Islamic Article Archive

Article Poster

(Page 2 of 32)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »

 Articles by this Author

হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান ও মান বর্ণনা করা পৃথিবীতে কারও পক্ষে সম্ভব নয়। নবীজীর শান বা প্রশংসা বর্ণনা করা আমাদের পক্ষেও সম্ভব নয়। তবুও আল্লাহ বড়ই পছন্দ করেন নবীর প্রশংসা। নবীজীর প্রশংসায় আল্লাহপাক খুশি হন। হজরত নূর নবী (সাঃ)-কে সৃষ্টি না করলে আল্লাহতায়ালা কিছুই সৃষ্টি করতেন না।
আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর আগে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার লক্ষ্যে বহু বিবর্তন, পরিবর্তন এবং রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এ পৃথিবীতে মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন সুখ-শান্তির জন্য রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মতান্তরে ২, ৪, ৭, ৮ ও ৯ তারিখে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে পাঠান এবং এ মাসের ১২ তারিখেই তিনি তিরোধান লাভ করেন। কাজেই বিশ্ব মুসলিমবাসীর কাছে এ মহান দিবসটি অতীব তাৎপর্যবহ ও মরতবাপূর্ণ।
নারী জাতি আল্লাহ্‌তায়ালার এক অনন্য সৃষ্টি। নারীরা নারীত্বের মহিমায় তাদের ত্যাগ, মহানুভবতা, কোমলতা, ক্ষমার দ্যুতি ছড়িয়ে বিশ্বকে যে নির্মলতা উপহার দিয়ে চলেছেন তার জন্য সকল মানব জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আল্লাহ্‌ রহমানুর রাহিম তাঁর গুণবাচক নামসমূহের প্রভাবে নারীকে যে সুন্দর গুণাবলী দান করেছেন তা নারীদের আচরণগত বৈশিষ্টে জলজলায়মান। নারীরা হন দয়াশীলা। পরিবারে ও সমাজে তারা হন শান্তির কেন্দ্রবিন্দু।
এই পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার (মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার) নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদেরকে পাঠিয়েছেন নির্দিষ্ট জনপদে, যার যার কওমের হেদায়েতের জন্য। কিন্তু আল্লাহ আমাদের প্রিয় নবী, সরওয়ারে কায়েনাত, সাইয়েদুল মুরসালীন, খাতেমুন্নাবীন, হযরত মোহম্মদ (সাঃ) কে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন রাহমাতুল্লিল আলামীন হিসাবে, সারা বিশ্বের কল্যাণের জন্য, সকল মানুষ ও সকল প্রাণীর কল্যাণের জন্য এবং সর্বকালের জন্য।
পৃথিবীর মাটি ধন্য হয়েছিল প্রথম মানব হজরত আদমের (আ.) পুণ্য পদস্পর্শে। কেননা যাঁদের জন্য এ পৃথিবীর সৃষ্টি, সেই মানবজাতির প্রথম পুরুষ ছিলেন হজরত আদম (আ.)। এতদসঙ্গে তিনি ছিলেন প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত মহামানবদেরও প্রথম ব্যক্তিত্ব।
যে কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে যে অর্থসম্পদ মহিলারা উপার্জন করবেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে যে অর্থসম্পদের অধিকারী হবেন তাতে ইসলাম তাকে দিয়েছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। তবে,এ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৎলোকের (পিতা, ভাই, স্বামী) পরামর্শ গ্রহণের জন্যও ইসলাম তাগিদ দিয়েছে। ইসলামী আইনে নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদার অধিকারী করেছে। অর্থাৎ ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনরূপ তারতম্য নেই। শিক্ষা গ্রহণ করাকে প্রত্যেক নারীর জন্যও ফরজ করা হয়েছে।
আলকুরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একজন ব্যাক্তির উপর নাযিল হয়েছে যার কোন অক্ষরজ্ঞান ছিল না। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করেই এমনটি এই জন্য করেছেন যাতে প্রমাণিত হয় যে, এ গ্রন্থটি এমন চমকপ্রদ আলংকারিক ভাষা ও শৈলী বহন করে যা কোন নিরক্ষর লোকের ব্যক্তিগত ভাষা হতে পারে না।
হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বল্লেন, তারপরও তোমার মা। ঐ ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করল, তারপর? হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এইবারও বল্লেন তোমার মা। ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, তারপর? হযরত মুহাম্মদ সোয়াল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এইবার বললেন, তারপর তোমার পিতা।” এই হাদীছ থেকে এটাই বোঝা যায় যে, আল্লাহ্‌তায়ালা পিতার চাইতেও মায়ের হক্ক এবং মর্যাদাকে কত উচ্চ পর্যায়ে স্থান দিয়েছেন।
সমসাময়িক বিশ্ব-ঘটনাবলির দিকে যে-ই তাকাবে সে-ই লক্ষ করবে যে, পেশিশক্তির ওপরে যুক্তির প্রাধান্য বিরাজ করছে না, আমাদের মূল্যবোধ ইতোমধ্যেই ক্ষয় পেতে শুরু করেছে, আর আমাদের এমন কোনো নেতা নেই যার ওপর আমরা ভরসা করতে পারি। আমরা একটি সঙ্কটের মধ্যে আছি।
আত্মা দেহের সমন্বয়ে মানুষ। দেহ সম্পর্কে জানা যায় ও উপলব্ধি করা যায়। আত্মা সম্পর্কে আল কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছেঃ ‘আত্মা তোমার প্রতিপালকের একটি ‘হুকুম’ এবং এ সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানই তোমাদের দেয়া হয়েছে (১৭:৮৫)। আরবিতে রূহ ও নফস্‌ এ দু’টি শব্দই আত্মার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। নফস্‌ ব্যাপক অর্থ প্রদান করে, তাই এর পরিচয় ও কর্মতৎপরতা বেশ বিস্তৃত। সব কিছুই আল্লাহতায়ালার হুকুমে হয় আর রূহ আল্লাহতায়ালার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হুকুম। আল্লাহতায়ালা তাঁর এ ‘হুকুম’ দান করেননি। তার অন্যান্য সৃষ্টিকে মানুষের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হওয়ার এটিও একটি কারণ।


No popular authors found.
No popular articles found.