(পূর্ব প্রকাশিতের পর )

যে কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে যে অর্থসম্পদ মহিলারা উপার্জন করবেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে যে অর্থসম্পদের অধিকারী হবেন তাতে ইসলাম তাকে দিয়েছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। তবে,এ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৎলোকের (পিতা, ভাই, স্বামী) পরামর্শ গ্রহণের জন্যও ইসলাম তাগিদ দিয়েছে। ইসলামী আইনে নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদার অধিকারী করেছে। অর্থাৎ ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনরূপ তারতম্য নেই। শিক্ষা গ্রহণ করাকে প্রত্যেক নারীর জন্যও ফরজ করা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নারীদের শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বের প্রতি বিশেষ সর্তক দৃষ্টি রাখতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নারীদের জন্য শিক্ষমূলক ভাষন দিতেন। তাঁর বিবিগণওকন্যাগণ তাঁদের নিকট আগত সাহাবী এবং মহিলাগণকে ধর্মীয়, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদান করতেন। আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদা সর্ম্পকে জানতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

অনেকের ধারণা, পর্দা প্রথা নারীকে গৃহবন্দী করে রাখে। কিন্তু পর্দা করা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই ফরজ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই পর্দা প্রথা নারীর জন্য মর্যাদার প্রতীক। যেকোন প্রয়োজনে ইসলাম নারীকে ঘরের বাইরে যাবার অনুমতি দিয়েছে। তাই বাইরের দুনিয়ায় এসে মেয়েরা পদে পদে অনুভব করছে পর্দার প্রয়োজনীয়তা। পর্দা যে কেবল মেয়েটিকে ঢাল হিসাবে হিফাযত করে তাই নয়। বরং তা বিপরীত দৃষ্টিকেও সংযত হতে সাহায্য করে। বিরূপ মন্তব্য করা এবং গুণা হতে রক্ষা করে। সূরা আহ্‌যাব ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহ্‌ বলছেন, “হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী-কন্যাগণ এবং অপর মমিনাদের বলে দাও- তারা যেন তাদের উপর চাদর স্থাপন করে, তাদের পরিচয়কল্পে এটা সহজ, তবে আর তারা লাঞ্ছিতা হবে না, আল্লাহ্‌ ক্ষমাকারী, করুণাময়”। একটি মেয়ের বেশভূষা, আচার-আচরণই তার চরিত্রের সরলতাকে মহিমাম্বিত করে। অনেকেই মনে করেন, নারীর শিক্ষা ও সৌন্দর্য যদি উন্মোচিতই না হয়, প্রশংসিত না হয়, তাহলে মেয়েরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হবে। অনেকেই নিজের প্রশংসা শুনতে ভালবাসেন। কিন্তু সেটারও একটা নির্দিষ্ট ও নির্মল গণ্ডি থাকা সমীচীন। নয়ত সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় হতে এইরূপ নিজেদেরকে এবং অন্যকে রক্ষা করতে পারবে না। এইরূপ নারী ও পুরুষের বিষাক্ত কর্মকাণ্ড অনেক নিরীহ মেয়ের জীবনে তছনছ করে দেয়। যে শিক্ষা নারীকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য, ইহ-পর জনমের ব্যাপারে উদাসীন করে তোলে সে জ্ঞানের বাহার প্রকৃত অর্থেই মূল্যহীন। কারণ সুশিক্ষা কেবল অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার নয়, তা আত্মার পিপাসা ও ক্ষুধা নিবারণ করে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখায়। সূরা নূর ৫২ নং আয়াতে আছে, “যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও সাবধান থাকে তারাই বিজয়ী”।

