ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে আড়াই লক্ষাধিক মসজিদ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাড়ে সাত থেকে আট লাখ জনবলের নীতিনির্ধারণের জন্য সরকার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ নামে একটি যুগান্তকারী গেজেট প্রকাশ করে, যা সময়ের দাবিও বটে। এতে মসজিদ স্টাফরা খুশি হলেও বৈষম্য দূর করার পথ খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারি মসজিদগুলোতেই জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে বেতন স্কেলের সামঞ্জস্য নেই। বেসরকরি মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে রয়েছে অধিক বৈষম্য। ক্ষেত্র বিশেষে মসজিদ স্টাফরা ব্যক্তিস্বার্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, নৌ, সেনা, পুলিশ ও বিমানবাহিনীর মসজিদ স্টাফদের বেতন স্কেল অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেলে না। এসব বৈষম্য দূর করতে বাংলাদেশ সরকার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ধর্ম/সংস্থা/৭-৩/২০০৪/১১৯’ গেজেটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। দুঃখের বিষয়, অন্য মন্ত্রণালয় এই গেজেট/নীতিমালার গুরুত্ব দিচ্ছে না। যা আলেম সমাজের প্রতি বৈরী আচরণ ও ধর্মের প্রতিও অবজ্ঞার শামিল। অবশ্য ইমাম-মোয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট নামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে মসজিদ স্টাফদের উন্নতিকল্পে নয় কোটি টাকা প্রদান করে সরকার। যা প্রশংসনীয় যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই কল্যাণ ট্রাস্টেরও কিছু সংস্কার অত্যাবশ্যক। ট্রাস্টে ‘খাদেম’দের কোন গুরুত্ব নেই, যা অনৈতিক আচরণ বলে মনে করে বিজ্ঞ মহল। একজন খাদেমের হাতেই মসজিদের সব সহায়-সম্পদ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকে। তাই অধুনা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘খাদেম’ শব্দের পরিবর্তে ‘মসজিদ তত্ত্বাবধায়ক’ শব্দ ব্যবহার করাই শ্রেয়। সেই সঙ্গে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ গেজেট কতৃêক নির্ধারিত যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বেতন স্কেল দেয়া আছে যথাঃ

পদের নাম স্কেল শিক্ষা
ক· সিনিয়র পেশ ইমাম ১৩৭৫০- ১৯২৫০ টাকা কামিল/দাওরা হাদিস
খ· পেশ ইমাম ১১০০০-১৭৬৫০ টাকা ঐ
গ· ইমাম ৬৮০০-১৩০৯০ টাকা ঐ
ঘ· প্রধান মুয়াজ্জিন ৫১০০-১০৩৬০ টাকা ঐ
ঙ· মুয়াজ্জিন ৪১০০-৮৮২০ টাকা ফাজিল অথবা কওমি মাদ্রাসা থেকে সমমান
চ· প্রধান খাদেম ৩১০০-৬৩৮০ টাকা (ম· তত্ত্বাবধায়ক-১) ঐ
ছ· খাদিম ৩০০০-৫৯২০ টাকা (ম· তত্ত্বাবধায়ক-২) ঐ

উক্ত বিধান বাংলাদেশের সব মসজিদের জন্য আইনগতভাবে বাস্তবায়িত করতে সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিকতা কাম্য। এই নীতিমালা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি বৃহৎ জাতি মহান আল্লাহতায়ালার একটি নির্দেশে একতাবদ্ধ হয়ে থাকবে এবং তা পালন করবে।

**************************
মওলানা আবদুল হক শামীম
যুগান্তর, ০৮ আগষ্ট ২০০৮