Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
আত্মহত্যা মহাপাপ
http://articles.ourislam.org/articles/76/1/aaaaaaaaa-aaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 03/7/2008
 
পত্রিকার পাতায় আমরা মাঝে মধ্যে পড়ে থাকি আত্মহত্যার সংবাদ। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকমের নারী ও পুরুষ বেছে নেন আত্মহননের দুর্ভাগ্যজনক পথ। আত্মহত্যা মহাপাপ জেনেও তারা এই মর্মান্তিক পথে পা বাড়ান। আত্মহত্যা মানে নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো।

আত্মহত্যা মহাপাপ

পত্রিকার পাতায় আমরা মাঝে মধ্যে পড়ে থাকি আত্মহত্যার সংবাদ। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকমের নারী ও পুরুষ বেছে নেন আত্মহননের দুর্ভাগ্যজনক পথ। আত্মহত্যা মহাপাপ জেনেও তারা এই মর্মান্তিক পথে পা বাড়ান। আত্মহত্যা মানে নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো।

যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, সে শুধু তার নিজের ওপরই জুলুম করে না বরং এতে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ স্বজন-পরিজন সকলেই কষ্ট পান, বিচলিতবোধ করেন। যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ এক বিরাট অন্যায়। কারণ, এ দ্বারা আল্লাহতায়ালার বেঁধে দেয়া নিয়মের বরখেলাপ হয়ে যায়। হায়াত মউতের মালিক আল্লাহ। মানুষ নিজের ইচ্ছায় যেমন জন্মগ্রহণ করতে পারে না, তেমনই স্বেচ্ছায় জীবনাবসানও ঘটাতে পারে না। তা সত্ত্বেও মানুষ যখন এ কাজ করতে যায় তখন কিন্তু খোদার ওপর খোদগারি হয়ে যায়। আত্মহত্যা সম্পর্কে হাদীস শরীফে বলা হয় যে, এক ব্যক্তি আহত হয়েছিলো। সে আত্মহত্যা করলে, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা বড় তাড়াহুড়া করলো। সে নিজেই নিজেকে হত্যা করলো। আমি তার জন্যে জান্নাত হারাম করেদিলাম।” (সহীহ বুখারী)

আত্মহত্যা মহাপাপ। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বিশেষভাবে নির্দেশ দান করেছেন এবং এর পরিনামের কথা ভাববার জন্য কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়ে মহা পবিত্র আল কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, “আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে উহা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্য আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে উহা সহজসাধ্য।” (সূরা-নিসা-২৯-৩০)

মানুষ- আশরাফুল মখলুকাত, মহান আল্লাহর অতিশয় প্রিয়। মানুষের প্রতি আল্লাহ তা’আলার দয়া ও ভালোবাসার শেষ নেই। মানুষকে তিনি দিয়েছেন জ্ঞান ও বিবেচনাবোধ। আর, এ দ্বারা তারা চিনে নিতে পারে কল্যাণ ও অকল্যাণের পথ কোনটা ভাল ও কোনটা মন্দ- তা বুঝবার ক্ষমতা দয়াময় আল্লাহ মানুষকেই দিয়েছেন। ধৈর্য ধারণের শক্তি, যেকোনো পরিস্থিতিতে অবিচল থাকবার শিক্ষা সর্বোপরি সকল অবস্থায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর নির্ভর করবার প্রেরণা আল্লাহই দিয়েছেন মানুষকে। এতদসত্ত্বেও এমন অনেকে আছে, যারা নিজেদের সংবরণ করতে পারে না। দুঃখ গ্লানি থেকে পরিত্রাণের জন্য অথবা জেদের বশবতী হয়ে কেউ কেউ বেছে নেয় আত্মহননের পথ। ধৈর্য ধারণ করলে, আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা থাকলে কারও আত্মহত্যার মত ক্লেশকর পথে পা বাড়াতে হয় না।

সত্য বটে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলেই আত্মহননকে ঘৃণার চোখে দেখে। কোনো মাতা-পিতাই চান না যে, তাদের সন্তন এরূপ মর্মান্তিক এবং গ্লানিকর মৃত্যুর শিকার হোক। কোনো শিক্ষক চায় না যে, তাদের ছাত্র বা ছাত্রী অকালে স্বেচ্ছায় প্রাণ বিসর্জন দিক। তা না চাইলেও রূঢ় বাস্তবতা এই যে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি স্কুল পর্যায়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় অনেক ছেলে-মেয়ে আত্মহন্তারক হয়ে যায়। পত্র-পত্রিকায় এসব আত্মহত্যা সম্পর্কে যতটুকু খবর বের হয়, তাতে দেখা যায় অভিমান করে, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে না পেরে কখনও কখনও বখাটে ছেলেদের দ্বারা উত্যক্ত হয়ে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