অনেকের ধারণা, কোন মহিলাকে নবী না করে, ইমামতির সুযোগ না দিয়ে ইসলাম নারীর মর্যাদাকে হেয় করেছে। কিন্তু নারী ও রসূলগণের ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে, বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নবী ও রাসূলগণের সাথে বর্বর আচরণ করেছিল। আল্লাহর প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যাঁকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ তায়ালা কূল মাখলুকাত সৃষ্টি করতেন না, সেই পেয়ারা রসূলকে পর্যন্ত অজ্ঞ জাতি রক্তাক্ত করেছিল, ইসলামের দাওয়াত পেয়ে। আর পরবতীতে সেই জাতিই হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে দুনিয়ার বুকে মর্যাদার শ্রেষ্ঠ আসনে আসীন হয়েছে। হয়রত মূসা (সাঃ) কে তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু লোক অপবাদ দিতেও কুণ্ঠিত হয়নি। তাঁর অবাধ্যতা করে নানাভাবে তারা তাঁকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলত। সেখানে কোন নারীকে নবী করা হলে তার পক্ষে এত বিরূপ পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ক্রোধে উন্মাদ লোকদেরকে সরল ও সঠিকভাবে আহ্বান করে আলোকিত করা কি ভীষণ কঠিন কাজ হত তা আজকের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেই সহজে অনুমান করা যায়।

মসজিদে ইমামতি না করেও নারী জাতি আল্লাহর অতি প্রিয় বন্ধুতে পরিণত হতে পারেন। আগেরকালের নারীদের প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভেদ নীতি ইসলামী যুগেও নারীদেরকে শঙ্কিত করেছিল। তাফসীরে আশরাফী, (২য় খন্ড), পঞ্চম পারা, পৃঃ ১৩) সূরা নিসার একটি আয়াতের শানে নূযুলে রয়েছে, এক স্ত্রীলোক রসূলল্লাহ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে আরয করল, হে আল্লাহর নবী সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সম্পত্তি বন্টনের বেলায় পুরুষগণ দ্বিগুণ পায়, আর স্ত্রীলোকের সাক্ষ্যও পুরুষদের অর্ধেকের সমান। তবে কি আমরা অন্যান্য এবাদত বন্দেগীর সওয়াবও অর্ধেক পাব? কেউ কেউ এমন ভেবেছিলেন, যদি আমরাও পুরুষ হতাম তাহলে ভাল হতো। জালালাইন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি আয়াত নাযিল হয়। যা সূরা নিসার ৩২নং আয়াত “আর তোমরা এমন কোন মর্যাদার আকাঙ্খা পোষণ করো না যাতে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কাউকে অপরের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন; পুরুষের জন্য তাদের কর্মসমূহের অংশ রয়েছে এবং নারীদের জন্য তাদের কর্মসমূহের অংশ রয়েছে। আর আল্লাহ তায়ালার নিকট তাঁর অনুগ্রহের আবেদন কর। নিশ্চয়ই, আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী”। প্রকৃতপক্ষে পুরুষ হওয়া অথবা পুরুষের দ্বিগুণ দায়ভাগের অধিকারী হওয়া অথবা তাদের সাক্ষ্য পূর্ণমাত্রিক হওয়া এসব শ্রেষ্ঠত্ব কর্মফল স্বরূপ প্রাপ্ত নয়। তাই এরূপ মর্যাদার আকাঙ্খা পোষণ অনুচিত। ক্ষেত্রবিশেষে বুদ্ধি ও ধর্মীয় ব্যাপারে নারীদের তুলনায় পরুষগণ একটু এগিয়ে থাকলেও এই আয়াত দ্বারা বুঝা গেল কর্মসম্পাদনে নারী ও পুরুষ উভয়েই সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। অসুস্থতার জন্য বা অনিচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধকতার দরুন নারীদের কাজ করার সুযোগ কম হয়। কাজের সুযোগ কম হওয়া এবং কৃত কাজের পারিশ্রমিক সমান হওয়া পরস্পর বিরোধী নয়। অনেক পরিবারেই পুরুষ অভিভাবক দূরে অবস্থান করার কারণে অথবা তাদের মৃত্যুজনিত অনুপস্থিতির কারণে পরিবারের কন্যঅ, মাতা বা ভগ্নিকেই নিজ সুখ-স্বাচ্ছন্দকে বির্সজন দিয়ে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দিতে হয়। তাদের র্মমবেদনার সাথি হয়ে জানাচ্ছি আন্তারিক শ্রদ্ধও ভালবাসা। ধনে-মানে, আরামে, বিদ্যায়, সৌন্দর্যে অন্যের চাইতেও নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তুলতে গিয়ে মনের মধ্যে হিংসার বীজ বপন করে আজ অবধি কেউই মর্যাদাশালী হয়ে উঠতে পারেননি। মূলতঃ পূন্যকর্মসমূহে পূর্ণ যত্নবান হওয়া এবং অন্যের চাইতে ও অধিক সওয়াব হাছিল করে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ ছাড়া অন্য উপায়ে আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদার আকাঙ্খা পোষণ আকাশ কুসুম কল্পনা বৈ আর কিছু নয়। তবে হাঁ আধ্যাত্মিক কামেলিয়াত অর্জনের জন্য অবশ্যই আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থণা করতে হবে। যিনি শরীয়তের হিসাব মেনে চলবেন, তাকে ইচ্ছে করলে আল্লাহ এই মর্যাদা ও বুযুর্গী দান করে থাকেন।

