কোরবানির ফজিলত ও গুরুত্ব
কোরবানির অত্যধিক ফজিলত রয়েছে। হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কোনো আমল আল্লাহর কাছে নেই। কোরবানিকারী কিয়ামতের দিন জবেহকৃত পশুর লোম, শিং, ক্ষুর, পশম ইত্যাদি নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্হিত হবে। কোরবানির রক্ত জমিনে পতিত হওয়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব, তোমরা কোরবানির সঙ্গে নিঃসংকোচ ও প্রফুল্লমন হও’ (ইবনে মাজাহ তিরমিজি)।

কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থø থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়’ (ইবনে মাজাহ)।

কোরবানি কার ওপর ফরজ
ঈদুল আজহার দিনগুলোতে যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক থাকবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কমপক্ষে ১টি বকরি, ভেড়া বা দুম্বা কোরবানি করতে হবে। আর যদি গরু-মহিষ বা উট কোরবানি করে, তবে তা উত্তম অথবা প্রতিটি গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারে।

কোরবানির পশুর প্রকারভেদ
কোরবানির পশু আট প্রকার। যথা-ভেড়া বা দুম্বা, ছাগল, গরু, উট-এই প্রতিটির নর ও মাদি এই হিসেবে আট প্রকার (সুরাহ আন’আম)।

ঈদুল আজহা ও কোরবানির বিধান
ঈদুল আজহার নামাজের আগে খাবার গ্রহণ না করা সুন্নত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরে খাবার গ্রহণ না করে নামাজে যেতেন না আর ঈদুল আজহার নামাজের আগে খাবার গ্রহণ করতেন না, নামাজ থেকে ফিরে এসে খাবার গ্রহণ করতেন’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।

কোরবানি ঈদে সকালে কোনো খাবার গ্রহণ না করে কোরবানির জবাইকৃত পশুর কলিজা বা গোশত দিয়ে খাবার গ্রহণ করা মুস্তাহাব (মিশকাত)।

ঈদের দিন গোসল করা সুন্নত। হাদিস শরীফে রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার দিনে, জুমার দিনে, ঈদুল ফিতরের দিনে ও ঈদুল আজহার দিনে বিশেষভাবে গোসল করতেন (ইবনে মাজাহ)।

ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া উত্তম। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘ঈদের নামাজে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নত’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।


ঈদের নামাজে এক পথে যাওয়া এবং অন্য পথে ফেরা সুন্নত। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে এক পথে গমন করতেন এবং অন্য পথে প্রত্যাবর্তন করতেন’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।

কোরবানির পশু সুন্দর, সুঠাম ও নিখুঁত হওয়া চাই। কানা, খোঁড়া, রোগা, জীর্ণশীর্ণ, অর্ধেক কান কাটা বা ছিদ্র করা, অর্ধেক শিং ভাঙা, অর্ধেক লেজ কাটা পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে না (মিশকাত)। শরিকে কোরবানি দেয়ার চেয়ে একাকী একটি পশু কোরবানি দেয়া উত্তম।

কোরবানি করার সময় আল্লাহর নাম নেয়া তথা ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলা জরুরি। আর কোরবানির সম্পুর্ণ দোয়া পড়া মুস্তাহাব।

***************************
লেখকঃ  মুফতি মুফীযুর রাহমান
দৈনিক আমারদেশ, ১৪ ডিসেম্বর ২০০৭