কোন অবস্থাতেই নামাজ ছাড়া যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম, ততক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বেন। আর দাঁড়াতে সক্ষম না হলে বসে নামাজ পড়বেন। বসে বসে রুকু-সেজদাহ আদায় করবেন। রুকুর জন্য এতটুকু ঝুঁকবেন, যেন কপাল হাঁটুর বরাবর হয়। যদি রুকু-সেজদাহ আদায় করতে অক্ষম হন, তবে ইশারায় রুকু ও সেজদাহ আদায় করবেন এবং সেজদাহর জন্য রুকুর থেকে বেশি ঝুঁকবেন। সেজদাহ করার জন্য বালিশ ইত্যাদি কোন উঁচু বস্তু রেখে তার ওপর সেজদাহ করা উত্তম নয়। সেজদাহ করতে অক্ষম হলে, ইশারা করে নিবে, বালিশের ওপর সেজদাহ করার দরকার নেই। কোন রোগীর অবস্থা যদি এরূপ হয় যে, তিনি ইচ্ছা করলে দাঁড়াতে পারেন কিন্তু তাতে তার অনেক কষ্ট হয় বা রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা প্রবল হয়, তবে তার জন্য বসে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ। কোন রোগীর অবস্থা যদি এরূপ হয় যে, তিনি দাঁড়াতে পারেন কিন্তু রুকু-সেজদাহ করতে পারেন না, তবে তিনি ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বেন এবং ইশারা দ্বারা রুকু-সেজদাহ আদায় করবেন অথবা বসে নামাজ পড়বেন এবং বসে বসে ইশারা দ্বারা রুকু-সেজদাহ আদায় করবেন, উভয়টাই তার জন্য জায়েজ। অবশ্য এ অবস্থায় ইশারা করে নামাজ পড়াই উত্তম। রোগীর যদি বসার শক্তি না থাকে, তবে বড় বালিশ ইত্যাদি পেছনে লাগিয়ে এভাবে শুইয়ে দিবেন যে, মাথা যেন বেশ উঁচু থাকে, তবে কেবলার দিকে পা বিস্তৃত করবেন না। বরং পা গুটিয়ে হাঁটু খাড়া করে রাখবেন। তারপর মাথার ইশারায় রুকু-সেজদাহ করে নামাজ আদায় করবেন, সাজ্দাহর ইশারায় মাথা বেশি নিচু করবেন। যদি বড় বালিশে হেলান দিয়ে মাথা ও সিনা উঁচু করে শুতে না পারেন, তবে কেবলার দিকে পা লম্বা করে চিত করে শুইয়ে দিবেন এবং মাথার নিচে কোন উঁচু বালিশ রেখে দিবেন, যেন মুখমণ্ডল আসমানমুখী না হয়ে কেবলামুখী হয়ে যায়। তারপর ইশারায় রুকু-সেজদাহ করে নামাজ পড়বেন। রুকুর ইশারায় মাথা একটি কম নিচু করবেন আর সেজদার ইশারায় মাথা একটু বেশি নিচু করবেন। কেউ যদি চিত হয়ে না শুয়ে ডান বা বাম কাতে শোন এবং কেবলার দিকে মুখ করে মাথার ইশারায় রুকু-সেজদা আদায় করে নামাজ আদায় করেন, তবে তাও জায়েজ। কিন্তু চিত হয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করা অতি উত্তম। (আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)
*************************
বেহেশতি জেওর অবলম্বনে-
রেজিয়া বেগম
যুগান্তর, ১৪ মার্চ ২০০৮