ঈমানদার স্বামীর প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর সব সৎ কাজের সাথী হতে পেরে যেমন সৌভাগ্য অর্জন করা যায়, তেমনি আল্লাহর নাফরমান স্বামী বাদশাহ্‌ ফেরাউনের আক্রোশ থেকে শিশু মুসা (আঃ) -কে রক্ষা করার যাবতীয় কৌশল অবলম্বন করে, প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও কল্যাণের পথে অবিচল হযরত আছিয়া (আঃ) হয়েছেন অবিস্মরনীয় বৈশিষ্টের অধিকারিনী। প্রচুর ঐশ্বর্য, তীক্ষ্ন-বুদ্ধিসম্পন্না, অসীম সাহসী মহারানী বিলকিস মহান আল্লাহর একত্ববাদের সন্ধান পেয়ে তাঁর জ্ঞান ও প্রকার সম্মিলনে সুচিন্তিত অনুধাবন শক্তিকে কার্যকরী করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা তাঁর ভাব জগতে বিপুল আলোড়ন তুলে। বিলকিস স্বয়ং তাঁর পরিষদবর্গ, সেনাবাহিনী এবঙ সমস্ত দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে ইসলামের অফুরন্ত নেয়ামত লাভে ধণ্য হয়েছিলেন। শত বিপদ এবঙ অপবাদে জর্জরিত হয়েও শুধুমাত্র আল্লাহর কুদরতের প্রতি অবিচল আস্থা নারীকে কতখানি মহিমাণ্বিত করতে পারে তার জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি হযরত মরিয়ম (আঃ)। আল্লাহ তায়ালা ‘সিদ্দিকাহ’ অর্থ সত্যবাদী নামে ভূষিত করেছিলেন পবিত্র রমনী হযরত মরিয়ম (আঃ) কে।

ক্রীতদাসী রাবেয়া বসরী (রহঃ) সারাদিন প্রচন্ড খাটুনির পর সারা রাত্রি ইবাদত করে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসার নিদর্শনস্বরূপ ‘তাপসী’ নামে ভূষিত হয়েছিলেন। তীক্ষ্ন স্মৃতিশক্তি, অসাধারণ মেধা ও বিচক্ষণতার অধিকারিণী হযরত আয়শা (রাঃ) সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী, ব্যাখ্যাদানকারী, কোরানের তাফসীরকার। ফিকাহ্‌, ইতিহাস, সাহিত্য, উপস্থাপনা, চিকিৎসাশাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী। তাই সাহাবাগণ কোনরূপ সমস্যায় আপতিত হলেই তাঁর সহজ সমাধান চাইতে হযরত আয়শা (রাঃ)-র কাছে গমন করতেন। তিনি অসংখ্য মাসলা-মাসায়েল উদ্ভাবন করেছেন এবং মুসলিম উম্মাহ্‌র আমলের পথ সুগম করেছেন (কোরানের আলোকে জান্নাতী দশ মহিলা, পৃঃ ১১২,১১৭)। রসূলে পাক সোয়াল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে থেকেই তাঁর জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটতে থাকে। ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী হওয়ায় তিনি জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে সমকালীন সকল মহিলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যাগণ যথেষ্ঠ গুণসম্পন্না ছিলেন। তথাপি, হযরত ফাতিমা (রাঃ) ছিলেন বিশিষ্ট বৈশিষ্টের অধিকারিণী। হযরত ফাতিমা (রাঃ) পিতার প্রতি ভালবাসা এবং আল্লাহর নবীকে হুবহু অনুসরণ ও অনুকরণ করে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীলতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা সর্বকালের সকল মানব-মানবীর জন্য অনুস্মরণীয় ও অনুকরণীয়। হাদীছ হতে জানা যায় যে, হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুত্রগণ শিশুকালে ইন্তেকাল করায় কাফের-মুশরিকরা যখন হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশ বিস্তার হবে না বলে উপহাস করছিল, তখন আল্লাহ সুবহানুতায়ালা তাদের উপহাস চিরতরে বন্ধ করার জন্য ‘কষ্ট সহিষ্ণুধর্যশীলা, দানশীলা এবং আদর্শস্থানীয়া’ হযরত ফাতিমা (রাঃ)-কে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সোয়াল্লেল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশ বিস্তারের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী করেছেন। এইভাবে, কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম নারীদের মধ্যে অনন্যা নারীগণকে বংশ রক্ষার মূলধারায় অবতীর্ণ করে আল্লাহ তায়ালা নারীদের সম্মানকে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

