Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
ইসলামে নেই অতিলৌকিক বাণিজ্যের অবকাশ
http://articles.ourislam.org/articles/402/1/aaaaaa-aaa-aaaaaaaaa-aaaaaaaaa-aaaaa--/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 09/16/2008
 
ধর্মের দোহাই দিয়ে অতিলৌকিক বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বাড়ছিল। বেড়ে যাচ্ছিল সরল-দুর্বলচিত্ত সমস্যা ভারাক্রান্ত মানুষের সঙ্গে ভন্ডামি ও প্রতারণা। এভাবে টাকাকড়ি ও সম্ভ্রম লুটের ঘটনা খোদ রাজধানীতেও ঘটেছে বহু। সম্প্রতি ভন্ডামিপুর্ণ এই অতিলৌকিক বাণিজ্যের আস্তানায় হানা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। লেবাসের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে শঠ-প্রতারকদের কুৎসিত চেহারা। যেহেতু এসব ভন্ডামির সঙ্গে ধর্মকে একাকার করে ফেলা হচ্ছিল, তাই এসব বিষয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে বিশিষ্ট তিনজন ইসলামী চিন্তাবিদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন শরীফ মুহাম্মদ

ইসলামে নেইঃ অতিলৌকিক বাণিজ্যের অবকাশ

ধর্মের দোহাই দিয়ে অতিলৌকিক বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বাড়ছিল। বেড়ে যাচ্ছিল সরল-দুর্বলচিত্ত সমস্যা ভারাক্রান্ত মানুষের সঙ্গে ভন্ডামি ও প্রতারণা। এভাবে টাকাকড়ি ও সম্ভ্রম লুটের ঘটনা খোদ রাজধানীতেও ঘটেছে বহু। সম্প্রতি ভন্ডামিপুর্ণ এই অতিলৌকিক বাণিজ্যের আস্তানায় হানা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। লেবাসের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে শঠ-প্রতারকদের কুৎসিত চেহারা। যেহেতু এসব ভন্ডামির সঙ্গে ধর্মকে একাকার করে ফেলা হচ্ছিল, তাই এসব বিষয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে বিশিষ্ট তিনজন ইসলামী চিন্তাবিদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন
শরীফ মুহাম্মদ

অলৌকিকতা, অতিলৌকিকতা কিংবা অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট লেখক ড. মুহাম্মদ আবদুল মা’বুদ বলেন, ইসলামের অলৌকিকতার বিষয়টিকে প্রথমত আমরা দু’পর্যায়ে দেখতে পাই। একটি হচ্ছে মু’জিযা, যা কেবল আল্লাহর নবীগণের বেলাতেই ঘটেছে। এখন আর কোনো মু’জিযা নতুন করে ঘটার কথা নয়। দ্বিতীয় হচ্ছে কারামত। আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা-ওলিদের জীবনে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে থাকে। ঘটা সম্ভবও। হাদিসে আছে, কারামাতুল আউলিয়া-ই হক্কুন। তবে এ দু’ক্ষেত্রেই এটা স্মরণযোগ্য যে, এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা যার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, বিষয়টি তার এখতিয়ার বা ইচ্ছাতেই ঘটে না। তারা ইচ্ছা করলেই অলৌকিক কিছু করে ফেলতে পারেন না। কোনো প্রমাণ বা প্রকাশের জন্য তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাই এরকম অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, অলৌকিকতার আরেকটি পর্যায়কে বলা হয় ইস্তিদরাজ। কোনো নবী কিংবা ওলির মাধ্যমে না ঘটে অন্য যে কোনো মানুষের মাধ্যমেই এমন কিছু কখনো কখনো ঘটতে পারে। ইসলাম অনুশীলনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই-এমন যে কোনো শয়তানি স্বভাব অবলম্বনকারী লোকের পক্ষেও কখনো কখনো সুনির্দিষ্ট সাধনার ভিত্তিতে অলৌকিক বা অতিলৌকিক কিছু ঘটিয়ে দেখানো অসম্ভব নয়। এটাকেই ‘ইস্তিদরাজ’ বলা হয়। ভন্ডামি করার জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকে। এজন্যই ইসলামের দৃষ্টিতে অলৌকিকতা কোনো কৃতিত্বের মাপকাঠি হিসেবে স্বীকৃত নয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। ব্যাপকভাবে তাবিজ-কবজের যে চর্চা হয়, এটাও ইসলামে উৎসাহযোগ্য নয়। তাছাড়া স্বাভাবিক চিকিৎসা অবলম্বনের পর ইসলামের প্রাথমিক যুগে কখনো কখনো ঝাড়ফুঁকের কিছু ঘটনা পাওয়া যায়। সেটা মুল চিকিৎসা হিসেবে নয় এবং কখনো তাতে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধান্ধাবাজির ব্যাপার থাকতো না। এখন যেসব অলৌকিক ব্যবসার ফাঁদ পাতা হতে দেখা যায়, তার সবই হচ্ছে ভন্ডামি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামি বিশ্বকোষ বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা, বিশিষ্ট লেখক ড. আ ফ ম আবদুল জলিল জিনের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, জিন আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি একটি অদৃশ্য সম্প্রদায়। জিনের অস্তিত্ব সত্য। পবিত্র কোরআনে ‘সুরায়ে জিন’ নামে একটি সুরাও বিদ্যমান। জিনদের কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতাও রয়েছে। বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণে জিনদের বিরাট ভুমিকা ছিল। জিন আয়ত্ত করার কিছু কিছু আমলের কথাও অতীতে পাওয়া যায়; কিন্তু বর্তমানে জিনদের আয়ত্ত করে কাজ করানোর যেসব ব্যবসা ও বিজ্ঞাপনের দৃশ্য চোখে পড়ে, এসবের সাড়ে নিরানব্বই ভাগই ভুয়া।

