ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজ। ইমানের পরই নামাজের স্হান। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নামাজ কায়েম করল সে যেন দীনকে প্রতিষ্ঠা করল; আর যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করল সে যেন দীনকে ধ্বংস করল (আল হাদীস)।
নামাজ আদায় করা আল্লাহর হুকুম, ফরজ। একটি সুস্হ, সুন্দর ও সুশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নামাজের ভুমিকা অনেক। শৃঙ্খলা আনয়নে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। জামাতের সঙ্গে নামাজের ভেতর একদল মানুষ মাত্র একজন মানুষের (ইমামের) আনুগত্য করে। নামাজের বাইরে এসে সমাজের মধ্যেও যদি এভাবে আইন-কানুন এবং বৈধ আদেশ-নিষেধের আনুগত্য করে তাহলে সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না।
ধনী-গরিব, ছোট-বড়, রাজা-প্রজা, সাদা-কালো, শ্রমিক-মালিক সবাই একসঙ্গে একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করে। অনেক সময় মসজিদে পরে আসার কারণে বিত্তবান মানুষ পেছনের কাতারে জায়গা পেয়ে শ্রমিকের পায়ের কাছে সিজদা করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এ থেকে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সুন্দর শিক্ষা পাওয়া যায়। আমরা সবাই আদম সন্তান। এক আল্লাহর বান্দা, এক রাসুলের উম্মত। আমরা সবাই সমান। এ শিক্ষাই নামাজ থেকে পেয়ে থাকি। প্রতিদিন ৫ বার নির্দিষ্ট সময়ে মুয়াজ্জিনের আজান শুনে মুসলমানরা মসজিদে ছুটে যায়। শৃঙ্খলার সঙ্গে কাতারে বিন্যস্ত হয়ে বসে। সময়মত নামাজ আদায় করার মাধ্যমে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পাওয়া যায়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মান ছামাতা নাজা’। অর্থাৎ যে চুপ থাকে সে নামাজ পায়। মসজিদে অনর্থক কথা বলা নিষেধ। মসজিদে অনর্থক কথা বলা গুনাহের শামিল। এই কারণে মসজিদে কেউ বথা বলে না। এভাবে নামাজ সহনশীলতা, অনর্থক বা বাজে কথা পরিহার করে এবং নীরবতা পালন করার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে; যা সমাজে স্হিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট সহায়ক। বর্তমান আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, নামাজের মধ্যে উৎকৃষ্ট ব্যায়ামের সুযোগও রয়েছে। এতে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া হয়, বিধায় যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে তাদের অতিরিক্ত ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না।
প্রতিদিন নামাজ আদায়ের জন্য পাঁচবার প্রয়োজনবোধে গোসলও করতে হয়। এতে শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং মন ফুরফুরে থাকে। বিশেষত অজুর সময় গর্দান মাসেহ করা ‘উচ্চ রক্তচাপ’ রোগীদের জন্য খুব বেশি উপকারী, তাছাড়া মেসওয়াকের উপকারিতা তো সর্বজনস্বীকৃত।
মানুষ নামাজের মধ্যে সব অবৈধ এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। মিথ্যা বলা, সুদি ও অবৈধ লেনদেন করা, ঘুষ খাওয়া, মদ্যপান ইত্যাদি অনাচার ও পাপ কাজ মসজিদে তো বটেই; একজন প্রকৃত নামাজি মুসলমান মসজিদের বাইরেও এসব পাপ কাজের কল্পনাও করতে পারে না। নামাজ নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়ক হয় এবং মসজিদের বাইরেও এসব অপকর্ম থেকে বিরত থাকার মানসিকতা ও মনোবল সৃষ্টি হয়।
এভাবেই বিভিন্ন শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নামাজ আমাদের জীবনে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সৃস্হতা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে।
************************
লেখকঃ মোহাম্মদ আল ফাতাহ
দৈনিক আমারদেশ, ২৯ ডিসেম্বর ২০০৭