Islamic Article Archive

ইসলাম ও বিজ্ঞান

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
বিচিত্র এ জগৎ তারচেয়েও বিচিত্র এ জগতের মানুষ, প্রাণিকুল ও জীবজন্তু। আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি মানুষ। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত- সৃষ্টির সেরা। বিভিন্ন বর্ণ, ধর্ম এবং গোত্রের মানুষ ও জীবজন্তুর দ্বারা এ জগৎ পরিপূর্ণ।
ইসলামী জীবন ব্যবস্হা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। বর্তমান পৃথিবীর জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যে চরম উৎকর্ষ তা ইসলামেরই অবদান-এ কথা সবাই স্বীকার করছেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) জ্ঞানালোক ও সভ্যতার যে বিরাট প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করেন তা পৃথিবীকে অলংকৃত করে আসছে তার সময়কাল থেকেই।
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা পরিমিত ও সু-বিন্যস্তভাবে সৃষ্টি করে ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। তিনি জমিনকে বিছানা এবং পর্বতরাজিকে পেরেকস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন যাতে জমিন এ দিক সেদিক সরে গিয়ে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে (সূরা নাবাঃ ৬-৭)।
বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে বিশ্ব। মিডিয়ার ফলেই মূলত এটি সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যধিক। মিডিয়া দুই ধরনের- প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তবে দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদান এবং দৃশ্যসম্বলিত হওয়ায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রভাব একটু বেশি। আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সর্বাধুনিক ও সর্বাধিক ক্রিয়াশীল বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে ইন্টারনেট। এর দ্বারা দুনিয়ার যে-কোনো প্রান্তের কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। ইন্টারনেট হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।
মানব জীবনকে সহজ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও গতিময় করতে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞান হলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার দ্বারা লব্ধ প্রণালীবদ্ধ জ্ঞান। কোরআন ও হাদিসের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে ‘তারা কি চিন্তা করে না? তারা কি গবেষণা করে না?’ বিজ্ঞানকে ইসলাম স্বাগত জানায়। সৃষ্টির রহস্য উদ্ঘাটন ও মানব সেবার জন্য গবেষণা প্রশংসার বিষয়। উপরন্তু নেক নিয়তের জন্য প্রতিদানও মিলবে। বিজ্ঞান যত উন্নত হবে আল্লাহর কুদরতও তত প্রকাশ পাবে।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এত বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ যে, ইসলাম প্রকৃতি বা পরিবেশ সম্পর্কে মৌলিক নীতিমালা উপস্থাপন করেছে যা পৃথিবীর অন্য কোন জীবন ব্যবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রথমেই আমরা বলতে পারি আমাদের চারপাশের পরিমন্ডল, আকাশ, বাতাস, মাটি, পানি, গাছপালা ইত্যাদি যা পরিবেশ হিসাবে খ্যাত এগুলো সবই মহান স্রষ্টার অপূর্ব নিয়ামত। এ সবকিছু মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন।
দীর্ঘ জীবন লাভ মানুষের এক নিরন্তর স্বপ্ন। এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে অন্তহীন। বর্তমানে জীব-প্রযুক্তির (Bio tech) গবেষণায় দীর্ঘস্থায়ী জীবনের সূত্র বুঝতে খুঁজে ফেরা হচ্ছে আনুষঙ্গিক জীন (Gene) এবং প্রোটিন। অথচ বিশ্ব জগতের শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান কোষ আল-কোরআনে বিশ্ব স্রষ্টা পরম করুণাময় বর্ণনা করেছেন অনন্ত জীবন লাভের ভিন্ন এক পদ্ধতি। সূরা-কাহাফের ৯ থেকে ২৫ আয়াতে গুহাবাসী যুবকদের তিনশ’ নয় বছর বেঁচে থাকার অনুপূর্ব বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামিন মানব জাতির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখেছেন।
গত ২২ এপ্রিল ছিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। বিশ্বের পরিবেশ সুস্থ রাখা ও পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে এ দিনটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য জনগণকে সচেতন করতে বছরের একটি দিন বেছে নেয়া হয় ১৯৭০ সালে। সে মতে, ৩৮ বছর ধরে দিনটির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
ইসলাম মানবপ্রকৃতির সহায়ক ও উপযোগী একটি ধর্ম। মানবজীবনের সামগ্রিক দিক পূর্ণাঙ্গ ও যতাযথ আলোচিত হয়েছে ইসলামে। মানুষের জীবনের কোন প্রয়োজনই ইসলামে উহ্য নেই। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সম্পর্কেও ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কেও ইসলামে রয়েছে বিশদ আলোচনা। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সতর্কতা সত্ত্বেও কোন রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে গেলে এর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিও রয়েছে জোরালো তাগিদ।
একবার এক আলোচনার সময় আমাকে বলা হলোঃ ‘আপনি উদারপন্থি (লিবারাল) নন।’ ‘কেন নই?’ আমি জানতে চাইলাম। ‘আপনি কি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন?’ তিনি বললেন।. ‘হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি।’ ‘আপনি কি তার জন্যে প্রার্থনা করেন ও রোজা রাখেন?’ “তা করি।” ‘তাহলে আপনি উদারপন্থি নন।’
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.