(অধ্যাপক আহমদ আবুল কালাম, সাবেক চেয়ারম্যান, ইসলামিক ষ্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা)
প্রশ্নঃ বাংলাদেশী হজ্ব ইচ্ছুক হজক্যাম্পে বা বিমানে ওঠার আগে যে ইহরাম বাঁধেন তা কতখানি শরিয়তসম্মত?
উত্তরঃ এটি একটি সুক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রথমেই হজবিষয়ক একটি অবধারিত বিধি উল্লেখ করতে হয় আর তা হচ্ছে-হাজিরা অবশ্যই হজ্বের ইহরাম বাঁধবেন নির্ধারিত মিকাত থেকে। সরাসরি মক্কাগামী বাংলাদেশী হাজিদের মিকাত মক্কার কাছের ‘ইয়ালামলাম; হাজি ক্যাম্প বা বিমানবন্দর নয়। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় হাজি ক্যাম্প বা বিমানবন্দর থেকে তারা কেন ইহরাম বাঁধেন? এর একটি উত্তর এই যে, বিমানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অজু-গোসলের ব্যাপক সুবিধা নেই। অনুরুপভাবে যারা বয়োবৃদ্ধ ও বিমানের নতুন যাত্রী তাদের ইহরামের পোশাক পরিধান ঝুঁকিপুর্ণ হতে পারে। এ কারণে এই শ্রেণীর হজ্ব ইচ্ছুক ব্যক্তি হাজি ক্যাম্পে বা বিমানবন্দরে ইহরামের পোশাক পরিধান করতে পারেন। তবে তাদের মনে রাখতে হবে, তারা প্রকৃত ইহরাম বাঁধেননি বা প্রকৃত হজ্ব শুরু করেননি। তাদের প্রকৃত ইহরাম বা হজ্বের বাস্তব সুচনা অবশ্যই বিমান ছাড়ার অন্তত ৫ ঘন্টা পরে ‘ইয়ালামলাম’ পর্বতের কাছাকাছি উপনীত হয়ে। সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, হজ্ব-ইচ্ছুক যাত্রী যে বিমানে থাকেন সে বিমান সাধারণত ‘ইয়ালামলাম’-এর কাছাকাছি এলেই বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অবহিত করেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমান ‘ইয়ালামলাম’ মিকাত অতিক্রম করবে। তখনই বাংলাদেশী হজ্ব ইচ্ছুক যাত্রীদের কর্তব্য প্রকৃত ইহরাম বাঁধা, হজ্ব ইবাদতের প্রকৃত পট সুচনা করা এবং 'লাব্বাইক...' বলে তালবিয়াহ্ পাঠ করা।
**************************
উৎসঃ দৈনিক আমারদেশ, ২৫শে নভেম্বর ২০০৭