- Home
- দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
- সীমাহীন আল্লাহর অনুগ্রহ
সীমাহীন আল্লাহর অনুগ্রহ
- By Article Poster
- Published 03/7/2008
- দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম
-
Rating:




“আর হে নবী! আমার বান্দা যদি তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তাহলে তাদেরকে বলে দাও, আমি তাদের কাছেই আছি। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি এবং জবাব দেই, কাজেই তাদের আমার আহবানে সাড়া দেয়া এবং আমার ওপর ঈমান আনা উচিত, এ কথা তুমি তাদের শুনিয়ে দাও, হয়তো সত্য-সরল পথের সন্ধান পাবে।” (সুরা বাকারাঃ ১৮৬)
যদিও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে আমাদের বাস্তব চক্ষু দ্বারা দেখতে পাই না এবং ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অনুভবও করতে পারি না, তথাপি তাঁকে দূরে মনে করা ঠিক নয়। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বান্দার অতি নিকটেই অবস্থান করেন। প্রত্যেকে ইচ্ছা করলে সব সময় তার কাছে আর্জি পেশ করতে পারে। এতে তিনি সবকিছু শুনেন। কারণ তিনি সামিউম বাছির বা শ্রবণকারী ও মহাদ্রষ্টা। এমন কি মনে মনে যা আবেদন করা হয় তাও তিনি শুনতে পান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ মনের গোপন কথাও জানেন।”(সূরা ইমরানঃ১১৯) শুধুমাত্র শুনতে পান না বরং সে সম্পর্কে তিনি সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন। মানুষ অজ্ঞতা ও মুর্খতার কারণে যে সমস্ত অলীক, কাল্পনিক ও অক্ষম সত্তাদের উপাস্য ও প্রভু গণ্য করে তাদের কাছে দৌড়ে যায়, অথচ তারা তার কোন আবেদন নিবেদন শুনতে পায় না। এবং আবেদনের ব্যাপরে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও তাদের নেই। তিনি গভীর ও প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি তার বান্দাদের কার্যাবলী, সংকল্প ইচ্ছা পুরোপুরি ভালোভাবেই জানেন। কারণ তিনি বাছিরুম বিল ইবাদ। তিনি লাতিফ বা সূক্ষ্মদর্শী। আল্লাহ তায়ালা বলেন (আর লোকমান বলেছিল), “হে পুত্র! কোন জিনিশ যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা লুকিয়ে থাকে পাথরের মধ্যে, আকাশে বা পৃথিবীতে কোথাও, তাহলে আল্লাহ তা বের করে নিয়ে আসবেন। তিনি সূক্ষ্মদর্শী এবং সবকিছু জানেন।” (সুরা লুকমান ১৬) “দৃষ্টিশক্তি তাঁকে দেখতে অক্ষম কিন্তু তিনি দৃষ্টিকে আয়ত্ত করে নেন। তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ।” (আন’আমঃ১০৩) আল্লাহর জ্ঞান ও তাঁর পাকড়াও-এর বাইরে কেউ যেতে পারে না। পাথরের মধ্যে ছোট্ট একটি কণা আমাদের দৃষ্টির অগোচরে থাকতে পারে কিন্তু তাঁর কাছে তা সুস্পষ্ট। আকাশমন্ডলে একটি ক্ষুদ্রতম কণিকা আমাদের থেকে বহুদূরবর্তী হতে পারে কিন্তু তা আল্লাহর বহু নিকটতর। ভূমির বহু নিম্ন স্তরে পতিত কোন জিনিশ আমাদের কাছে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। কিন্তু তাঁর কাছে তা রয়েছে উজ্জ্বল আলোর মত। কাজেই আমরা এমন কোথাও এমন কোন অবস্থায়ও এমন কোন সৎ বা অসৎ কাজ করতে পারি না যা হর অগোচরে থেকে যায়। তিনি কেবল তা জানেন তাই নয় বরং যখন হিসেব-নিকেশের সময় আসবে তখন তিনি আমাদের প্রত্যেকটি কাজের ও নড়াচড়ার রেকর্ড সামনে নিয়ে আসবেন।
