Islamic Article Archive - http://articles.ourislam.org
ইসলামে রয়েছে নারীর নিশ্চিত অধিকার
http://articles.ourislam.org/articles/87/1/aaaaaa-aaaaa-aaaaa-aaaaaaa-aaaaaa--/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 03/19/2008
 
ইসলাম-পুর্ব জাহিলী যুগে নারীকে মানুষই মনে করা হতো না। ইসলাম নারীকে সম্মানজনক অধিকার দিয়েছে। তবে সর্বক্ষেত্রে তাকে পুরুষের সমান অধিকার দেয়নি। বরং সামগ্রিকভাবে পুরুষকেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনের ভাষায়, ‘পুরুষরা নারীর উপর কর্তৃত্বশীল। কারণ আল্লাহ তাদের একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এজন্য যে, পুরুষরা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে (সুরা নিসা-আয়াত নং ৩৪)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসির কারগন উল্লেখ করেছেন, কুরআনের আয়াতের বক্তব্য অনুযায়ী প্রতীয়মান হয় যে, নারী-পুরুষের অধিকার পরস্পর সামঞ্জস্যশীল। বরং পুরুষের তুলনায় নারীর দুর্বলতার কারণে তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে তুলনামুলক অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সমতার অর্থ এই নয় যে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে মর্যাদায় বা কোনো ক্ষেত্রেই কোনো পার্থক্য থাকবে না।

ইসলামে রয়েছে নারীর নিশ্চিত অধিকার

ইসলাম-পুর্ব জাহিলী যুগে নারীকে মানুষই মনে করা হতো না। ইসলাম নারীকে সম্মানজনক অধিকার দিয়েছে। তবে সর্বক্ষেত্রে তাকে পুরুষের সমান অধিকার দেয়নি। বরং সামগ্রিকভাবে পুরুষকেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনের ভাষায়, ‘পুরুষরা নারীর উপর কর্তৃত্বশীল। কারণ আল্লাহ তাদের একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এজন্য যে, পুরুষরা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে (সুরা নিসা-আয়াত নং ৩৪)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসির কারগন উল্লেখ করেছেন, কুরআনের আয়াতের বক্তব্য অনুযায়ী প্রতীয়মান হয় যে, নারী-পুরুষের অধিকার পরস্পর সামঞ্জস্যশীল। বরং পুরুষের তুলনায় নারীর দুর্বলতার কারণে তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে তুলনামুলক অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সমতার অর্থ এই নয় যে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে মর্যাদায় বা কোনো ক্ষেত্রেই কোনো পার্থক্য থাকবে না। বরং দুটি সঙ্গত কারণে নারীর উপর পুরুষকে কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। এক. পুরুষের জ্ঞানৈশ্বর্য পরিপুর্ণ ক্ষমতা। যা অর্জন করা নারীর পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। দুই. পুরুষ স্বীয় অর্থসম্পদ দ্বারা নারীর যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। মুলত নারী-পুরুষের মাঝে প্রাকৃতিকভাবেই এমন বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান যার কারণে নারী কোনোক্রমেই পুরুষের সমান হতে পারে না। নারীর ধৈর্য সহিষ্ণুতাও নেহায়েত কম। উপরন্তু তার পেশিগুলোও তুলনামুলক দুর্বল। নারী-পুরুষের সমঅধিকার দানের জন্য তো প্রথমে এই প্রাকৃতিক পার্থক্য দুর করতে হবে। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব? নারীদের পুরুষদের সমঅধিকার দিতে হলে তাদের সকল পদে অধিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য তাদেরকে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী করে তুলতে হবে। কিন্তু এর ফলে সন্তান লাভের ক্রমধারা বন্ধ হবে বলে অনেকে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। আমেরিকার একজন ডাক্তার বলেছেন, মহিলাদের অধিকতর শিক্ষা দেয়ার অবশ্যম্ভাবী কুফল হচ্ছে সন্তান জন্ম না হওয়া বা হলেও দুর্বল হওয়া। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অসমতার বিষয়টি পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এটা ইসলামের অলংঘনীয় বিধান। কিয়ামতাবধি এর মধ্যে কোনোরুপ পরিবর্তনের অধিকার কোনো মানুষের নেই। তাই কোনো মুসলমান এ ধরনের চিন্তাই করতে পারে না। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-‘আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।’ এ আয়াতে সুস্পষ্ট বলে দেয়া হচ্ছে-‘একজন নারী একজন পুরুষের অর্ধেক পাবে।’ এই বিধানসহ অন্যসব ফারাইজের বিধানই পবিত্র কুরআনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং তা অলংঘনীয়। কিয়ামত পর্যন্ত কোনোকালেই কারো তা পরিবর্তন করার অধিকার নেই। কারণ অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে। অল্প হোক কিংবা বেশি। এ অংশ নির্ধারিত। (সুরা আয়াত নং নিসা-৭) এ আয়াতে বলা হয়েছে বিভিন্ন ওয়ারিশদের জন্য যে বিভিন্ন অংশ পবিত্র কুরআনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বলে এতে কারো নিজস্ব অভিমত ও অনুমানের ভিত্তিতে পরিবর্তন পরিবর্ধনের কোনো অধিকার নেই। মুসলমান হিসেবে মহান আল্লাহর কোনো বিধানের যৌক্তিকতা, কল্যাণময়তা আমাদের বুঝে না এলেও আমরা তা মানতে বাধ্য এবং বাস্তবেও আমরা ইসলামের বিধানাবলীর যৌক্তিকতা না খুঁজেই মেনে থাকি। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অসমতার বিষয়টিও তার ব্যতিক্রম মোটেই নয়। তদুপরি গভীরভাবে চিন্তা গবেষণা করলে এর যৌক্তিকতা, কল্যাণময়তাও বুঝে আসে। তা হচ্ছে, একজন পুরুষের কর্তব্য হচ্ছে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ করা। এতে প্রতিদিন, প্রতি মাসে তার প্রচুর অর্থ ব্যয়ও হয়। এ ব্যয়বহুল গুরুদায়িত্ব নারীর উপর ইসলাম বর্তায়নি। আবার নারী স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহরও পেয়ে থাকে। একজন মহিলা তার স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পদ থেকেও নির্ধারিত অংশ পেয়ে থাকে। এছাড়া পিতামাতা, ভাইবোন, ছেলেমেয়ে এমনকি নাতিদের থেকেও একজন মহিলা নিয়মমাফিক মিরাস পায়। নারীর উপর কোনো প্রকার আর্থিক ব্যয়ভার আরোপ না করেই শরীয়ত যে তাকে এতসব ন্যায্য পাওনা দিয়েছে তা কি সাধারণ বিচারে ঢের বেশি নয়? তাহলে আজীবন সংসারের ঘানি টেনে বেড়ানো পুরুষ থেকে সে মিরাস কম পায় বলে অথর্ব যুক্তি পেশ করাটাই কি অযৌক্তিক নয়? একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালায়’ এমন কুরআন-হাদিস বিরোধী আইন যারা অনুমোদন করলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি-নারীর উন্নয়নের জন্য নতুন কোনো আইন প্রণয়নের আদৌ প্রয়োজন নেই। বরং ইসলাম নারীকে যে পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা দিয়েছে, ন্যায্য ও সম্মানজনক অধিকার দিয়েছে সেগুলো যেন তারা অবাধে ও পুর্ণভাবে পেতে পারে সে ব্যবস্হা নেয়াই এখন অতি প্রয়োজন।


*************************
মুফতী মুতীউর রাহমান
আমার দেশ, ১৫ মার্চ ২০০৮