Islamic Article Archive

ইসলাম ও মানবতা

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »
সমাজে বছরের পর বছর শোষণ-নির্যাতন চলতে থাকলে, মানুষের হক বা অধিকার লঙ্ঘিত হলে, সুবিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে, নৈতিকতা বা মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হলে, মানবতা বিপর্যস্ত হলে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। এ অবস্থায় মানুষ পরিত্রাণ চায়, চায় নিষ্কৃতি। ফলে সংস্কারের দাবি ওঠে, পরিবর্তনের কথা আসে, আসে ভাঙাগড়ার প্রশ্ন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাকৃতিক নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হলে অথবা কোনোভাবে তা বাধাগ্রস্ত হলে প্রকৃতি বিরূপ হয়ে পড়ে। কখনো কখনো এ কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও ঘটতে পারে। অনুরূপভাবে সমাজ বা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাদের দ্বারা সমাজে সুশাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হলে, মানুষের হক ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে, জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পেলে সমাজে জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় সমাজে অসহনীয় শ্বাসরুদ্ধকর এক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। দুঃশাসন, অবিচার, দুর্নীতির কারণে সমাজ পরিবর্তনের দাবি অনিবার্য হয়ে ওঠে।
পশ্চিমা বিশ্ব যথার্থই মানবাধিকারবাদের পথে তার সংগ্রামের জন্য গর্ববোধ করতে পারে, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে স্টোয়িকদের পর থেকে মানবাধিকারবাদের ধারণার স্ফুরণ নির্দিষ্টভাবে খ্রিষ্টীয় সভ্যতার পরিমণ্ডলেই ঘটেছে।
বিশ্ব জাহানের শান্তির অগ্রদূত আখেরি নবী (সা•) মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি আদর্শ জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করে সর্বাধিক কৃতিত্বের আসনে সমাসীন হয়েছেন। যার প্রশান্তি সর্বকালের ও সর্বযুগের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মুখে মুখে বিধৃত। নবী করিম (সা•) শ্রমিকদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘এরা তোমাদের ভাই, তোমাদের খিদমত করছে। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন।
মানব জীবনকে সহজ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও গতিময় করতে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞান হলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার দ্বারা লব্ধ প্রণালীবদ্ধ জ্ঞান। কোরআন ও হাদিসের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে ‘তারা কি চিন্তা করে না? তারা কি গবেষণা করে না?’ বিজ্ঞানকে ইসলাম স্বাগত জানায়। সৃষ্টির রহস্য উদ্ঘাটন ও মানব সেবার জন্য গবেষণা প্রশংসার বিষয়। উপরন্তু নেক নিয়তের জন্য প্রতিদানও মিলবে। বিজ্ঞান যত উন্নত হবে আল্লাহর কুদরতও তত প্রকাশ পাবে।
মানবাধিকার মানে মানুষের অধিকার। মানুষ তার সামগ্রিক জীবন পরিচালনার জন্য যেসব মৌলিক অধিকারের ওপর একান্ত নির্ভরশীল, যা ছাড়া মানুষ পৃথিবীতে চলতে বা বাঁচতে পারে না এবং নিজের প্রতিভা, গুণাবলী ও বৃত্তি প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভোগ করতে পারে না, তাই সবই মানবাধিকার। বর্তমানে এটি পৃথিবীর বহুল আলোচিত একটি বিষয়।
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর প্রতিষ্ঠিত মদিনাকেন্দ্রিক ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল একটি মৌলিক নাগরিক অধিকারপূর্ণ সাম্যের সমাজ। প্রেমের নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ-এর প্রদর্শিত জীবনব্যবস্থার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ‘প্রতীচ্য যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, প্রাচ্যের আকাশে তখন উদিত হলো এক উজ্জ্বল নক্ষত্রও এবং আর্ত পৃথিবীকে তা দিল আলো ও স্বস্তি। ইসলাম একটি মিথ্যা ধর্ম নয়। শ্রদ্ধার সাথে হিন্দুরা তা অধ্যয়ন করুক, তাহলে আমার মতোই তারা একে ভালোবাসবে।’
সবাই অধিকার আদায় করতে চায়। আর এ আদায়ের জন্যই করতে হয় কত মিটিং-মিছিল! কিন্তু এত কিছুর পরও সবাই কি বুঝে পায় আপন অধিকার? আমার আদরের বোন আলেয়া কি তার স্বামীর কাছ থেকে বুঝে পেয়েছে মোহরানা, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্হানসহ এক টুকরো শান্তিময় জীবনের নিশ্চয়তা? শিশু শ্রমিক নাহিদ, রাজীব, জুলমত আর গার্মেন্ট শ্রমিক ফারজানা আনোয়ারা কী বুঝে পেয়েছে তাদের ন্যায্য পাওনা? না। কিন্তু কেন?
প্রত্যেক নবী-রাসূল পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত আদম (আ·) কৃষিকাজ করতেন, হজরত দাউদ (আ·) বর্ম তৈরি করতেন, হজরত নূহ (আ·) কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন, হজরত ইদ্রিস (আ·) সেলাইয়ের কাজ করতেন এবং হজরত মূসা (আ·) রাখালের কাজ করতেন।
কাজের মর্যাদা মানেই ব্যক্তির মর্যাদা, শ্রমের মর্যাদা মানেই শ্রমিকের মর্যাদা এবং দেশ ও দশের মর্যাদা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে মেধা ও শ্রমের বিকল্প নেই। কাজেই শ্রমজীবী, কর্মমুখী মানুষের যেমন মর্যাদা, সম্মানবোধ রয়েছে- তেমনি তাদেরও রয়েছে দায়িত্ব, কর্তব্য, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ পরিপূর্ণ করা।
ইসলামে মানুষের অধিকারকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সৃষ্টির মধ্যে মানুষ হচ্ছে সেরা আশরাফুল মাখলুকাত, তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সুন্দরতম গঠন ও উপাদানে। প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে রাব্বুল আলামিনের প্রতিনিধি। মানুষের নিজ নিজ ক্ষেত্র ও এলাকায়। গোটা সৃষ্টিকেই তো তার অধীন করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবেশের কারণে সে হতে পারে পতিত অধমেরও অধম, তাকে এই পতন থেকে বাঁচানোর জন্য, সে যাতে তার মর্যাদার উপযোগী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সক্ষম হয় তার জন্য তার শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, মানবিক স্বাভাবিক ঠিকানার জন্য ইসলাম কতকগুলো মৌলিক অধিকার ঘোষণা করেছে। অধিকার যে বা যারা রক্ষা করবে তারা বা তাদের দিক থেকে রয়েছে দায়িত্ব ও কর্তব্য। কর্তব্যের তাগিদ থেকেই অধিকারগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.
No popular articles found.