আল্লাহ তায়ালা বান্দাহর এত কাছাকাছি অবস্থান করেন যে, কোন প্রকার মাধ্যম ও সুপারিশ ছাড়াই বান্দাহ সরাসরি সর্বত্র ও সব সময় তাঁর কাছে আবেদন ও নিবেদন পেশ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ওহাব বা প্রকৃত দাতা। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কিছু কিছু বিষয় দারম্নণভাবে মনকে পীড়া দেয়। এর মধ্যে একটি হলো, কিছু কিছু মূর্খ মানুষ সেই প্রকৃত দাতা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি মানুষের দরবারে সন্তান কামনা করে থাকে। খুব ভাল করে মনে রাখা প্রয়োজন এ ধরনের আচরণ সুস্পষ্ট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। অথচ সন্তান দেয়ার মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। হযরত ইবরাহিম (আঃ) শেষ বয়সে এসে আল্লাহর কাছে বলছেন, “আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন। হে পরোয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দাও। (এ দোওয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।” (সা-ফ্ফাতঃ ১০০-১০১) কাজেই আমাদের প্রত্যেককে অক্ষম ও বানোয়াট খোদার দ্বারে দ্বারে মাথা ঠুকে মরার অজ্ঞতা ও মূর্খতার বেড়াজাল ছিঁড়ে ফেলা উচিত। একজন ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন যাপনের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, বস্তুগত বা অবস্তুগত যতকিছুর অভাব বা প্রয়োজন হয়, সবগুলোরই প্রকৃত একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।
আল্লাহ তায়ালাই প্রকৃত ও উত্তম রিযিকদাতা। পৃথিবীতে রিযিকদানের পরোক্ষ মাধ্যম যে বা যাই হোক না কেন তাদের সবার চেয়ে উত্তম রিযিকদাতা হলেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর যে সময় তারা ব্যবসায় ও খেল তামাশার উপকরণ দেখলো তখন তারা তোমাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে যে দিকে দৌড়ে গেল। তাদের বলো, আল্লাহর কাছে যা আছে তা খেল তামাশা ও ব্যবসায়ের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট রিযিকদাতা।” (সুরা জুময়াঃ ১১) কুরআন মজীদের বহু সংখ্যকস্থানে এ ধরনের কথা বলা হয়েছে। কোথাও আল্লাহ তায়ালাকে আহসানুল খালিকিন ‘সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা’, কোথাও খাইরুল গাফিরিন ‘সর্বোত্তম ক্ষমাকারী’, কোথাও খাইরুল হাকিমিন ‘সর্বোত্তম বিচারক’, খাইরুর রাহিমিন ‘সবোর্ত্তম দয়ালু’, কোথাও খাইরুন নাছিরিন ‘সর্বোত্তম সাহায্যকারী’ বলা হয়েছে। এ সব ত্রে সৃষ্টি বা মাখলুকের রিযিক দেয়া, সৃষ্টি করা, দয়া করা এবং সাহায্য করার যে সম্পর্ক তা রূপক বা পরোক্ষ অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুনিয়াতে দৃশ্যত যে বা যারা তোমাদেরকে বেতন, পারিশ্রমিক বা খাদ্য দিচ্ছে বলে মনে হয়, যাদেরকে তাদের শিল্প ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে কিছু তৈরী করতে দেখা যায় অথবা যাদেরকেই অন্যদের অপরাধ ক্ষমা করতে, দয়া করতে এবং সাহায্য করতে দেখা যায় আল্লাহ তাদের সবার চেয়ে বড় রিযিকদাতা, বড় সৃষ্টিকর্তা, বড় দয়ালু, বড় মাকারী এবং বড় সাহায্যকারী। আল্লাহ তায়ালাই বড় রিযিকদাতা তার বাস্তব প্রমাণ আমরা দেখতে পাই যখন অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি শুরু হয়। মাঠের পর মাঠ বিরাণভূমিতে পরিণত হয়, তথন কোন সৃষ্টির পক্ষে তার মোকাবেলা করার ক্ষমতা