Islamic Article Archive

Recent News

View News Archive

Recent Articles

জীবনযাপনে মধ্যপন্থা অবলম্বনই প্রশংসনীয়। মধ্যপন্থা বলতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থাকে বুঝায় যা চরমপন্থার বিপরীত। নিক্তির এক পাত্রে বাটখারা এবং অপর পাত্রে পণ্য বোঝাই করার পর নিক্তির কাঁটা ঠিক সোজা অবস্থানে এলে এই অবস্থাকেই ভারসাম্য বলা হয়। এক দিক থেকে অপর দিকে কমবেশি হলে ভারসাম্যহীনতা। মানবজীবনের নিক্তির কাঁটাও তদ্রূপ। যেকোনো এক দিকের প্রতি বেশি বা কম গুরুত্ব প্রদান করলে মধ্যম বা কেন্দ্রীয় অবস্থান নষ্ট হয়। কুরআন মজিদে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ধর্ম ও প্রগতির মধ্যে কোন বিরোধিতার প্রশ্ন আসে না। কারণ মহানস্রষ্টা ধর্ম প্রবর্তন করেছেন মানুষের কল্যাণ, প্রগতি, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই ধর্মকে প্রগতির প্রতিপক্ষ ও বাধা মনে করে। কারণ ধর্মকে তারা সেকেলে মনে করেন। কিন্তু এখানে ধর্ম বলতে আমি ইসলামকে বুঝাতে চাচ্ছি। এখানে পবিত্র কোরআনে সমৃদ্ধি ও প্রগতির জন্য মানব জাতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন-কোরআনে ২ নম্বর সূরার ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনি সেই মহান পরাক্রমশালী যিনি তোমাদের (মানুষের) কল্যাণ ও প্রগতির জন্য সব কিছু সৃষ্টি করেছেন”। কিন্তু মানুষের দায়িত্ব হলো অধিক প্রচেষ্টা ও গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করা। যাতে মানুষ সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং মানুষের সার্বজনীন সম্প্রীতি ও শান্তি বিরাজ করে।
আল্লাহ্‌তায়ালার অপরূপ কুদরতের বিচিত্র নিদর্শনস্বরূপ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় গাছপালার উল্লেখ রয়েছে। এরশাদ হচ্ছে- তিনি (আল্লাহ) তোমাদের বৃক্ষ থেকে আগুন উৎপাদন করে দিয়েছেন তা থেকে তোমরা আগুন জ্বালিয়ে থাক, সে সম্বন্ধে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? গাছপালা, উদ্ভিদরাজি যে মহান আল্লাহ্‌তায়ালার একটি বড় নেয়ামত সে সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে-মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমি প্রচুর বারি বর্ষণ করি। অতঃপর আমি ভূমিকে ভালভাবে বিদীর্ণ করে তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙ্গুর, শাক-সবজি, জায়তুন (তেল), খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিস্ট উদ্যান, ফলমূল এবং গবাদিপশুর খাদ্য। এটা (আমি করি) তোমাদের ও গবাদিপশুর ভোগের জন্য। (সূরা আবাসাঃ ২৪-৩২)। আরও এরশাদ হচ্ছে তাদের জন্য একটি নিদর্শন হচ্ছে মৃত ধরিত্রী, যাকে আমি জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য যা তারা ভক্ষণ করে। তাতে আমি উৎপন্ন করি খেজুর ও আঙ্গুরের উদ্যান এবং এতে আমি উৎসারিত করি প্রসবণ যাতে তারা এর ফলমূল ভক্ষণ করতে পারে। এগুলো তো তাদের হাতে সৃষ্টি নয়। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না? (সূরা ইয়াসিনঃ ৩৩-৩৫)।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টিকূলের শ্রেষ্ঠ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ যেহেতু মানুষকে সেরা হিসাবে সৃষ্টি করেছেন সেহেতু মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ শ্রেষ্ঠরূপে পৃথিবীতে আসে ঠিকই তবে এই শ্রেষ্ঠত্ব টিকে থাকে তার কৃতকর্মের উপর।
