কোরবানি একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ ত্যাগ, উৎসর্গ, নৈকট্য লাভ ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় জিলহজ মাসের দশ তারিখ থেকে বারো তারিখ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু পশু জবাইকেই আমরা কোরবানি বলি। আর এ উপলক্ষে পালিত উৎসবকেই আমরা বলি ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ।
ঈদের দিনের সুন্নত
* সাধ্যানুযায়ী সজ্জিত হওয়া
* মেসওয়াক করা
* গোসল করা
* ক্ষমতানুযায়ী উত্তম বা ধৌত করা কাপড় পরিধান করা
* সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা
* খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা
* ফজরের পর শিগগিরই ঈদগাহে উপস্হিত হওয়া
* ঈদগাহে যাওয়ার আগে খোরমা বা কোনো মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া (ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু না খাওয়া মুস্তাহাব)
* ঈদুল ফেতরে ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফেতর আদায় করা (ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করা নেছাবধারী ব্যক্তিদের ওপর ওয়াজিব)
* কোনো ওজর না থাকলে মসজিদে ঈদের নামাজ না পড়া
* ঈদগাহে এক পথে যাওয়া অন্য পথে আসা
* ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া
* ঈদগাহে তাকবির বলতে বলতে যাওয়া (ঈদুল ফেতরে অনুচ্চস্বরে এবং ঈদুল আজহায় উচ্চস্বরে)
নামাজের নিয়ম
প্রথম তাকবিরের তাহরিমা পড়ে যথারীতি হাত বাঁধবে এবং ছানা পড়বে। অতঃপর কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির পড়বে এবং প্রত্যেকবার হাত ছেড়ে দেবে। চতুর্থ তাকবিরের সময় হাত বাঁধার পর আউযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়বে। মুকতাদিরা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর ইমাম সাহেব সুরা-কেরাত পড়ে যথারীতি প্রথম রাকাত সমাপ্ত করবেন। দ্বিতীয় রাকাতে যথারীতি সুরা ফাতেহা ও কেরাত শেষ করার পর রুকুতে না গিয়ে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির পড়বে এবং প্রত্যেক তাকবিরে হাত ছেড়ে দেবে। অতঃপর তাকবির পড়ে রুকুতে যাবে এবং যথারীতি দ্বিতীয় রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে।
***************************
লেখকঃ উবায়দুল্লাহ যাকারিয়া
দৈনিক আমারদেশ, ১৪ ডিসেম্বর ২০০৭