুহাদ্দিস দাখিলি একটি সনদে একটু ওলট-পালট করে বর্ণনা করেন। তখনই ইমাম বুখারী আরজ করেন, সনদটি এভাবে নয়। মুহাদ্দিস দাখিলি রাগান্বিত স্বরে ধমক দিলেন। তদুপরি ইমাম বুখারী (রহ.) আদরের সঙ্গে বিনম্রভাবে আবেদন জানান, আসল কপি থাকলে একটু দেখে নিলে ভালো হবে। অতঃপর ইমাম বুখারী (রহ.) এ কথাকে তিনি সত্যায়ন করেন। তিনি ইমাম বুখারীকে বর্ণনা করতে বললে তিনি বিশুদ্ধ সনদ শুনিয়ে দিলেন। উল্লিখিত ঘটনার পর মুহাদ্দিস দাখিলি তাকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসেন। ইমাম বুখারীর (রহ.) বাল্যকালে সত্তর হাজার হাদিস মুখস্হ ছিল। ১৬ বছর বয়সে তিনি হেজাজ গমন করেন। সেখান থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে হজ আদায় করেন। ইমাম বুখারী উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশে মক্কা মোকাররমায় গমন করেন। ২১২ হিজরিতে তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় চলে যান।
রচনাবলিঃ ইমাম বুখারী (রহ.) বুখারী শরীফের মতো এক অবিস্মরণীয় গ্রন্হ রচনা করে জগতবাসীকে চিরঋণী করেছেন। এই গ্রন্হের এক-একটি হাদিস রচনা করতে গিয়ে অজু-গোসল করে নবীজীর রওজার কাছে বসে দুই রাকাত নামাজ পড়ে হুজুরের (সা.) ইঙ্গিত লাভ করলেই তা লিপিবদ্ধ করতেন। এভাবে তিনি পুর্ণ বুখারী শরীফ লেখার কাজ সম্পন্ন করেন। তার লিখিত আরো কিতাব হচ্ছে ‘তারিখে কবির’, ‘খলকে আফয়ালুল ইবাদ’।
মৃত্যুঃ ২৫৬ হিজরিতে ঈদুল ফিতরের রাতে পবিত্র শাওয়ালের ১ তারিখে প্রায় বাষট্টি বছর বয়সে তিনি ইহধাম ত্যাগ করে মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে যান। শনিবার দিন জোহরের নামাজের পর খরতুংগ নামক স্হানে তাকে দাফন করা হয়।
*************************
মুফতী মুফীযুর রহমান
আমার দেশ, ০২ আগষ্ট ২০০৮