সাইয়্যেদেনা হজরত মহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (রহ•) মাতৃগর্ভে আবির্ভূত হওয়ার প্রথম মাসেই হজরতের পুণ্যবতী বুজুর্গ মহীয়সী জননী উম্মুল খায়ের ফাতিমা (রা•) স্বপ্নে দেখতে পান- হজরত মা হাওয়া (আ•) আগমন করে তাকে বলছেন, ‘ফাতিমা! এ জগতে তুমিই সৌভাগ্যশালিনী মহিলা। তোমার গর্ভে কুতুবুল আকতার, গাউসুল আযম, আউলিয়াকুলের মুকুটমণি আবিভূêত হয়েছেন।’ দ্বিতীয় মাসে হজরত ইব্রাহীম (আ•)-এর স্ত্রী হজরত সারা (আ•) স্বপ্নে হজরত উম্মুল খায়ের ফাতিমাকে বললেন, ‘হে ফাতিমা! তোমার জীবন ধন্য! নূরে আযম তোমার গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন।’
তৃতীয় মাসে তিনি স্বপ্নে দেখলেন- হজরত আছিয়া (আ•) তাঁকে খোশখবর প্রদান করছেন, ‘ফাতিমা! তুমি সাবধানে থেকো। তোমার গর্ভে ‘রওশন যমীর’ স্থান লাভ করেছেন।’ চতুর্থ মাসে হজরত ঈসা (আ•)-এর জননী হজরত মরিয়ম (আ•) স্বপ্নযোগে তাকে বলেন, ‘তোমার গর্ভে জগৎবরেণ্য মহামানব আগমন করেছেন।’
পঞ্চম মাসে উম্মুল মোমেনিনা হজরত খাদিজাতুল কোবরা (রা•) স্বপ্নযোগে তাকে বলেন, ‘হে ফাতিমা! তোমার গর্ভে দ্বীন ইসলামের মৃতপ্রায় দেহে নতুন জীবন সঞ্চারক ‘মহিউদ্দিন’ আবির্ভূত হয়েছেন।’ ষষ্ঠ মাসে উম্মুল মোমেনীনা হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা•) স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বলেন, ‘হে ভাগ্যবতী ফাতিমা! যে মহাপুরুষের কার্যকলাপ ও অভাবনীয় মহত্ত্বে ও গুণগরিমায় জগতের মানুষ মোহিত হবে, অচিরেই তিনি তোমার স্নেহের কোল আলোকিত করবেন।’ সপ্তম মাসে হজরত ফাতিমাতুজ যাহ্রা (রা•) স্বপ্নযোগে তসরিফ করে বলেন, ‘স্নেহের ফাতিমা! সত্বরই সাইয়্যেদ গগনের দীপ্তিমান ভাস্কর তোমার কোল উদ্ভাসিত করবেন।’
অষ্টম মাসে হজরত ইমাম হাসান (রা•)-এর বিবি জয়নব (রা•) বলেন, ‘ফাতিমা! অনতিকাল পরেই এমন এক মহাপুরুষ তোমার কোল উজ্জ্বল করবেন, যার আপ্রাণ চেষ্টায় হুজুর (সা•)-এর মৃতপ্রায় দ্বীন নতুন বলে বলীয়ান হবে।’
নবম মাসে হজরত ইমাম হোসাইন (রা•)-এর বিবি স্বপ্নে বলেন, ‘হে মহাভাগ্যবতী ফাতিমা! তুমি সর্বদা সাবধান ও সতর্ক থেকো। তোমার সৌভাগ্য চন্দ্র উদিত হওয়ার সময় অতি নিকটে। আউলিয়াকুলের মাথার মুকুট কুতুবুল আকতাব অতি অল্প সময়ের মধ্যে তোমার ঘর আলোকিত করবেন।’
হজরত বড়পীর (রহ•)-এর মা উম্মুল খায়ের ফাতিমা (রা•) বলেন, যেদিন আমার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় সেদিন আমার স্বামী বুজুর্গ হজরত আবু সালেহ মুসা (আ•) স্বপ্নে দেখেন, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রধান সাহাবায়ে কেরামগণসহ আমাদের গৃহে তসরিফ এনে তাঁকে মোবারকবাদ জানিয়ে ইরশাদ করেন- ‘হে আবু সালেহ! আল্লাহতায়ালা তোমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছেন, সে আমার প্রিয়, আল্লাহতায়ালারও প্রিয়। অতি শিগগিরই সে সব ওলি ও কুতুবগণের মধ্যে এমন মর্যাদার অধিকারী হবে, যেমন সব নবী ও রাসূলের মধ্যে আমার মর্যাদা রয়েছে।’ হুজুর (সা•) মিরাজে গমন করার সময় হজরত গাউসুল আযমের রুহু মোবারককে নিজের কদমের কাছে দেখে তার ঘাড়ের ওপর নিজের কদমযুগল রেখে বলেছেন, ‘যেভাবে এখন আমি আমার কদম তোমার ঘাড়ের ওপর রাখলাম, তেমনি আমার উম্মতের ওলিগণের ওপর তোমার কদম থাকবে।’
মাতৃগর্ভে থেকেই বাঘের আকৃতি ধারণ করে তিনি প্রথম কারামত প্রকাশ করেছেন। ৪৭১ সনের সাবান মাসের ২৯ তারিখে আকাশ অতি মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কোথাও রমজানের চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া যায়নি। হজরত বড়পীর (রহ•) দিনের বেলায় স্তন্যপান না করে রমজানের আগমনের সংবাদ দিয়েছেন। ৪৭১ হিজরির ১ রমজান শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের জ্ঞানভাণ্ডার সাধকগণের সূর্য অলিকুলের সম্রাট সাইয়্যেদেনা পীরে পীরান মাহবুবে সোবহানি হজরত মহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (রহ•) ইরানে জন্মগ্রহণ করেন।
**************************
মোহাম্মদ গোলাম যোবায়ের
যুগান্তর, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