- Home
- ইসলাম ও বিজ্ঞান
- কন্যাজায়া জননী ও ইসলাম
কন্যাজায়া জননী ও ইসলাম
- By Article Poster
- Published 03/19/2008
- ইসলাম ও বিজ্ঞান
-
Rating:




পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী (সাঃ)-এর জন্ম এবং ইসলাম ধর্ম আবির্ভূত হওয়ার পর সারা পৃথিবীর নারী জাতিকে সম্মানের উচ্চ শিখরে অবস্থান করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাসূলে করিম (সাঃ) নারী জাতিকে পশুর চেয়ে নিম্নস্তর থেকে উন্নীত করে পুরুষের সমপর্যায়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং নারী শুধু চার দেয়ালের মাঝে বন্দি থেকে কেবল সন্তান জন্মদান আর লালন-পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে- এমন ধারণা ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। যে কোন প্রয়োজনে পর্দা রক্ষা করে ঘরের বাইরে গমন, সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা, জিহাদে অংশগ্রহণ, উপার্জনের জন্য কাজে আত্মনিয়োগ প্রভৃতি কাজে পুরুষের মতো নারীদেরও অধিকার দেয়া হয়েছে।
রাসূলেপাক (সাঃ) বলেছেন, ‘আমি যদি কাউকে কারও ওপর প্রাধান্য দিতাম, তাহলে কন্যাসন্তানকে প্রাধান্য দিতাম পুত্র সন্তানের ওপর।’ স্বামীর সংসারে কর্ত্রী হিসেবে নারীর দায়িত্ব মহানবী (সাঃ) নিজেই নির্ধারণ করে দেন। অন্য এক হাদিসে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি তিন মেয়ে বা বোন অথবা দু’মেয়ে বা বোনকে লালন-পালন করে এবং তাদের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করে, মহান আল্লাহপাক ওই ব্যক্তিকে জান্নাত দান করবেন। পবিত্র কোরআনে নারীদের মর্যাদা স্থির করে পুরুষদের উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, ‘নারীরা তোমাদের ভূষণ, তোমরা তাদের ভূষণ। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৭)। নারীর সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক কারও সঙ্গে বিয়ে দেয়া ইসলাম সমর্থন করে না। কেননা স্বামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম নারীকে পূর্ণ অধিকার প্রদান করেছে। নবী করিম (সাঃ) বলেন, ‘বিধবা নারীর নির্দেশ ও কুমারী মেয়েকে অনুমতি ব্যতিরেকে বিয়ে দেয়া যাবে না।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম শরীফ)। মহানবী (সাঃ) নারীর অসম্মতিতে সম্পাদিত বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন।
অতএব আমাদের সমাজে নারীদের নিয়ে যে উদাসীনতা এবং নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে যে হস্তক্ষেপ তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী বিধিবিধানের প্রতি আমাদের সবারই অনুগত হওয়া উচিত। তাহলেই সমাজে নারীদের নিয়ে যে অনাচার, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা তা থেকে পুরো জাতি মুক্তি পাবে।
*************************
লুৎফুন নেছা রানী
যুগান্তর, ১৪ মার্চ ২০০৮