মদিনায় অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে।
 
মসজিদে মিকাতঃ মদিনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে মসজিদে নববী থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এ মসজিদটি অবস্থিত। ঐতিহাসিক আকীক উপত্যকার পশ্চিম পাশে মসজিদটি রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা·) হজ বা উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাওয়ার সময় এখানকার একটি গাছের নিচে অবতরণ করতেন এবং সেখানে সালাত আদায় করে উমরাহ অথবা হজের ইহরাম বাঁধতেন। এ কারণেই মসজিদটিকে শাজারাহ্‌ বলা হয়। মদিনাবাসীর মিকাত বলে এ মসজিদটি মসজিদে মিকাত নামে পরিচিত।

মসজিদে জুমুআঃ রাসুলুল্লাহ (সা·) হিজরতের সময় কুবার অদূরে রানুনা উপত্যকায় একশ সাহাবাকে নিয়ে মসজিদে জুমুআর স্থানে প্রথম জুমুআর সালাত আদায় করেন।

মসজিদে গামামাহঃ এ মসজিদকে মোসাল্লাহও বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা·) প্রথম ঈদের সালাত ও শেষ জীবনের ঈদের সালাতগুলো মসজিদে গামামাহর স্থানে আদায় করেন। এ স্থানে রাসুলুল্লাহ (সা·) বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়েছেন বলে একে মসজিদে গামামাহ বলা হয়। এটি মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত।

মসজিদে আবু বকর (রা·)- এটি মসজিদে গামামাহর উত্তরে অবস্থিত। হজরত আবু বকর (রা·) খলিফা থাকাকালে এ মসজিদে ঈদের সালাত পড়ান। তাই এটি মসজিদে আবু বকর (রা·) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

কিবলাতাঈন মসজিদঃ এ মসজিদে একই নামাজ দুই কিবলামুখী হয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ওহি পাওয়ার পর আল-আকসা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নামাজের মাঝখানে মক্কামুখী হয়ে পরবর্তী অংশ সম্পন্ন করা হয়। এ জন্য এ মসজিদের নাম কিবলাতাঈন (দুই কিবলা মসজিদ) রাখা হয়। মসজিদের ভেতরে মূল পুরোনো মসজিদের অংশ অক্ষত রেখে চারদিকে দালান করে মসজিদ বাড়ানো হয়েছে।

মসজিদে কুবাঃ হজরত মুহাম্মদ (সা·) মদিনায় আগমন করে প্রথম শহরের প্রবেশদ্বারে কুবায় নামাজ পড়েন। পরে এখানে মসজিদ গড়ে ওঠে। কুবায় এসে আপনি দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারেন। মদিনায় আরও বেশি সময় পেলে দেখে আসতে পারেন খাইবার।

সময় পেলে দেখতে পারেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, কোরআন ছাপা প্রকল্প। এখানে প্রতি মিনিটে ৫০০ কোরআন ছাপা হয়।

ওহুদঃ ইসলামের দ্বিতীয় যুদ্ধ এটি। দুই মাথাওয়ালা একটি পাহাড়, দুই মাথার মাঝখানে একটু নিচুমতো-এটাই ওহুদের পাহাড়। তৃতীয় হিজরির শাওয়াল মাসে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

মসজিদে কুবা, কিবলাতাঈন, ওহুদ পাহাড়, খন্দকের পাহাড় প্রভৃতি দেখার জন্য মসজিদে নববীর বাইরে প্রবেশপথের কাছে ট্যাক্সিচালকেরা প্যাকেজের ব্যবস্থা করেন। খরচ মাত্র ১০ রিয়াল।