Islamic Article Archive

ইসলাম ও নারী

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
করুণাময় আল্লাহতায়ালা নারী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন মানব সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কোন পুরুষের পক্ষে যেমন নারীর বিশেষ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়, তেমনি নারীর পক্ষেও পুরুষের কঠিন কার্যাবলী আনজাম দেয়া সম্ভব নয়। নারী জাতির প্রথম কর্মক্ষেত্র বিশেষ করে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, দুগ্ধপান, শিশু প্রতিপালন ইত্যাদি। প্রতিটি স্তর নারীকে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়। এরপর মুসলমান নারীদের বিদ্যা অর্জন শেষে তাদের রূপ-যৌবন আবৃত করে, শালীনতা বজায় রেখে প্রয়োজনবোধে রুজি-রোজগার, বাইরে চলাফেরা করা আল্লাহর বিধানে কোন নিষেধ নেই।
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন স্যার! উত্তরঃ ওয়ালাইকুমস সালাম ওয়ারহ’মাতুল্লাহ। প্রশ্নঃ আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ‘ইসলামও ও নারী অধিকার’। বিষয়টি একটু বিশেস্নষণ করবেন কি?
সংসার সুখের হয় নারীর গুণে- নারী হচ্ছে ফুল। নারী স্বপ্ন, নারী আশা, নারীদের নিয়ে হৃদয়ের সব ভালোবাসা। একজন নারী পুষ্পকলির মতো করে সাজাতে পারে নিজের জীবন। আয়নার মতো পরিষ্কার করে গোছাতে পারে জীবনের সংসার। নববী ইলমের পরশে কোরআনের আলোর ফোকাসে ধন্য হয় নারী। সফল হয় নারীজীবন। সুন্দর হয় জীবনের পথচলা।
অস্বীকার করার উপায় নেই সমাজে বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হয়ে আছে নারীরা দীর্ঘকাল থেকেই। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের বেড়াজালে পঙ্গুপ্রায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের জীবন। পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট আচরণ হয়েছে তাদের সঙ্গে। এমনকি কোনো কোনো দার্শনিক প্রশ্ন তুলেছেন নারীরা মনুষ্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত কি না? বিভিন্ন প্রাচীন ও বৈদিক ধর্মে নানাভাবে তীব্র বৈষম্যের শিকার হয়েছে তারা। পরস্পর বিরোধী দুই প্রান্তিকতার মাঝে আজ সময় এসেছে চিন্তা করার। নারী ও পুরুষ এই যে মনুষ্য প্রজাতির দু’টো সমান্তরাল বহমান ধারা, এদের পারস্পরিক সম্পর্কটা কি দ্বান্দ্বিক না এরা একজন আরেক জনের পরিপূরক-এই বিষয়টি চিহ্নিত করার ও নিরসনের মাঝে রয়েছে মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখার মূল সমাধান।
রবিউল আউয়াল মাস। চারদিকে আনন্দের প্লাবন। ভোরের সূর্যের আলোর সঙ্গে অন্ধকার পৃথিবীর বুকে নেমে এলো এক মানব শিশু। যে শিশুর মুখ দেখে চমকে ওঠে তৎকালীন সমাজের স্বার্থবাদীরা। তারা বুঝতে পারেন কুরাইশ বংশের এই শিশু যে সত্যি আলোর ঝলকানি। তা না হলে আজ মক্কার বুকে এতো সুবাস কেনো?
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা·) এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে আল্লাহর দেয়া বিধান তথা ইসলামের শাশ্বত বাণীকে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে পত্র মারফত ইসলামের দাওয়াত তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ে পৌঁছিয়ে ছিলেন, তার মধ্য থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পত্র অবিকল সীলমোহরসহ পত্রস্থ করা হলো।
নারী-পুরুষের ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তি পাওয়ার, ন্যায্য অধিকার পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আল্লাহপাকের পবিত্র কালাম ও রাসূলে (স·)-এর নির্দেশিত জীবন বিধান। সুতরাং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি সদস্য যখন বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র জাতির প্রচলিত নারী অধিকার নিয়ে পর্যালোচনা করবে, তখন বিশ্বমানবতার শান্তির দূত ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার মহানায়ক হজরত মুহাম্মদ (স·)-এর মতো সেও বলবে- ‘নারীর ওপর পুরুষের যেমন অধিকার রয়েছে, পুরুষের ওপরও নারীর তেমন অধিকার রয়েছে।’
এ কথা অনস্বীকার্য যে, নারীর প্রতি সদয় অথবা নিষ্ঠুর আচরণে এক জাতির সাথে আরেক জাতির এবং এক আইনের সাথে আরেক আইনের যতই পার্থক্য ও বৈপরীত্য থাকুক না কেন, ইসলামের অভ্যুদয়ের আগে নারী কখনো কোনো সমাজে তার যথাযোগ্য সামাজিক ও আইনগত মর্যাদা লাভ করেনি। সভ্যতা সমৃদ্ধ প্রাচীন গ্রিক, রোমান, পারস্য, মিসরীয়, চৈনিক, হিন্দু, ইহুদি ও খ্রিষ্ট সমাজের চিত্র ছিল এ ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন, গ্রিক সমাজে নারীরা এত ঘৃণিত ছিল যে, তাদেরকে শয়তানের নোংরা চেলাচামুণ্ডা মনে করা হতো। রোমান সাম্রাজ্যে পরিবার প্রধান নিজের সন্তানদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বিক্রি করে দিতে পারত দাসদাসীর মতো। কন্যাসন্তান হলে তো কোনো কথাই নেই।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত ‘নারী উন্নয়ন নীতি-২০০৮’-এর অধীনে নারীর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে সমান অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। (সূত্র নয়া দিগন্ত ৩ মার্চ) যদি এমনটি করা হয় তবে তা কুরআন পরিবর্তন শামিল এবং আল্লাহর আইনের সুস্পষ্ট সীমা লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। এ ধরনের উদ্ভট বিষয় বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, বরং যারা এ চিন্তা মাথায় এনেছেন, তারা আল্লাহর গজবে নিপতিত হওয়ার মতো একটি বিষয় মাথায় এনেছেন। মনে হচ্ছে এর পেছনে গভীর কারণ ষড়যন্ত্র কাজ করছে।
দাম্পত্য জীবনে প্রবেশের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারী জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন অধ্যায়ে উপনীত হয়। দাম্পত্যের আবর্তে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় প্রেম-ভালোবাসা। চাওয়া-পাওয়া ও অধিকারের বিষয়টিও সমানতালে চলতে থাকে। একজন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর যে অধিকার ও দায়দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনি একজন স্বামীর প্রতিও স্ত্রীর অধিকার ও দায়দায়িত্ব রয়েছে।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.