(মাওলানা আবুল ফাতাহ্ মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া)
জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবুল ফাতাহ্ মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়ার কাছে শরয়ী মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজ্ব পালন সম্পর্কে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। নিম্নে প্রশ্নোত্তরগুলো পত্রস্থ করা হলো :
প্রশ্নঃ মাহরাম কাকে বলে?
উত্তরঃ কোনো মহিলার স্বামী এবং এমন ব্যক্তি ওই মহিলার জন্য মাহরাম হিসেবে গণ্য হবে, যার সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ের অনুমতি নেই, অর্থাৎ কখনো ওই ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে বৈধ হবে না। শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের ব্যক্তিদের মাহরাম বলা হয়।
প্রশ্নঃ স্বীয় মাহরাম ব্যতীত কোনো মহিলা যদি অন্য মাহরামওয়ালী মহিলার সঙ্গে হজ্বে যায় তাহলে কি তার হজ্ব সহীহ হবে?
উত্তরঃ স্বীয় মাহরাম ব্যতীত মাহরামওয়ালী মহিলার সঙ্গে হজ্বের সফর জায়েজ হবে না। মহিলাকে সফরের হালতে তার নিজ মাহরাম অবশ্যই থাকতে হবে। বর্ণিত অবস্থায় মাহরামওয়ালী অন্য মহিলার সঙ্গে হজের সফরে গেলে দ্বিগুণ গোনাহগার হতে হবে। যদি মাহরাম ব্যতীত হজ্ব করতে যায় তাহলে হজ্ব তো আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফরের গোনাহগার হতে হবে।
প্রশ্নঃ কোনো মহিলার মাহরাম যদি তাকে স্বদেশের বিমানবন্দর পর্যন্ত সঙ্গে থেকে বিমানে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায় এবং জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছার পর অন্য মাহরাম এসে তাকে নিয়ে যায়, এ অবস্থায় মাহরাম ব্যতীত বিমানে অবস্থানকালের ব্যাপারে শরয়ী হুকুম কী?
উত্তরঃ স্বীয় দেশের বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত মাহরাম ব্যতীত সফরের জন্য বের হলে ওই মহিলা গোনাহগার হবে।
প্রশ্নঃ কোনো মহিলার ওপর হজ্ব ফরজ হয়েছে। কিন্তু তার কোনো মাহরাম নেই। এ অবস্থায় সে যদি কোনো মাহরাম না পায় তাহলে তার ফরজ হজ্বের ব্যাপারে করণীয় কী?
উত্তরঃ মহিলাদের ওপর হজ্ব ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাহরাম থাকাও আবশ্যক। সম্পদ থাকা অবস্থায় মাহরাম না পাওয়া গেলে কোনো মহিলার ওপর হজ্ব ফরজ হবে না। সুতরাং বর্ণিত অবস্থায় ওই মহিলা হজ্ব পালন করবে না। এমনকি যদি মাহরাম না পেয়ে তার বয়সও চলে যায় তাহলে তার ওপর হজ্ব ফরজ হবে না। ফরজ হজ্বে জন্য তার ওয়ারিশদের অসিয়ত করে যাবে, যেন তার মৃত্যুর পর তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করানো হয়।
**************************
উৎসঃ দৈনিক আমারদেশ, ২৫শে নভেম্বর ২০০৭