Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
খোশ আমদেদঃ হিজরী নববর্ষ-১৪২৯
http://articles.ourislam.org/articles/66/1/aaa-aaaaaa-aaaaa-aaaaaa-aaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 01/11/2008
 
নানা ঘটনার আবর্তে বিদায় নেয় হিজরী বর্ষ এবং শুভবার্তা বয়ে নিয়ে আসে নূতন বছর। আমরা হিজরী নববর্ষকে জানাই-খোশ আমদেদ। বাংলা বছরকে আমরা যেমন সন বা সাল বলে থাকি তেমনি আরবী বছরকে বলে থাকি হিজরী।

খোশ আমদেদঃ হিজরী নববর্ষ-১৪২৯

নানা ঘটনার আবর্তে বিদায় নেয় হিজরী বর্ষ এবং শুভবার্তা বয়ে নিয়ে আসে নূতন বছর। আমরা হিজরী নববর্ষকে জানাই-খোশ আমদেদ। বাংলা বছরকে আমরা যেমন সন বা সাল বলে থাকি তেমনি আরবী বছরকে বলে থাকি হিজরী। গোটা মুসলিম জাতির ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক তথা তাহযীব-তামুদ্দুনিক আদর্শের ঐতিহ্যগত ভিত্তি হিসাবে হিজরী বর্ষের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। ধর্মীয় চেতনা একাত্মবাদের শিক্ষা, জেহাদ এবং অভিযান বিজয়ের ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে হিজরী বর্ষের প্রচলন ও প্রবর্তন। বিশ্ব মুসলমানের পারস্পারিক সৌহার্দ, সম্প্রতি, মমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধের অনুপ্রেরণায় ইসলামী হিজরী বর্ষ প্রচার প্রসার আজ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছে।


বস্ততঃ হিজরী বর্ষের প্রবর্তন মূলতঃ মহানবী হজরত রাসূলে মকবুল (সঃ) যে বছর মদীনায় হিজরত করে ছিলেন অর্থাৎ ৬২২ খৃস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মোতাবেক আরবী বারোই রবিউল আউয়াল মাসে এবং এ বছরেই ১লা মহররম শুক্রবার থেকে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর নির্দেশ ক্রমেই হিজরী বর্ষ গণনা শুরু হয়। পরবর্তীকালে হজরত ওমর ফারুক (রাঃ)-এর খেলাফতকালের চতুর্থ বছর দশই জমাদিউল আউয়াল ৬৩৮ খৃস্টাব্দ হিজরী বর্ষ পদ্ধতিগত গণনার ভিত্তিতে প্রসার ও প্রচলনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়। এ সময় থেকেই ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আদর্শগত ঐতিহ্যের প্রেক্ষিতে হজরত আলী (রাঃ)-এর প্রস্তাবক্রমে মজলিসে সুরা অর্থাৎ পরামর্শ সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং হজরত ওসমান (রাঃ)-এর পরামর্শ ক্রমে ঐতিহ্যগত কারণে মহররম মাস থেকেই হিজরী বর্ষ গণনার প্রথম মাস হিসাবে সর্বসম্মতি ক্রমে গৃহীত হয়।


সন, সাল, অব্দ ইত্যাদির মতোই হিজরী বর্ষের বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্যসহএর নিজস্ব মাস ও দিন রয়েছে যেমনঃ মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানী, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস্‌ সানী, রজব, শাবান, রমজান, শওয়াল, জিলক,্‌ জিলহজ্ব। হিজরী বর্ষের ঘটনাবলীর নিরিখে আমরা হিজরী বর্ষের উৎস, তত্ত্ব, তথ্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারি। বিশেষতঃ মহানবী হজরত রাসূলে করীম (সঃ)-এর প্রিয় জন্মভূমি পবিত্র মক্কা ত্যাগ করা ছিলো ইসলামের ইতিহাসে একটি মহা ঘটনা। যা ইসলামের বিজয়ের ইতিহাসেও বিশেষভাবে উজ্জ্বল এবং অবিস্মরণীয় ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত। আর এ কারণেই মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর হিজরতের পবিত্রতাকে উপলব্ধি করে দিন, মাস, বর্ষ গণনার উদ্ভাব ও প্রচলন।


হিজরী নববর্ষ উদযাপনে সারা বিশ্বের মুসলমান কম-বেশী উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। তবে শুধু উদযাপনের মধ্যে এ দিনটিকে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং ইসলামী মূল্যেবোধের মৌলিক দিক দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এবং পারস্পারিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতিতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বব্যাপী আজ যে নৈরাজ্য, হানাহানি, সহজাত তা নিরসনে ইসলামের সুমহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যেন একটি শান্তির বিশ্ব কায়েম করতে পারি। সেই লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের নানাবিধ সমস্যা এবং নির্যাতনে মুসলিম উম্মাহকে অসহনীয় অবস্থার মধ্যে দারুণভাবে নিপতিত করেছে। এহেন অবস্থায় আমরা জানাই হিজরী নববর্ষ থেকে যেনো পরস্পর পরস্পরকে প্রীতির বম্বন তথা সুনিবিড় আত্মীয়তার সম্পর্কে এগিয়ে আসতে পারি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ, মঙ্গল ও উজ্জ্বল নজীর বিহীন দৃষ্টান্ত তুলে ধরার আহবান জানাই এবং আমাদের মুক্তি, শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর ঐক্য স্থাপনে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। আমাদের মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর জীবন-ব্যাপী কথা ও কর্মের মাঝে মানবের জন্য যে আদর্শ রেখে গেছেন এই হিজরী নববর্ষের দিনে আহবান জানাই আমাদের পারিবারিক এবং সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় জীবনে তার প্রতিফলনে এগিয়ে আসি। আমাদের সর্বাগ্রে মনে রাখতে হবে আমরা যে ভাষাতেই কথা বলি না কেন, আমরা ধর্মীয়ভাবে আমাদের প্রধান পরিচয় আমরা মুসলমান। সুতরাং একজন মুসলমানকে অবশ্য মুসলিম চেতনা সমৃদ্ধ হতে হবে। আর এ কারণেই ইসলামের ঐশ্বর্যে সমুজ্জ্বল হিজরী সনকে মূল্যায়ন করে তা উদযাপনে উদ্যোগী হতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আরবী হিজরী সালের প্রত্যেকটি মাসই বিশেষভাবে তাৎপর্যমণ্ডিত। অতএব, আমরা হিজরী নববর্ষে পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মোনাজাত করিঃ হে মহান রাব্বুল আলামীন, সূরা বিশ্বের মুসলমানকে সুখে শান্তিতে-সমৃদ্ধিতে তাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গল এবং রবকতময় করে তোলো।

**************************
মাওলানা শাহ আবদুস সাত্তার
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৪ জানুয়ারী ২০০৮