করুণাময় আল্লাহতায়ালা নারী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন মানব সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কোন পুরুষের পক্ষে যেমন নারীর বিশেষ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়, তেমনি নারীর পক্ষেও পুরুষের কঠিন কার্যাবলী আনজাম দেয়া সম্ভব নয়। নারী জাতির প্রথম কর্মক্ষেত্র বিশেষ করে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, দুগ্ধপান, শিশু প্রতিপালন ইত্যাদি। প্রতিটি স্তর নারীকে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়। এরপর মুসলমান নারীদের বিদ্যা অর্জন শেষে তাদের রূপ-যৌবন আবৃত করে, শালীনতা বজায় রেখে প্রয়োজনবোধে রুজি-রোজগার, বাইরে চলাফেরা করা আল্লাহর বিধানে কোন নিষেধ নেই। মানুষের দুনিয়ার জীবন হচ্ছে আখেরাতের সীমাহীন জীবনের ভিত্তি। এ দুনিয়াতে তার বিশ্বাস, পথ ও কার্যক্রমই নির্ধারণ করবে আখেরাতের চিরস্থায়ী শাস্তি বা শান্তি। সভ্যতা ও শালীনতা শান্তির জন্য অপরিহার্য।

আমাদের সমাজে যে অবক্ষয় চলছে রীতিমতো চিন্তার বিষয়। শিক্ষক কতৃêক ছাত্রী নিপীড়ন সম্পর্কে প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়। একটি দেশের জন্য এটা মোটেও শুভ নয়।

ইসলাম পুরুষের মতো নারীর জন্যও শিক্ষা লাভ ফরজ করেছে। শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। নারীর প্রশিক্ষণের মধ্যে মৌলিক বিষয় হচ্ছে তার অন্তরে সততা, লজ্জা, নম্রতা, ইজ্জত ও পবিত্রতার অনুভূতি সৃষ্টি করা। এসব গুণাবলীকে তার অভ্যাসে পরিণত করা। একটি জাতির উন্নতি, অগ্রগতি, অবনতি নির্ভর করে তার সন্তান-সন্ততির শিক্ষা-দীক্ষার ওপর এবং এই শিক্ষা অধিকতর নির্ভর করে মায়ের ওপর। মা যদি শিক্ষিত, নেককার, জ্ঞানী, চরিত্রবতী, বুদ্ধিমতী ও সচেতন হয় তা হলে নিঃসন্দেহে সন্তান ওইসব গুণে গুণাম্বিত হবে। কাজেই মেয়েদের শিক্ষা যদি ভালো হয়, তবে পরিণামও ভালো হবে। এককথায় আমাদের মেয়েদের বাধ্যতামূলকভাবে পৃথক মহিলা মাদ্রাসার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধে জাগরিত করতে হবে। সুষ্ঠু সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলায় মহিলা মাদ্রাসা গড়ে তোলা একান্ত জরুরি।

**************************
মোহাম্মদ আজিজুল হক মল্লিক
যুগান্তর, ০৮ আগষ্ট ২০০৮