হয় না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনিই তো তোমাদের নিদর্শন দেখান এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিযিক নাযিল করেন (কিন্তু এসব নিদর্শন দেখে) কেবল তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী (সুতরাং হে প্রত্যাবর্তনকারীরা) দীনকে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে তাঁকেই ডাকো, তোমাদের এ কাজ কাফেরদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন।” (সুরা মুমিনঃ১৩) এখানে রিযিক নাযিল মানে বৃষ্টিপাত। কেননা মানুষ এ পৃথিবীতে যত প্রকার রিযিক লাভ করে তা সবই বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসংখ্য নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে এ একটি মাত্র নিদর্শনের কথা ধরে তুলে এ মর্মে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তোমরা যদি কেবল এ একটি জিনিসের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করো তাহলে বুঝতে পারবে, প্রকৃত রিযিকদাতা কেবলমাত্র আল্লাহতায়ালা, সেটিই বাস্তব ও সত্য।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই জ্ঞাত। প্রতিটি প্রয়োজন, যা ব্যক্তির মনের গহিনে লুপ্ত আছে, যার বহিঃপ্রকাশ এখনো ঘটেনি, তাও আল্লাহ তায়ালা জানেন। কারণ তিনি মহাজ্ঞানী, অতিশয় জ্ঞাত। তিনি অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে কোন কথা কলেন না, বরং তিনি প্রতিটি বস্তু সম্পর্কেই সরাসরি জ্ঞানের অধিকারী। তিনিই একমাত্র জানেন কোন জিনিষে মানুষর উন্নতি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কোন নীতিমালা, আইন-কানুন ও বিধি-নিষেধ আবশ্যক। তাঁর প্রতিটি শিক্ষা সঠিক কৌশল ও জ্ঞানভিত্তিক যার মধ্যে ভুল-ভ্রান্তির কোন সম্ভাবনা নেই। “অবশ্যই আল্লাহ অন্তরের গোপন কথাও জানেন।”(লুকমানঃ২৩) তিনি আলিমুম বিজাতিছ ছুদুর ও আল্লামুল গুয়ুব। যিনি গোপন সত্যের জ্ঞান রাখেন। (বিভিন্ন অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে) আল্লাহ যখন বলবেন, “হে মারয়াম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো?” তখন সে জবাব দেবে, “সুবহানাল্লাহ! যে কথা বলার কোন অধিকার আমার ছিল না সে ধরনের কোন কথা বলা আমার জন্য অশোভন ও অসংগত। যদি আমি এমন কথা বলতাম তাহলে আপনি নিশ্চয়ই তা জানতে পারতেন, আমার মনে যা আছে আপনি জানেন কিন্তু আপনার মনে যা আছে আমি তা জানি না, আপনি তো সসস্ত গোপন সত্যের জ্ঞান রাখেন। (মায়েদাঃ১১৬) আল্লাহ আলিমুল গায়িব সকল প্রকার অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান তিনি রাখেন। হযরত ঈসার (আঃ) জবাব থেকেই এর সুস্পষ্ট ধারণা আমরা পাই। মানুষের মনের অন্ধকার কুঠুরিতে কি আছে, আল্লাহর কাছে তা দিবালোকের মতই সুস্পষ্ট। কারণ তিনি আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞ। সুতরাং জ্ঞান ও বিজ্ঞতার দাবী হচ্ছে এই যে, যাকে বুদ্ধি-জ্ঞান দান করা হবে তাকে তার কাজের জন্য দায়ীও করা হবে। তার জ্ঞান ও বুদ্ধি কোন কাজে কিভাবে ব্যবহার করেছে তা মহাজ্ঞানীর নখদর্পণে আছে। মানুষ, জিন, ফিরিস্তা বা অন্য কোন সৃষ্টিই হোক না কেন সবার জ্ঞান অপূর্ণ ও সীমিত। বিশ্ব-জাহানের ব্যবস্থাপনা এবং এর অন্তর্নিহিত কার্যকারণ ও ফলাফল বুঝার মতো জ্ঞান কারো নেই। বিশ্ব-জাহানের সমগ্র সত্য ও রহস্য কারো দৃষ্টিসীমার