- Home
- ইসলাম ও বিজ্ঞান
- কন্যাসন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ)-এর অবদান
কন্যাসন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ)-এর অবদান
- By Article Poster
- Published 03/19/2008
- ইসলাম ও বিজ্ঞান
- Unrated
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে মায়ের মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে, মায়ের আঁচলে সন্তানের সুখ, মায়ের মর্যাদা জান্নাতের সমান। মহানবী (সাঃ) ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ আমাদের সবারই জানা আছে আজকের কন্যাসন্তানরাই আগামী দিনের মা। তাই নবী করিম (সাঃ) শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-গরিমায় কাজকর্মে কন্যাসন্তানকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। জ্ঞান অর্জনে
ইসলাম ছেলে সন্তান-কন্যাসন্তান উভয়কে সমান অধিকার দিয়েছে।
কন্যাসন্তান ঘরের প্রাণময় সৌন্দর্য এবং পৃথিবীতে বেহেশতের ছায়া। অথচ ইসলামের আবির্ভাবের আগে কন্যাসন্তানের অধিকার ও মর্যাদা বলতে কিছুই ছিল না। আরবের অন্ধকার যুগের লোকরা কন্যাসন্তান জন্ম দেয়াকে বিপদ ও চরম লজ্জার ব্যাপার বলে মনে করত। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আরবের সেই হৃদয়হীন নিষ্ঠুর সমাজে মানবতার দরদি নবীই সর্বপ্রথম কন্যাসন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে তাদের মর্যাদার উচ্চাসনে সমাসীন করেছিলেন। তাই মনে প্রশ্ন জাগে, কন্যাসন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল প্রবক্তা কে? অ্যান নুরাকিন বা জার্মেন গ্রিয়ার, কেটমিলে, মেরিউলস্টোন ক্রাফট, অ্যানি বেসান্ত, মারগারেট স্যাঙ্গার, বেগম রোকেয়া? না তারা নয়। কন্যাসন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যার অবদান পৃথিবীতে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, তিনি হচ্ছেন সর্বযুগের, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
ইসলাম পুত্রসন্তানের চেয়ে কন্যাসন্তানের গুরুত্ব কম দেয়নি। এক হাদিসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘আমি যদি কাউকে কারও ওপর প্রাধান্য দিতাম, তাহলে কন্যাসন্তানকে প্রাধান্য দিতাম পুত্রসন্তানের ওপর।’ অন্যত্র রাসূল পাক (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তিন মেয়ে বা বোন অথবা দুই মেয়ের বা বোনকে লালন-পালন করে এবং তাদের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করে আল্লাহ তাকে জান্নাত দেবেন।’ তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি কন্যাসন্তানকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করল সে কেয়ামতের দিন এ অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, আমি ও সে এরূপ একত্রে থাকব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাঁর আঙুলগুলো মিলিয়ে দেখালেন। (মুসলিম শরীফ)। ‘যে ব্যক্তি কন্যাসন্তানদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করবে তারা তার জন্য জাহান্নামের অগ্নি থেকে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।’ (বুখারি, মুসলিম)।
হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, এক দরিদ্র মহিলা দুই কন্যাসহ আমার কাছে এলো। আমি তাদের তিনটি খেজুর দিলাম। সে তার মেয়ে দুটিকে একটি করে খেজুর দিল এবং একটি খেজুর নিজে খাওয়ার জন্য মুখের দিকে তুলল। কিন্তু এটিও তার মেয়েরা খেতে চাইল। ফলে যে খেজুরটি নিজে খাওয়ার ইচ্ছা করেছিল তাও দু’ভাগ করে মেয়েদের দিল। ব্যাপারটি আমাকে বিস্মিত করল। ঘটনাটি আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম। তিনি বললেন, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য বেহেশত নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (বুখারি, মুসলিম শরীফ)।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে মায়ের মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে, মায়ের আঁচলে সন্তানের সুখ, মায়ের মর্যাদা জান্নাতের সমান। মহানবী (সাঃ) ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ আমাদের সবারই জানা আছে আজকের কন্যাসন্তানরাই আগামী দিনের মা। তাই নবী করিম (সাঃ) শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-গরিমায়, কাজকর্মে কন্যাসন্তানকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। জ্ঞান অর্জনে ইসলাম ছেলে সন্তান-কন্যাসন্তান উভয়কে সমান অধিকার দিয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর ওপর ফরজ।’
বিয়েশাদীর ব্যাপারেও ইসলাম অপছন্দনীয় কোন ছেলেকে স্বামী হিসেবে কন্যার ওপর চাপিয়ে না দেয়ার জন্য বলেছেন। বরের মতো কনেরও স্বামী পছন্দ করার অধিকার আছে। যৌতুক দাবি করার বিধান ইসলামে নেই। নারী মুক্তির পথিকৃৎ হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কন্যাসন্তানকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা না করার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কন্যাসন্তানের (কুমারীর) সম্মতি ছাড়া তার বিয়ে হতে পারে না।’ (বুখারি, মুসলিম) ইসলামই কন্যাসন্তানকে পিতার সম্পত্তিতে হকদার করেছেন, পারিবারিক, সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়ে সোচ্চার হতে বলেছেন, কন্যাসন্তানকে সতী-সাধ্বী ও খোদার যোগ্য প্রতিনিধি হওয়ার দীক্ষা দিয়েছে।
সোনা-রূপা, মণি-মুক্তা, টাকা-পয়সা, জায়গা-জমি, বাড়ি-গাড়ি নয় বরং যে কোন পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত বুদ্ধিমান কন্যাসন্তান, যে হবে আগামী দিনের একজন ভালো ‘মা’। যার জ্ঞানের আলোর ছটায় ধন্য হবে সংসার, ধন্য হবে জাতি।
আসুন, মহানবীর শিক্ষা ও আদর্শের আলো গ্রহণ করি। কন্যাসন্তানদের ন্যায্য অধিকার দিয়ে যোগ্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করি। কন্যাসন্তানদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলি। তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়ে সামনে অগ্রসরের পথ তৈরি করে দেই। মহানবী (সাঃ) যেমন নিজ কন্যা মা ফাতিমাকে ‘আমার কলিজার টুকরা’ বলে সম্বোধন করেছেন, তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি বাবা-মা তার কন্যাসন্তানকে ‘কলিজার টুকরা’ হিসেবে গ্রহণ করে তার সব অধিকার নিশ্চিত করি। তাহলে শান্তির সুবাতাস বইবে পৃথিবীর ঘরে ঘরে।
*************************
মোশারেফ হোসেন পাটওয়ারী
যুগান্তর, ১৪ মার্চ ২০০৮