সূরা নিসার ১২৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘‘যে ব্যাক্তি কোন সৎকর্ম করবে, সে নর হউক বা নারী, এই শর্তে যে, সে মুমিন! সুতরাং এই রূপ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি এতটুকুও যুলম হবে না”। সূরা আহ্‌যাব ২৯ ও ৩৫ নং আয়াত “আর আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরলোক চাইলে তোমাদের মধ্যে পূন্যশীলাদের জন্য মহৎ প্রতিদান প্র‘ত করে রেখেছেন।” নিশ্চয়ই যেসব পুরুষ ও নারী মুসলমান, মুমিন, আল্লাহর আদেশ পালানকারী, সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, বিনয়ী, খয়রাতকারী, রোজাদার, নিজেদের গুপ্তাঙ্গের হিফাজতকারী এবং অধিক পরিমানে আল্লাহকে ম্মরণকারী, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহৎ প্রতিদান প্র‘ত করে রেখেছেন।” সূরা তাওবাহ্‌ ৭২ নং আয়াত, “আল্লাহ্‌তায়ালা মুমিন-মুমিনাদের সাথে এরূপ বাগানসমূহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, যার নিম্নদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত থাকবে যাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে আর উত্তম বাসভবন সমূহের, যা চিরস্থায়ী বাগানসমূহে অবস্থিত হবে। আর আল্লাহ্‌ তায়ালার সন্তুষ্টি সর্বাপেক্ষা বড় ব‘, এটা অতি বড় সফলতা”। অর্থাৎ, আল্লাহ্‌র প্রতি মুসলিম নারীর পূর্ণ আনুগত্য, কর্তব্যপালনে নিষ্ঠা, অকপটতা এবং সৎকর্ম দ্বারা জান্নাতপ্রাপ্তির অঙ্গিকার নারীকে মর্যাদার শ্রেষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মসজিদের ইমাম সাহেবের সাহচর্যে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আসে। সমাজের লোকদের সৎপথে আহ্বান করাই তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু একজন ধার্মিক মহিলা সব ধরনের মন্দ ও কৌতূহলী দৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতেই অধিক আগ্রহী্‌। এটা তাদের দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা বা ভীরুতা নয়। বরং আল্লাহতায়ালার দেয়া মর্যাদার হিফাজত করা এবং সঠিকভাবে এই মর্যাদার প্রয়োগ ঘটানো প্রত্যেক ঈমানদার রমণীর নৈতিক দায়িত্ব। এইরূপ মুমিনরা হন মহীয়সী। তাঁদের ঈমানী তেজস্বীতার সামনে শয়তানও হার মানতে বাধ্য হয়।

ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শ নারীকে বিভিন্ন বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তার অধিকারকে যেরূপ উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছে, তা অন্য কোন ধর্ম, আদর্শ বা মতবাদে সম্ভব নয়। তাই নারীকে মর্যাদা দানের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষ উভয়কেই আন্তরিক হতে হবে। বৈষম্য, অজ্ঞতা ও অহংকার পরিহার করে সৎকর্মের দ্বারা পারষ্পরিক সম্পর্কের মাপকাঠি নির্ধারণ করতে হবে। এর মধ্যেই রয়েছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের মুক্তি। আল্লাহ্‌ দয়া করে আমাদেরকে সঠিক বিষয় সঠিকভাবে বুঝবার তওফীক দিন। আমিন।

*************************
মির্জা শরমিন হুদা
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ মার্চ ২০০৮