Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
শোলাকিয়ায় তার জানাজায় কেঁদেছে মানুষ
http://articles.ourislam.org/articles/410/1/aaaaaaaaaa-aaa-aaaaaaa-aaaaaaa-aaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 08/19/2008
 
মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ·) বাংলাদেশের ইসলামিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একজন ইসলামী বুদ্ধিজীবী, আদর্শ সাংসদ, সুবক্তা, সুসাহিত্যিক ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। ইসলাম ও আধুনিকতায় কোথাও যে বৈপরীত্য নেই- মরহুমের জীবন, কর্ম, আলোচনা, রচনায় তা স্পষ্ট। তিনি ছিলেন ঘরে-বাইরে সমান আধুনিক।

শোলাকিয়ায় তার জানাজায় কেঁদেছে মানুষ

সত্তর দশক সমাপ্তির পথে। তখন আমি ময়মনসিংহ শহরের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রাথমিক স্তরের ছাত্র। জীবনে যখন প্রথম ওই মাদ্রাসায় ভর্তি হই, সেই বছরেরই শীতকালে অনুষ্ঠিত রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিলে তার ওয়াজ শুনি। আরও অনেক আলেমই সেখানে ওয়াজ করেছিলেন। কিন্তু তার বক্তৃতাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছিল। কারণ তিনি কোরআন, হাদিসের সঙ্গে বিজ্ঞানের সমম্বয় ঘটিয়ে ওয়াজ করেছিলেন। তখন থেকেই মনে মনে তার ওয়াজের ভক্ত হয়ে যাই। এভাবেই তিনি আমার প্রিয় আলেম প্রিয় বক্তা। তিনি কেবল আমার নন, অনেকেরই প্রিয় বক্তা প্রিয় আলেম। বিশেষত আধুনিক শিক্ষিতদের কাছে।

মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ·) বাংলাদেশের ইসলামিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একজন ইসলামী বুদ্ধিজীবী, আদর্শ সাংসদ, সুবক্তা, সুসাহিত্যিক ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। ইসলাম ও আধুনিকতায় কোথাও যে বৈপরীত্য নেই- মরহুমের জীবন, কর্ম, আলোচনা, রচনায় তা স্পষ্ট। তিনি ছিলেন ঘরে-বাইরে সমান আধুনিক।

মাওলানা আতাউর রহমান খান ১ মার্চ ১৯৪৩ সালে কিশোরগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মাওলানা আহমদ আলী খান। তিনি কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত জামেয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসায় দীর্ঘ চার দশক অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। বাবার কাছেই আতাউর রহমান খানের শিক্ষার হাতেখড়ি। জামেয়া ইমদাদিয়াতেই শুরু হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। এখান থেকেই দাওয়ারে হাদিস (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেন। ১৯৬৩ সালে শিক্ষাজীবন শেষ হলে একই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি এ মাদ্রাসায় হাদিসের পাঠ দান করেছেন। তিন টার্মে বেফাকুল মাদারিসে (কওমি মাদ্রাসা বোর্ড) দীর্ঘ নয় বছর (১৯৮২-৯১) মহাসচিবেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার লেখা গ্রন্থগুলো হচ্ছে- তাফসিরে সূরা মূলক, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও ইসলাম, ইসলামের অর্থ বণ্টন ব্যবস্থা, মাওলানা আতাহার আলীর স্মৃতি ও নির্বাচিত প্রবন্ধ ইত্যাদি।

এ আধুনিক আলেম ৩১ জুলাই ইন্তেকাল করেছেন। মাওলানা তার প্রত্যেক ছেলেকে আলেম বানিয়েছেন। আবার তারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। এমন এক খ্যাতিমান পিতার মৃত্যু প্রতিক্রিয়া জানতে যুগান্তরের পক্ষ থেকে পুত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সাংবাদিক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান বলেন, আব্বা পাঁচ বছর সাংসদ থাকাকালে সামান্যতম ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতেন। সারাজীবন সহজ-সরল জীবনযাপন করেছেন। গরিব দুঃখী অনায়াসে তার সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তার কাছে অবাধে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পেরেছে। এককথায় আব্বার জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও মানবতায় কিশোরগঞ্জবাসী মুগ্ধ। তারা আব্বাকে যে কত ভালোবাসত, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তার জানাজায় দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ শোলাকিয়া মাঠ মুসল্লিতে টইটম্বুর হয়ে উঠেছিল।

দেশের আধুনিক ধারার ইসলামী সঙ্গীতশিল্পী মুহিব খান বলেন, আধুনিকমনা বাবা-মার ঘরে জন্মেছি বলেই আমি আজ শিল্পী হতে পেরেছি। তার সঙ্গে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি, এ আমার জন্য সৌভাগ্য। তার উৎসাহ ও দোয়ায় আমি সঙ্গীত জগতের এ পর্যায়ে এসেছি।

আল-আরাফাহ ব্যাংকের শেয়ার অফিসার রেজওয়ানুর রহমান খান বলেন, আব্বা যখনই ঢাকায় আসতেন আমার বাসায় থাকতেন। এ সুবাদে আল্লাহ আমাকে তার দেখমতের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে আমি ধন্য।

শিক্ষাবিদ ড· খলিলুর রহমান খান বলেন, আমার আব্বা ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। ছাত্রজীবন শেষ করে আমরণ তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেই জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন আদর্শ ও আধুনিক আলেম তৈরির কারিগর।

মাওলানা ওয়ালিউর রহমান খান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মোহাদ্দেস’ পদে নিয়োজিত। তিনি বলেন, আমরা ভাইয়েরা দেশ-বিদেশে খ্যাতিমান শিক্ষালয় থেকে আলেম হয়েছি। তারপরও যে কোন বিষয়ে আব্বার সঙ্গে কথা বললে মনে হতো এখনও আমাদের জানার কত বাকি। আমি এমন পিতার জানাজায় ইমামতি করতে পেরে সৌভাগ্যবান মনে করছি।


**************************
লিয়াকত আমিনী
যুগান্তর, ০৮ আগষ্ট ২০০৮