মধ্যে নেই। বিশ্ব-জাহানের প্রভু ও পরিচালক মহান আল্লাহই পুরাপুরি জ্ঞান রাখেন। সকল ক্ষেত্রে জ্ঞানের মূল উৎস মহান আল্লাহর হিদায়াত ও পথনির্দেশনার ওপর আস্থা স্থাপন করা ছাড়া মানুষের জন্য দ্বিতীয় আর কোন পথ নেই। সুতরাং তাঁর কাছেই চাইতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা ওয়াসিউ বা মহাবিস্তারক। এটি আল্লাহ তায়ালার ছিফাতি নাম । যা ব্যাপকতার অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূলে ‘ওয়াসে’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কুরআনে সাধারণত তিনটি জায়গায় এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এক, যেখানে কোন একটি মানবগোষ্ঠীর সংকীর্ণমনতা ও সংকীর্ণ চিন্তার উল্লেখ করা হয় এবং আল্লাহ তাদের মতো সংকীর্ণ দৃষ্টির অধিকারী নন, এ কথা তাদের জানিয়ে দেবার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দুই, যেখানে কারো কৃপণতা, সংকীর্ণমনতা এবং স্বল্প সাহস ও হিম্মতের কারণে তাকে তিরস্কার করে মহান আল্লাহ যে উদার হস্ত এবং তার মতো কৃপণ নন, একথা বুঝাবার প্রয়োজন হয়। তিন, যেখানে লোকেরা নিজেদের চিন্তার সীমাবদ্ধতার কারণে আল্লাহর ওপরও এক ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে এ কথা জানাবার প্রয়োজন হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ তায়ালা সকল প্রকার সীমাবদ্ধতার কারণে আল্লাহর ওপরও এক ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে এ কথা জানাবার প্রয়োজন হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ তায়ালা সকল প্রকার সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে, তিনি অসীম। তিনি হিসাব ছাড়াই রিযিক দান করেন। সুতরাং বেশী পাওয়ার জন্য অযথা সব আজে-বাজে জায়গায় দৌড়াদৌড়ি বেহুদাই।
আল্লাহ তায়ালা মহত্তম বন্ধু ও প্রেমময়। তিনি আল ওয়াদুদ। তিনি নিজের সৃষ্টির প্রতি কোন শুত্রুতা পোষণ করেন না । অযথা তাদেরকে শাস্তি দেয়া তাঁর কাজ নয়। বরং নিজের সৃষ্টিকে তিনি ভালবাসেন । তাকে তিনি কেবল তখনই শাস্তির ব্যবস্থা করেন যখন যে বিদ্রোহাত্মক আচরণ করা থেকে বিরত হয় না। যে বান্দারা নিজেদের নশ্বর জীবনকে তাঁর জন্য বির্সজন দেয়, তাদের জীবনের মর্যাদা কত উন্নিত হতে পারে ভেবে দেখার দারী রাখে। পার্থিব জীবনের যে ক্ষণস্থায়ী যুলুম-নির্যাতনকে তার প্রিয় বান্দারা হাসিমুখে বরদাশত করে, আল্লাহর এক ফোটা মিষ্ট স্নেহ, মমতা ও প্রীতির সামনে তা যে কত তুচ্ছ ও নগণ্য, বলে বুঝানো কঠিন। দুনিয়ার কোন মানুষের গোলাম বা চাকর মনিবের মুখ থেকে একটি অতি ক্ষুদ্র উৎসাহবর্ধক বাক্য নির্গত হলে কিংবা তার মুখে বিন্দুমাত্র সন্তোষের লক্ষ্য ফুটে উঠলে তার জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। অথচ সে আল্লাহর একজন বান্দা এবং তারাও তাঁরই বান্দা। তাহলে আল্লাহ মমতাময় ব্যাপারটির চিন্তা কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবো। অফুরন্ত ও সীমাহীন এ মমতা।
বিপদে আপদে আল্লাহর ওপর ভরসা ও বিশ্বাস রাখা উচিত। যার যা প্রয়োজন, তা মহান দাতা, মহান প্রভু, মহান তত্ত্বাবধায়ক, মহান বন্ধু আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাওয়া উচিত।
************************
জাফর আহেমদ
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৭ মার্চ ২০০৮