গত ৩রা ফেব্রুয়ারি বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক ইত্তেফাকের’ ‘মহিলা অঙ্গনের প্রকাশিত একটা প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো কেন এত আত্মহত্যা। ওই রিপোর্টে কমবয়সী মেয়েদের আত্মহত্যার কার্যকারণ সন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে।

সিফাত মুনিয়া’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকাল প্রায়ই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে টিন এজারদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। বখাটেদের উৎপাতের কারণে যেমন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে, আবার দেখা যাচ্ছে বাবা-মা’র সামান্য বকুনির কারণেও আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। এই আত্মহত্যার পিছনে কাজ করে মানসিক চাপ। এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই মুক্তি খোঁজে আত্মহননের মধ্য দিয়ে। প্রাসঙ্গিক দু’টো ঘটনা এখানে এসেছে- মিলির বয়স ১৬ বছর। সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের আশায় ছিল। পরীক্ষা শেষ এদিকে সময়ও কাটে না, ফলে সারাদিন ঘরে বসেই সময় কাটত তার টিভি দেখে। একদিন তার ছোট ভাই টিভি দেখা নিয়ে ঝগড়া করে মার কাছে নালিশ করে। ফলে তার মা মিলিকে শাসন করেন। এরই পরিণামে মিলি অভিমান করে আত্মহত্যা করে বসে।

রিমা সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। স্ড়্গুলে যাওয়া আসার পথে কিছু বখাটে ছেলে তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। বাসায় এসে মাকে জানায়-তাকে নানা ধরনের খারাপ ইঙ্গিত করে কথা বলে এসব ছেলেরা। তাকে তুলে নিয়ে যাবে বলে ভয় দেখায়। হীনমন্যতায় ভুগত। সব সময় তার মনে এই ভয় থাকত। অবশেষে সে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বখাটেদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ঘরের ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহনন করে।

এছাড়াও বহু ছাত্র-ছাত্রীর জীবন বিসর্জন দিতে হচ্ছে-কৃত্রিম ভালোবাসার, মিথ্যা অভিনয়ের ফাঁদে পড়ে, অপ্রত্যাশিত আশা-আকাঙক্ষার ফলে। অনেক অবলা সতী নারীর জীবনের মায়া ত্যাগ করতে হচ্ছে এই আত্মহত্যার মাধ্যমে যৌতুকলোভী নরপিশাচদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্যাতনের কারণে। এ অনাকাঙিক্ষত মৃত্যুর সংখ্যা শত শত।

আল কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে “অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা-আশ-শূরা-৪২)

দেশের সরল প্রাণ নর-নারী ও ছেলে-মেয়েদের জন্য এ এক মহাবিপর্যয় ও করুণদশা। তাই এ থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা করা সকল সুনাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

মানবজাতির সকল প্রকার জটিল ও অপরাধমূলক সমস্যার সমাধানের বড় উপায় হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ মনে প্রাণে গ্রহণ করা এবং তা কার্যে পরিণত করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, “হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত (হয়রানি) করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” এবং তোমরা পূর্বেকার অজ্ঞতা যুগের নারীদের মত বেশি বিন্যাস করে বাইরে যেয়ো না। (সূরা আহ্‌যাব-৫৯ ও ৩৩)

একটি সুখী, শান্তিময়, সুন্দর সমাজ গঠনে শালীনতাপূর্ণ, রুচিসম্মত, মার্জিত বেশ ভূষা, চাল চলন ও আচার-আচরণের গুরুত্ব অপরিসীম। অশালীন বেশ ভূষা ও আচার-আচরণ মানুষের মধ্যকার পশু বৃত্তিকে জাগিয়ে তুলে। কুৎসিত কামনাকে উত্তেজিত করে। এতে নানা রকম পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নানা ধরনের পাপকর্ম সংঘটিত হয়। মহাবিপর্যয়, অন্যায় ও অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য মহান আল্লাহ বিধানকে মেনে চলাই সর্বোত্তম পন্থা।

হে মহান আল্লাহ। সকল স্তরের নর-নারী ও সন্তান-সন্তুতিকে আত্মহত্যার মত পাপ থেকে বেঁচে থাকার মত জ্ঞান বুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মত সুচিন্তা ও চেতনা দান করুন। আমীন

************************
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ইবনে ইউসুফ
দৈনিক ইত্তেফাক, ০৭ মার্চ ২০০৮