ইসলামে পীরের ধারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে তাজকিয়া বলতে যা বোঝানো হয়েছে, সেটি হচ্ছে রিপু থেকে মানুষের অন্তরের পরিশুদ্ধি ঘটানো। মানুষের মাঝে তেলাওয়াতে কোরআন, কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়ার কথার পর নবী (সা.)-এর তৃতীয় কাজ বলা হয়েছে তাজকিয়া। রাসুল (সা.) সাহাবিদের ক্ষেত্রে এটা করতেনও। পরবর্তীতে মুল বিষয়টিকে অবলম্বন করেই আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির বিভিন্ন সিলসিলা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সিলসিলাভিত্তিক কর্মকান্ডের নামে মুল বিষয় অন্তরশুদ্ধিকেই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এজন্যই পীরবাদের অনেক কিছুর মধ্যেও এখন ব্যবসা ও স্বার্থ ঢুকে পড়েছে। দেখা যায়, যোগ্য উত্তরসুরি থাকা সত্ত্বেও পীরের ছেলেকে পীর বানানো হয়। এসবের মধ্য মুলত ব্যবসা ও স্বার্থপ্রবণতার বিষয়টিই মুখ্য। এজন্য জিনের ক্ষমতার ব্যবহার বলি আর পীরের অনুসরণের কথাই বলি, উভয় ক্ষেত্রে চুড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। মনে রাখতে হবে, কোনোভাবে জিন আয়ত্ত করতে পারা কিংবা অলৌকিক কিছু ঘটানোর দ্বারা কোনো ব্যক্তির কামেল হওয়া বা কৃতিত্বের দলিল হতে পারে না। যে কোনো অসৎ ব্যক্তির দ্বারাও এসব হতে পারে। এবং কোনো কামেল ও যোগ্য মানুষের ক্ষেত্রেও অলৌকিক কোনো কিছুর প্রকাশ না-ও ঘটতে পারে আর জিন আয়ত্তের কোনো কৌশল বা শক্তির চর্চা তিনি না-ও করতে পারেন।

মালিবাগ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস, বিশিষ্ট লেখক মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া জাদুটোনা, বদনজর ও তদবির প্রসঙ্গে বলেন, ক্ষতিকর জাদুটোনা ও বদনজরের বিষয়টিকে ইসলাম অস্বীকার করে না। কুফুরি কালামের মাধ্যমেও এসব ঘটানো যেতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে অহেতুক ব্যতিব্যস্ত হওয়া কিংবা এর জন্য ব্যবসা ফেঁদে বসার কোনো অনুমোদন ইসলাম দেয় না। যে কোনো রোগব্যাধিতে প্রধান অবলম্বন হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে দৃঢ় সন্দেহ হলে জাদুটোনা, বদনজর ও কুফুরি কালামের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য ‘তাআউউযাতাইন’ বা কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আউযু বিরাব্বিন নাস’ সুরা দুটি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করার আমল করা যেতে পারে। এছাড়াও সুরায়ে ফাতেহা, আয়াতুলকুরসি তেলাওয়াতের পাশাপাশি অজুুসহ অবস্হান করলে সুফল পাওয়া যায়। ভন্ড প্রতারক বিজ্ঞাপনদাতা ‘তদবিরবাজদের’ ভুয়া ইন্দ্রজালের মায়ায় কারো ছোটা ঠিক নয়। 

**************************
আমার দেশ, ০৯ আগষ্ট ২০০৮