আসছে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হবে। এ ব্যয় বরাদ্দের বিষয়টি নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরপর দুই বার ব্যয় বরাদ্দের বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করছে। এর আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এবারই কোনো ব্যয় বরাদ্দ প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে না। এ-ই প্রথম কোনো ব্যয় বরাদ্দের আকার লাখ থেকে কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। যে অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এ বছরই বাজেট যখন ঘোষিত হচ্ছে, তখন দেশে বিরাজ করছে স্মরণকালের মধ্যে সর্বাধিক দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রেকর্ড পরিমাণ ডাবল ডিজিট মুদ্রাস্ফীতি।
গাছ মানুষের বন্ধু এবং বিশ্ব প্রভুর অনন্য নিয়ামত। সবুজ শ্যামল নৈসর্গিক পৃথিবী বিনির্মাণে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় ঝুঁকিহীন নিরাপদ বিনিয়োগে ও প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনপূর্বক পর্যটন শিল্পের বিকাশে গাছ আজ আমাদের জীবনসঙ্গী। মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে, মানুষের নান্দনিক চেতনাকে শানিত করতে এবং আরণ্যকে প্রকৃতির মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের নিমিত্তে পৃথিবীতে গাছের জন্ম।
আমরা একসময় ছিলাম না, এখন আছি আর হয়তো কিছুদিন পর থাকব না এ পৃথিবীতে। মৃত্যুর আগমনে বিদায় জানাতে হবে সুন্দর এ ধরাধামকে। একটু কি ভেবেছি সে কথা? আমার বাবা ছিলেন, বাবার বাবা ছিলেন, ছিলেন দাদার বাবাও। তারা আজ আর কেউ নেই। আমিও একদিন থাকব না, চলে যাব। চলে আমাকে যেতেই হবে। কিন্তু ওপারের খেয়া পারাপারের কি সামান তৈরি করেছি। সঙ্গে কি কিছু নিয়ে যাচ্ছি জান্নাত লাভের আশায়? নবী মুহাম্মদ (সা•) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেহ পাঁচ ওযাক্ত নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে আয়তুল কুরসি পাঠ করবেন তার আর জান্নাতের মাঝে ব্যবধান থাকল মৃত্যু। অর্থাৎ মৃত্যু হলেই তিনি জান্নাতে যাবেন।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ জীবনযাপন ছাড়া একাকী জীবন কারো কাম্য নয়। আবার পরিচিত সমাজের বাইরেও মানুষের পক্ষে চলা খুবই কঠিন। পৃথিবীর সমাজবদ্ধ কোনো মানুষই সামাজিক বিপর্যয় কামনা করতে পারেন না। মানুষ সব সময় সুখ ও শান্তি চায়। শান্তি মানুষের একটি আরাধ্য বিষয়। কিন্তু এই প্রত্যাশিত সুখ-শান্তি নির্ভর করে সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র­ এসব পার্থক্যই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের পারস্পরিক পরিচয়ের জন্যই এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতে এরশাদ করেছেন, ‘আমি মানুষকে বংশে গোত্রে বিভক্ত করে (ধনী ও দরিদ্র) সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করতে পারে।’
বিচিত্র এ জগৎ তারচেয়েও বিচিত্র এ জগতের মানুষ, প্রাণিকুল ও জীবজন্তু। আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি মানুষ। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত- সৃষ্টির সেরা। বিভিন্ন বর্ণ, ধর্ম এবং গোত্রের মানুষ ও জীবজন্তুর দ্বারা এ জগৎ পরিপূর্ণ।
ঘুর্ণিঝড় অধিকাংশ সময় অনেক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ। আমাদের দেশে প্রতিবছর ঘুর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। মাঝে মাঝে তা ব্যাপক ধ্বংস, অনিষ্ট ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ঘুর্ণিঝড়ের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে নানা শ্রেণীতে একে ভাগ করেছেন। কিছুদিন আগে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আমাদের উপকুলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংস বয়ে আনে। অতিসম্প্রতি মিয়ানমারে লক্ষাধিক লোকের প্রাণ সংহার হয়েছে ‘নার্গিস’ নামের এ ঘুর্ণিঝড়ের দ্বারা। প্রকৃতপক্ষে ঘুর্ণিবায়ু প্রবল হয়ে প্রবাহিত হলে তখন তাকে ঘুর্ণিঝড় বলে।
No articles found.


No popular authors found.
No popular articles found.